- প্রচ্ছদ রচনা বি। দে । শ
- জানুয়ারি ৩, ২০২৬
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির মধ্যেই, একের পর এক বিষ্ফোরণে কেঁপে উঠল ভেনেজুয়েলার রাজধানী, অন্ধকারে ডুবল সামরিক ঘাঁটি সংলগ্ন এলাকা
গভীর রাত। হঠাৎই বিকট বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে উঠল ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাস। শনিবার ভোররাতে, ২ টো নাগাদ (ভারতীয় সময় সকাল সাড়ে ১১ টা) একের পর এক বিস্ফোরণ ও মাটির কাছাকাছি দিয়ে উড়ে যাওয়া উড়োজাহাজের গর্জনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে শহর জুড়ে। প্রত্যক্ষদর্শী ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, রাজধানীর দক্ষিণাংশ, একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটির কাছাকাছি এলাকা এই হামলার অভিঘাতে বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে।
এ ঘটনার সময়কাল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কয়েক দিন আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে সম্ভাব্য স্থল হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। পাশাপাশি ক্যারিবীয় অঞ্চলে ব্যাপকভাবে মার্কিন নৌ-সেনা মোতায়েন করেছে ওয়াশিংটন। ফলে এ বিস্ফোরণ ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে, তবে ভেনেজুয়েলায় কি শুরু হয়ে গেল আমেরিকার সামরিক অভিযান? আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, এদিন রাত ২টো নাগাদ প্রথম বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। প্রায় ১৫ মিনিট ধরে বিস্ফোরণ ও গম্ভীর আওয়াজ চলতে থাকে। রয়টার্স ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের খবর অনুযায়ী, অন্তত ৭টি ভয়াবহ বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে। একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত যাচাইকৃত ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, রাতের আকাশে শহরের আলোয় বিশাল বিশাল ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠছে। একটি জায়গায় কমলা আভা দেখা যায়, তার পরেই শোনা যায় ভারী বিস্ফোরণের শব্দ। শুধু কারাকাস নয়, রাজধানীর উত্তরে লা গুয়াইরা রাজ্য, মিরান্ডা রাজ্যের উপকূলবর্তী শহর হিগুয়েরোতে এবং দেশের উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকাতেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে বলে জানা যাচ্ছে।
এ পর্যন্ত ভেনেজুয়েলা সরকার বিস্ফোরণের ফলে ক্ষয়ক্ষতি কিংবা কারণ সম্পর্কে কোনো সরকারি ব্যাখ্যা দেয়নি। প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোও সরাসরি হামলার কথা স্বীকার বা অস্বীকার করেননি। তবে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ‘এই বিষয়টি হয়তো কয়েক দিনের মধ্যে আলোচনা করা যেতে পারে।’ একই সঙ্গে তিনি ফের অভিযোগ তোলেন, যুক্তরাষ্ট্র হুমকি ও শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার গণতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাত করতে চাইছে। উল্লেখ্য, গত সোমবার ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ভেনেজুয়েলার উপকূলে একটি ‘ড্রাগ বোট ডকিং এরিয়া’ ধ্বংস করেছে যুক্তরাষ্ট্র। যদিও সেটি সামরিক না সিআইএ-নেতৃত্বাধীন অভিযান, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু বলেননি তিনি। সে হামলাই ভেনেজুয়েলার মাটিতে প্রথম প্রত্যক্ষ মার্কিন আঘাত বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকেরা।
ট্রাম্প প্রশাসনের অভিযোগ, প্রেসিডেন্ট মাদুরো একটি আন্তর্জাতিক মাদক চক্র পরিচালনা করছেন। যদিও তাঁর এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে মাদুরোর পাল্টা দাবি, ভেনেজুয়েলার বিপুল তেল ভাণ্ডারের দখল নিতেই আমেরিকা চাপের রাজনীতি চালাচ্ছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড়ো তেল মজুত থাকা দেশগুলির মধ্যে ভেনেজুয়েলা এই মুহূর্তে অন্যতম। ইতিমধ্যেই ওয়াশিংটন ভেনেজুয়েলার উপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে আকাশপথ, এমনকি ভেনেজুয়েলার তেলবাহী ট্যাঙ্কার বাজেয়াপ্তও করেছে। সেপ্টেম্বর থেকে ক্যারিবীয় সাগর ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে একাধিক নৌযানে মার্কিন হামলায় অন্তত ১১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে সরকারি পরিসংখ্যান। এহেন যুদ্ধঘন প্রেক্ষাপটে কারাকাসে বিস্ফোরণের ঘটনা নতুন করে আশঙ্কা বাড়াচ্ছে। তবে কি যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার সংঘাত এবার সরাসরি যুদ্ধের পথে? তবে, এ পর্যন্ত হোয়াইট হাউস, পেন্টাগন কিংবা মার্কিন বিদেশ দপ্তর ভেনেজুয়েলায় বিস্ফোরণের ঘটনা নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে মধ্যরাতের ধারাবাহিক বিস্ফোরণ যে লাতিন আমেরিকার রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার আগুন জ্বালিয়ে দিল, তা বলাই বাহুল্য।
❤ Support Us








