- প্রচ্ছদ রচনা মা | ঠে-ম | য় | দা | নে
- অক্টোবর ১৮, ২০২৫
টাইব্রেকারে ইস্টবেঙ্গলকে হারিয়ে শিল্ড চ্যাম্পিয়ন মোহনবাগান
১২০ মিনিট দুরন্ত লড়াই। তবুও নিস্পত্তি হল না। ম্যাচ গড়াল টাইব্রেকারে। আর সেখানেই বাজিমাত। টাইব্রেকারে ইস্টবেঙ্গলকে ৫–৪ ব্যবধানে হারিয়ে আইএফএ শিল্ডে চ্যাম্পিয়ন হল মোহনবাগান। একই সঙ্গে ডুরান্ড কাপে হারের মধুর প্রতিশোধ নিল। টাইব্রেকারে জয় গুপ্তার শট বাঁচিয়ে ম্যাচের নায়ক বাগান গোলকিপার বিশাল কাইথ।
ম্যাচ শুরু থেকেই আক্রমণ প্রতিআক্রমণে জমে উঠেছিল। ৮ মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ এসেছিল মোহনবাগানের সামনে। জেসন কামিংসের থ্রু ধরে শট নিয়েছিলেন জেমি ম্যাকলারেন। পা দিয়ে আটকে দেন ইস্টবেঙ্গল গোলকিপার প্রভসুখন গিল। ২ মিনিট পর ইস্টবেঙ্গল একটা ভাল আক্রমণ তুলে নিয়ে এসেছিল। কিন্তু অফসাইডের ফাঁদে জড়িয়ে পড়েন হামিদ আহদাদ। ১৮ মিনিটে মোহনবাগান গোলকিপার বিশাল কাইথকে পরীক্ষায় ফেলে দিয়েছিলেন মহেশ সিং। তাঁর আচমকা নেওয়া বাঁপায়ের শট বাঁদিকে ঝাঁপিয়ে কোনও রকমে বাঁচান বাগান গোলকিপার।
২৫ মিনিটে আবার সুযোগ এসে গিয়েছিল মোহনবাগানের সামনে। ফাঁকায় বল পেয়ে গিয়েছিলেন সাহাল আব্দুল সামাদ। এগিয়ে এসে বিপদ সামলান প্রভসুখন। এই সময় মোহনবাগানের আক্রমণের চাপ অনেকটা বেশি ছিল মোহনবাগানের। ৩২ মিনিটে পেনাল্টিও আদায় করে নেয়। বক্সের মধ্যে সাহাল আব্দুল সামাদকে পেছন থেকে টেনে ফেলে দেন আনোয়ার আলি। রেফারি পেনাল্টির নির্দেশ দেন। জেসন কামিংস বল বারের ওপর দিয়ে উড়িয়ে দেন। মিনিট দুয়েক পরই এগিয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল। বাঁদিক থেকে বিপিন সিং বল বাড়ান মহেশকে। তিনি উঠে গিয়ে নীচু সেন্টার করেন। বল টম আলড্রেডের পায়ে লেগে হামিদ আহদাদের কাছে পৌঁছে যায়। বিনা বাধায় জালে বল পাঠিয়ে ইস্টবেঙ্গলকে এগিয়ে দেন হামিদ। ৪৩ মিনিটে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ এসেছিল হামিদের সামনে। তাঁর শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। পরের মিনিটেই সহজ সুযোগ নষ্ট করেন হামিদ। প্রথমার্ধের ইনজুরি সময়ে সমতা ফেরান আপুইয়া। লিস্টন কোলাসোর কাছ থেকে বল পেয়ে গোল লক্ষ্য করে তিনি শট নেন। বল বারে লেগে গোললাইনের ভেতরে পরে বেরিয়ে আসে। রেফারি গোলের নির্দেশ দেন। প্রথমার্ধে পল থাকে ১–১।
দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য দাপট নিয়েই শুরু করেছিল মোহনবাগান। ৫৪ মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ এসেছিল মোহনবাগানের সামনে। সুবিধাজনক জায়গায় বল পেয়ে গিয়েছিলেন কোলাসো। পরিস্থিতি সামাল দেন আনোয়ার আলি। দ্বিতীয়ার্ধে মোহনবাগান কোচ মোলিনা যেমন রবসনকে মাঠে নিয়ে আসেন, তেমনই হামিদকে বসিয়ে হিরোশিকে নামান ইস্টবেঙ্গল কোচ অস্কার ব্রুজো। একই সঙ্গে রবসনকে আটকাটে মিগেল ফিগেরাকে নামান তিনি।
৬৭ মাঠে নেমে প্রথম টাচেই প্রায় গোল করে ফেলেছিলেন হিরোশি। মিগেলের ফ্রিকিকে দুরন্ত হেড করেছিলেন। ঝাঁপিয়ে নিশ্চিত গোল বাঁচান মোহনবাগান গোলকিপার বিশাল কাইথ। ৭৭ মিনিটে সুযোগ এসেছিল মহম্মদ রশিদের সামনে। তাঁর শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ম্যাচের ইনজুরি সময়ে প্রায় জয়সূচক গোল পেয়ে গিয়েছিল মোহনবাগান। রবসনের ফ্রিকিকে হেড করেছিলেন মেহতাব সিং। কোনও রকমে বাঁচান ইস্টবেঙ্গল গোলকিপার প্রভসুখন। নির্ধারিত সময়ে ম্যাচের ফল থাকে ১–১।
অতিরিক্ত সময়ে দুই দল অবশ্য তেমন ঝুঁকি নিতে চায়নি। ফলে সেভাবে গোল মুখ খুলতে পারেনি। তার মধ্যেই ১০৪ মিনিটের মাথায় সহজ সুযোগ এসে গিয়েছিল মোহনবাগানের সামনে। রবসনের পাস ৬ গজ বক্সে পেয়েছিলেন ম্যাকলারেন। কেভিন সিবিলে ও রাকিপ পরিস্থিতি সামাল দেন। আরও দু–একবার গোলের সুযোগ তৈরি করেছিল মোহনবাগান। কাজে লাগাতে পারেনি। ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে।
টাইব্রেকারে প্রথম শটে ইস্টবেঙ্গলের হয়ে গোল করেন মিগেল। ১–১ করেন রবসন। সিবিলে গোল করে ইস্টবেঙ্গলকে ২–১ গোলে এগিয়ে দেন। মোহনবাগানের হয়ে ২–২ করেন মনবীর। মহেশর গোলে ৩–২ গোলে এগিয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল। ৩–৩ করেন লিস্টন কোলাসো। জয় গুপ্তর শট আটকে দেন বাগান গোলকিপার বিশাল কাইথ। গোল করে মোহনবাগানকে ৪–৩ ব্যবধানে এগিয়ে দেন পেত্রাতোস। হিরোশির গোলে ৪–৪ করে ইস্টবেঙ্গল। শেষ শটে গোল করে মোহনবাগানকে শিল্ডে চ্যাম্পিয়ন করেন মেহতাব সিং।
❤ Support Us








