- এই মুহূর্তে বি। দে । শ
- মে ১২, ২০২৫
আবার গভীর সংকটে কঙ্গো, ভয়াবহ বন্যায় মৃত ১০০ জনেরও বেশি
রুয়ান্ডা সমর্থিত ‘এম২৩’ বিদ্রোহীরা চলতি বছরের শুরু থেকেই গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলে হামলা চালিয়ে আসছে। ইতিমধ্যেই তিন হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে আবার বন্যা মধ্য আফ্রিকার দেশটিকে আরও সংকটজনক অবস্থার মধ্যে ফেলে দিয়েছে। কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলে ভয়াবহ বন্যায় ১০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার পর্যন্ত দক্ষিণ কিভু প্রদেশের কাসাবায় মুষলধারে বৃষ্টিপাতের ফলে বন্যার পরিস্থিতি তৈরি হয়। মুষলধারে বৃষ্টিপাতের ফলে রাতারাতি কাসাবা নদীর তীর ভেঙে যায়। তীব্র স্রোতে বড় পাথর, বড় গাছ এবং কাদা ভাসিয়ে নিয়ে যায়। তারপর হ্রদের ধারে থাকা ঘরবাড়ি ভেঙে তছনছ করে ফেলে। জলের তোড়ে প্রায় ১৫০টি বাড়ি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। ১০০ জনেরও বেশি মানুষ মারা গেছেন। ৩০ জনের মতো আহত। মৃতদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু ও বয়স্ক। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। আঞ্চলিক প্রশাসক স্যামি কালোনজি বলেছেন জানিয়েছেন, বন্যায় বিপুল পরিমানে ক্ষতি হয়েছে।
কাসাবা এলাকায় শুধু টাঙ্গানইকা হ্রদ হয়েই যাওয়া যায়। সেখানে মোবাইলের নেটওয়ার্কও নেই। যার ফলে ত্রাণ পৌঁছতে দেরি হচ্ছে। উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে। টেলিফোন পরিষেবাও বন্ধ হয়ে গিয়েছে। দক্ষিণ কিভুর প্রাদেশিক স্বাস্থ্যমন্ত্রী থিওফিল ওয়ালুলিকা মুজালিওয়া সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘সেক্টর প্রধান, গ্রাম প্রধান এবং স্থানীয় প্রধানরা, যারা স্থানীয় সরকারের সদস্য, তারা ঘটনাস্থলে আছেন। রেড ক্রসের কর্মীরাও ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন।’
কঙ্গোতে, বিশেষ করে দেশের পূর্বে গ্রেট লেকের তীরে, এই ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘন ঘনই ঘটে থাকে। কারণ বনভূমি কাটার ফলে আশেপাশের পাহাড়গুলি দুর্বল হয়ে পড়েছে। ২০২৩ সালে বন্যায় দক্ষিণ কিভু প্রদেশের কিভু হ্রদের তীরে অবস্থিত বেশ কয়েকটি সম্প্রদায়ের ৪০০ জন মারা গিয়েছিল। এপ্রিলেও রাজধানী কিনশাসায় বন্যায় ৩৩ জন মারা গিয়েছিল ।
কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলে সরকারি সেনা এবং বিদ্রোহীদের মধ্যে কয়েক দশক ধরে লড়াই চলছে, যা এবছর জানুয়ারির শেষের দিকে আরও তীব্র আকার ধারণ করে। রুয়ান্ডা সমর্থিত এম২৩ বিদ্রোহী গোষ্ঠী দ্রুত এবং আশ্চর্যজনক আক্রমণে উত্তর কিভু রাজ্যের রাজধানী গোমা দখল করে। গোমা আক্রমণে প্রায় ৩,০০০ মানুষ নিহত এবং ২,৮৮০ জন আহত হয়। ৭০ লক্ষেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়ে। যা ইতিমধ্যেই বিশ্বের বৃহত্তম মানবিক সংকটগুলির মধ্যে একটি হিসাবে বিবেচিত।
❤ Support Us







