Advertisement
  • প্রচ্ছদ রচনা বি। দে । শ
  • মার্চ ২৮, ২০২৫

মায়ানমার ও থাইল্যান্ডে ভয়াবহ ভূমিকম্প, নিহত কমপক্ষে ৩৯। বিপুল ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা ব্যাংককে, জরুরি অবস্থার ঘোষণা

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
মায়ানমার ও থাইল্যান্ডে ভয়াবহ ভূমিকম্প, নিহত কমপক্ষে ৩৯। বিপুল ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা ব্যাংককে, জরুরি অবস্থার ঘোষণা

প্রবল ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে মায়ানমার, থাইল্যান্ড-সহ পার্শ্ববর্তী দেশগুলো। শুক্রবার দুপুরে ৭.৭ মাত্রার ভয়াবহ কম্পন হয়, এরপর উৎপত্তিস্থল থেকে ২০ কিমি দূরে আরেকটি ৬.৪ মাত্রার ভূমিকম্পের সৃষ্টি হয়। জোড়া ভূমিকম্পে বিপুল ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। মায়ানমায়ের মান্দালয় শহরে একাধিক বহুতল ভেঙে পড়েছে। সেখানে একটি মসজিদ ভেঙে পড়েছে। তাঁর নিচে চাপা পড়ে কমপক্ষে ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। ভেঙে পড়েছে বিখ্যাত আভা সেতু। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, মায়ানমারে মোট নিহতের সংখ্যা এ পর্যন্ত ৩৯ জন, আহত হয়েছেন শতাধীক।

মায়ানমারের পাশাপাশি থাইল্যান্ডে প্রবল ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। ব্যাংককে একটি নির্মাণাধীন ৩০ তলা ভবন ধসে পড়েছে। বহু শ্রমিক আটকা পড়েছেন। থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই ঘটনায় এখনো পর্যন্ত ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে, নিখোঁজ রয়েছেন ৮১ জন। ভূমিকম্পের পর বন্ধ রয়েছে ব্যাংককের ট্রেন ও মেট্রো পরিষেবা। । জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা দল ও প্রশাসন উদ্ধারকার্যে নেমেছে। ভূমিকম্পের কারণে সেখানে জরুরী অবস্থার ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়াও চিনের ইউনান প্রদেশ, বাংলাদেশের ঢাকা ও চট্টগ্রাম, ভারতের মণিপুরের ইম্ফল, মেঘালরের গারো পাহাড়, কলকাতাসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় কম্পন অনুভূত হয়েছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ জানিয়েছে, ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পটি মায়ানমারের সাগাইং শহরের উত্তর-পশ্চিমে ঘটেছে। এলাকাটি রাজধানী নেপিডো থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার উত্তরে, ব্যাংককের থেকে যার দূরত্ব প্রায় ৯০০ কিলোমিটার। কম্পনের মাত্রা এতোটাই বেশি ছিল যে, বাংককেও প্রবল ঝাঁকুনি টের পাওয়া গেছে। কিছু সময় পর সেখানে ৬.৪ মাত্রার আফটারশকও অনুভূত হয়। এরপরেও বেশকয়েকটি আফটারশকের সম্ভাবনা রয়েছে। মায়ানমারের রাজধানী নেপিডোর হাসপাতালে আহতদের ভিড় আর যন্ত্রণার আর্তনাদ। কেউ আবার হতবিহ্বল অবস্থায় বসে ছিলেন। প্রাথমিক চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া হলেও, পরবর্তী চিকিৎসার জন্য আহতদের অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কারণ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের একটা অংশ কম্পনে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একাধিক অ্যামুলেন্স ধবংস্তুপে চাপা পড়েছে। ভেঙে পড়েছে সে দেশের জাতীয় জাদুঘরের কিছুটা অংশ। নেপিডো শহরের একাধিক রাস্তা অবরুদ্ধ হয়ে আছে। সে দেশের জান্তা সরকার আন্তর্জাতিক সাহায্যের জন্য আবেদন করেছে। ভূমিকম্পের প্রাথমিক রেশ কাটার পর ৬ টি অঞ্চলে জরুরি অবস্থার ঘোষণা করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২০ বছরে মায়ানমারে এত তীব্র ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটেনি। ১৯৩০ থেকে ১৯৫৬ সালের মধ্যে ৭ মাত্রার ৬টি ভূমিকম্প হয়েছিল সাগাইং ফল্ট অঞ্চলে। সর্বশেষ, ২০০৯ সালের ১১ আগস্টে সেখানে ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছিল। এছাড়া, ২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর ৯.১ থেকে ৯.৩ মাত্রার ভূমিকম্পও ঘটে, যার প্রভাব ইন্দোনেশিয়াতেও ছড়িয়ে পড়েছিল। ২ টি ভূমিকম্পই কোকো আইল্যান্ড থেকে উৎপন্ন হয়েছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, মায়ানমারের সেন্ট্রাল বেসিনে একটি ফল্ট বা চ্যুতি রয়েছে, যার নাম ‘সাগাইং ফল্ট’। এটি শান মালভূমি ও সেন্ট্রাল মায়ানমার বেসিনের মধ্যবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত। এবার এখান থেকেই এই ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়েছে। এই অঞ্চলটি অত্যন্ত ভূমিকম্পপ্রবণ বলে পরিচিত।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!