Advertisement
  • প্রচ্ছদ রচনা মা | ঠে-ম | য় | দা | নে
  • অক্টোবর ২২, ২০২২

মধুর প্রতিশোধ কিউয়িদের, প্রথম ম্যাচেই হার গতবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়ার

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
মধুর প্রতিশোধ কিউয়িদের, প্রথম ম্যাচেই হার গতবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়ার

কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে ভারত–পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই শীতল। মাঠের মধ্যেও যার প্রভাব পড়ে। দুই দেশের লড়াই অন্য উচ্চতায় পৌঁছে যায়। অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে সম্পর্কটাও অনেকটাই ভারত–পাকিস্তানের মতো। এই দুই দেশের মধ্যে বৈরিতার কারণও সেই এক টুকরো ভূখন্ড, তাসমানিয়া। সেই রাজনৈতিক টানাপোড়েনের প্রভাব পড়ে বাইশ গজেও। গত বছর টি২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হার মেনে নিতে পারেননি কেন উইলিয়ামসনরা। ভেতরে ভেতরে ফুঁসছিলেন জবাব দেওয়ার জন্য। ২০২২ টি২০ বিশ্বকাপে সুপার ১২–র প্রথম ম্যাচেই মধুর প্রতিশোধ নিউজিল্যান্ডের। অন্যতম ফেবারিট অস্ট্রেলিয়াকে ৮৯ রানে গুড়িয়ে কিউয়িরা বুঝিয়ে দিল যে কোনও দলকে বেগ দেওয়ার জন্য তৈরি। নিউজিল্যান্ডের জয়ের নায়ক ডেভন কনওয়ে। ৫৮ বলে ৯২ রান করে তিনি অপরাজিত থাকেন।

সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে এদিন টস জিতে নিউজিল্যান্ডকে প্রথমে ব্যাট করতে পাঠিয়েছিলেন অসি অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ। দারুণ শুরু করেছিলেন দুই কিউয়ি ওপেনার ফিন অ্যালেন ও ডেভন কনওয়ে। মিচেল স্টার্কের প্রথম ওভারেই দুটি ৪ ও একটা ৬–য়ের সাহায্যে ১৪ রান তুলে নেন অ্যালেন। হ্যাজেলউডের পরের ওভারে ওঠে ১৫। তৃতীয় ওভারে কামিন্সকে আক্রমণে নিয়ে আসেন ফিঞ্চ। অ্যালেনের ধোলাইয়ের হাত থেকে রক্ষা পাননি কামিন্সও। কামিন্স ওই ওভারে দেন ১৭। ৪ ওভারে নিউজিল্যান্ড তোলে ৪৬। পঞ্চম ওভারের প্রথম বলে ধাক্কা খায় কিউয়িরা। হ্যাজেলউডের ইয়র্কারে বোল্ড হন অ্যালেন (‌১৬ বলে ৪২)‌। পাওয়ার প্লে–র ৬ ওভারে নিউজিল্যান্ড তোলে ৬৫/‌১।
অ্যালেন আউট হলেও নিউজিল্যান্ডের রানের গতি কমেনি। অ্যাডাম জাম্পা, মার্কাস স্টয়নিসদের আক্রমণে নিয়ে এসেও কাজ হয়নি। অ্যালেনের আউট হওয়ার পর কনওয়ে দায়িত্ব নেন দলকে এদিয়ে নিয়ে যাওয়ার। ১০.‌১ ওভারে ১০০ রানে পৌঁছে যায় নিউজিল্যান্ড। জাম্পাকে ৬ মেরে ৩৬ বলে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন কনওয়ে। দ্বাদশ ওভারে অ্যাডাম জাম্পার শেষ বলে এলবি ডব্লিউ হন কেন উইলিয়ামসন। ২৩ বলে ২৩ রান করেন তিনি। গ্লেন ফিলিপ (‌১০ বলে ১২) রান না পেলেও ডেভন কনওয়ের দুরন্ত ব্যাটিং নিউজিল্যান্ডকে ২০০/‌৩ রানে পৌঁছে দেয়। ৫৮ বলে ৯২ রান করে কনওয়ে অপরাজিত থাকেন। তাঁর ইনিংসে রয়েছে ৭টি ৪ ও ২টি ৬। ১৩ বলে ২৬ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন জিমি নিশাম।

বড় রানের টার্গেট থাকলে শুরুটা ভাল হওয়া জরুরি। সেটাই করতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। দ্বিতীয় ওভারেই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায়। দুর্ভাগ্যের শিকার হন ডেভিড ওয়ার্নার। টিম সাউদির বল তাঁর ব্যাটের কানায় লেগে প্যাডে লাগে। আবার ব্যাট দিয়ে বল আটকাতে গেলে ব্যাটে গেলে স্টাম্পে আঘাত করে। মাত্র ৪ রান করে আউট হন ওয়ার্নার। ওয়ার্নারের আউটই চরম ধাক্কা দিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়াকে। সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি।
চতুর্থ ওভারের শেষ বলে অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চকে (‌১৩)‌ তুলে নেন স্যান্টনার। পরের ওভারেই সাউদির বলে ড্রেসিংরুমে মিচেল মার্শ (‌১৬)‌। স্যান্টনারের বলে দুর্দান্ত ক্যাচ ধরে স্টয়নিসকে (‌৭)‌ সাজঘরে ফেরান গ্লেন ফিলিপ। টিম ডেভিডও (‌১১)‌ সুবিধা করতে পারেননি। ১১ ওভারের মধ্যে ৭৪ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। ১৭.‌১ ওভারে ১১১ রানে গুটিয়ে যায় তাদের ইনিংস। নিউজিল্যান্ডের হয়ে টিম সাউদি দুর্দান্ত বোলিং করে ৬ রানে ৩ উইকেট তুলে নেন।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!