- ন | ন্দ | ন | চ | ত্ব | র
- জুন ১২, ২০২৫
নবীন পড়ুয়াদের মনমজাতে অভিনব উদ্যোগ ! শ্যামবাজারের এভি স্কুল-চত্বরে চলছে উত্তর কলকাতা বইমেলা
স্কুলপ্রাঙ্গণে বইমেলা— বিষয়টি নতুন নয়। তবু উত্তর কলকাতার প্রাণকেন্দ্র শ্যামবাজারে এভি স্কুলে নিবিড় বইমেলার উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়, যুগোপযোগী। ১৭০ বছরের প্রাচীন এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যে কেবল অতীতের ঐতিহ্য বহন করে তা-ই নয়, বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার ভবিষ্যৎ দিশা দেখাতেও যে সমান সচেষ্ট— তা আরও একবার প্রমাণ হল এই বইমেলার মাধ্যমে। বর্তমানে ছাত্রছাত্রীদের জীবন জুড়ে রয়েছে পরীক্ষার চাপ, টিউশন, আর সর্বক্ষণ সঙ্গী হয়ে উঠেছে মোবাইল ও স্ক্রিন। ফলত, বইয়ের পাতার গন্ধ আজকের কিশোর-কিশোরীদের কাছে প্রায় অপরিচিত। পাঠ্যবইয়ের বাইরে গল্প, কবিতা, উপন্যাসের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তোলার প্রবণতা ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে। এ এক নিঃশব্দ সংকট, যার মূলে রয়েছে প্রযুক্তি-নির্ভরতা ও সময়ের অভাব।
উত্তর কলকাতার শ্যামবাজারে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী স্কুলে চলতি মাসের ১০ জুন থেকে শুরু হয়েছে বইমেলা। দেবপ্রিয় ঘোষ মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে, কলকাতা ক্রিয়েটিভ পাবলিশার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং বিদ্যালয়ের প্রাক্তনী সংসদের সহযোগিতায় আয়োজিত এই মেলা যেন এক নিঃশব্দ বিপ্লবের সূচনা। ২৫টিরও বেশি নামীদামী প্রকাশনা সংস্থা, সাংস্কৃতিক দল আর খুদেদের নিজেদের স্টলে হৈচৈ আমেজ জমিয়েছে। স্টলে স্টলে সাজানো শিশুদের জন্য মনকাড়া গল্প, রঙিন ছবি, আবার প্রাপ্তবয়স্ক পাঠকের জন্য প্রবন্ধ, উপন্যাস, ইতিহাস ও সমাজচিন্তার বইয়ের ভাণ্ডার। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, এ উদ্যোগে নেতৃত্ব দিয়েছেন খোদ বিদ্যালয়ের প্রাক্তনীরাই। তাঁদের সক্রিয় অংশগ্রহণ কেবল অতীতের সঙ্গে বর্তমানের সেতুবন্ধন ঘটায়নি, নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের জন্য এক জীবন্ত অনুপ্রেরণাও হয়ে উঠেছে। বইমেলার পাশাপাশি নাচ, গান, কবিতা আবৃত্তি, কুইজ প্রতিযোগিতায় তপ্ত সময়ে একপশলা বৃষ্টির মতো সবুজ, আনন্দঘন।
ছাত্ররা তুলে ধরেছে তাদের স্কুলের ১৭০ বছরের ইতিহাস। সেখানে বই আর স্মৃতির মেলবন্ধনে তৈরি হয়েছে এক অনন্য পাঠভূমি। শুধু এভি স্কুল নয়, আশেপাশের স্কুল ও কলেজের ছাত্রছাত্রীরাও এই বইমেলায় অংশ নিচ্ছে, যা সামাজিক বিছিন্নতার ভয়াল থাবার সামনে এক দৃঢ় সংহতির প্রতীক।এভি স্কুলের প্রধান শিক্ষক, মনোরঞ্জনকুমার মুখোপাধ্যায় জানালেন, ‘উত্তর কলকাতায় এটি একটি প্রথম প্রয়াস। শুধু বইমেলাই নয়, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও রয়েছে।’ এ যেন চিন্তনের উৎস, অনুভবের মাধ্যম আর মূল্যবোধ গঠনের ভিত। পাঠ্যপুস্তকের বাইরে সাহিত্যের জগতে প্রবেশ না করলে, শিক্ষার আসল স্বাদ যে অসম্পূর্ণ থেকে যায় !
অনন্য এ বইমেলা ১০ জুন থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত প্রতিদিন চলবে, বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। বই ছাড়াও এখানে কলকাতার বিভিন্ন নামী প্রকাশক ও লিটল ম্যাগাজিনের স্টল রয়েছে। মেলার উদ্বোধনে উপস্থিত ছিলেন রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য এবং শিক্ষাবিদ পবিত্র সরকার, ছিলেন সাহিত্যিক প্রচেত গুপ্ত, অভ্র ঘোষ, ত্রিদিব চট্টোপাধ্যায়-সহ অনেকে। স্কুলের প্রাক্তনীরা জানাচ্ছেন, বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে মোবাইলের প্রতি আকর্ষণ বাড়ছে, যা বই পড়ার অভ্যাসে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তবে তাঁরা মনে করেন, মোবাইলের যুগে বই পড়ার অভ্যাসও সমান গুরুত্বপূর্ণ, আর এই বইমেলার মাধ্যমে সেই অভ্যাস তৈরি করা সম্ভব হবে। এখানে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, প্রকাশক এবং সাহিত্যিকরা মনে করছেন, এ ধরনের উদ্যোগ আরো বাড়লে ভবিষ্যতে কচিকাঁচাদের বইয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়বে, প্রকৃত মানুষ হয়ে উঠবে তাঁরা।
❤ Support Us








