- বি। দে । শ
- মার্চ ২৯, ২০২৫
নেপালে রাজতন্ত্র ফিরিয়ে আনার দাবিতে সংঘর্ষে আটক ১০০-এর বেশি বিক্ষোভকারী
নেপালে প্রাক্তন রাজা জ্ঞানেন্দ্র শাহের সমর্থকদের রাজতন্ত্র পুনর্বহালের দাবিতে বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। সংঘর্ষে ২ নিহত আর ১১২ জন আহত হয়েছেন। পুলিশ ১০৫ জন বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করেছে। বিক্ষোভের প্রধান সংগঠক দুর্গা প্রসাই পলাতক। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যে নেপালে রাজতন্ত্র-পন্থীদের আন্দোলন ক্রমশ তীব্র হচ্ছে।
নেপালে প্রাক্তন রাজা জ্ঞানেন্দ্র শাহের সমর্থকদের রাজতন্ত্র পুনর্বহালের দাবিতে বিক্ষোভ, সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। সংঘর্ষে ২ নিহত আর ১১২ জন আহত হয়েছেন। পুলিশ ১০৫ জন বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করেছে। বিক্ষোভের প্রধান সংগঠক দুর্গা প্রসাই পলাতক। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যে নেপালে রাজতন্ত্র-পন্থীদের আন্দোলন ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। শুক্রবার কাঠমান্ডুর কিছু অংশে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একটি রাজনৈতিক দলের অফিসে বিক্ষোভকারীরা পাথর ছুড়ে আক্রমণ চালায়। একাধিক গাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়, দোকান লুটপাট করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস, জলকামান, রাবার বুলেট আর বাতাসে গুলি ছোড়ে। সংঘর্ষে এক বিক্ষোভকারী পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন। নিহত হয়েছেন এক চিত্রসাংবাদিক। শুক্রবারের ঘটনায় মোট ৯ টি ভবনে ভাঙচুর ও ১৪টি ভবনে আগুন লাগিয়ে দেয় প্রতিবাদীরা। পাশাপাশি সরকারী ও বেসরকারি গাড়িতে হামলা চালানো হয়।
নেপাল সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ঘটনায় মোট ১০৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে রয়েছেন রাষ্ট্রীয় প্রজাতন্ত্র পার্টির সাধারণ সম্পাদক ধবল শুমশের রানা আর কেন্দ্রীয় সদস্য রবীন্দ্র মিশ্র। বিক্ষোভের মূল সংগঠক দুর্গা প্রসাই,বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। পুলিশের দাবি, দুর্গা প্রসাই সুরক্ষা ব্যারিকেড ভেঙে বুলেটপ্রুফ গাড়িতে পার্লামেন্ট ভবনের দিকে যাবার চেষ্টা করছিলেন। তাঁর খোঁজ চলছে, শীঘ্রই তাকে গ্রেপ্তার করা হবে। এদিন বিক্ষোভে সামিল রাজতন্ত্রপন্থীদের অভিযোগ, গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার অধীনে দেশ আরো উন্নত হওয়ার কথা ছি। কিন্তু রাজনৈতিক অস্থিরতা, দুর্নীতি আর অর্থনৈতিক স্থবিরতার কারণে জনগণের জীবনমানের উন্নতি হয় নি। ৫৫ বছর বয়সী মীনা সুবেদি বলেন, ‘গত কয়েক বছরে দেশের পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়েছে । তিনি আশা করেছিলেন যে গণতান্ত্রিক শাসনের মাধ্যমে মানুষ কর্মসংস্থান, শান্তি, নিরাপত্তা, সুশাসন পাবে। কিন্তু দুর্নীতি আর প্রশাসনিক ব্যর্থতার কারণে জনগণের মধ্যে অসন্তোষ ক্রমশ বেড়েছে।
অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলো গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা রক্ষার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, সাবেক মাওবাদী নেতা পুষ্প কমল দাহাল, যিনি প্রচণ্ড নামে পরিচিত, বলেছেন, ‘নেপালিরা অতীতে ফিরে যেতে চায় না। গণতন্ত্রপন্থী নেতারা হয়তো জনগণের প্রত্যাশা মেটাতে ব্যর্থ হয়েছেন, তবে রাজতন্ত্র পুনর্বহাল কোনো সমাধান নয়।’ তিনি আরো বলেন, এই সহিংসতার পেছনে প্রাক্তন রাজা জ্ঞানেন্দ্র শাহের ভূমিকা স্পষ্ট। সরকারকে কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা উচিত।’ বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে প্রাক্তন রাজা জ্ঞানেন্দ্র শাহ, গণতন্ত্র দিবসে একটি ভিডিও বার্তায় সমর্থকদের কাছে রাজতন্ত্র পুনর্বহালের জন্য আবেদন জানিয়েছিলেন। এরপর থেকেই রাজতন্ত্র সমর্থকরা আরো সক্রিয় হয়ে ওঠে। ৯ মার্চ তাঁরা একটি বিক্ষোভ র্যালির আয়োজন করে। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা আর ক্রমবর্ধমান বেকারত্বের কারণে বহু নেপালি যুবক মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ কোরিয়া অথবা মালয়েশিয়ার মতো দেশে কাজের সন্ধানে পাড়ি জমাচ্ছেন। জনসাধারণের মধ্যে তাই ক্ষোভ, অসন্তোষ বাড়ছে। সরকারের ব্যর্থতার কারণে, তাঁদের মনে হচ্ছে রাজতন্ত্রই ভালো ছিল।
প্রসঙ্গত, বড় ভাই রাজা বীরেন্দ্র ও তাঁর পরিবারের অধিকাংশ সদস্য হত্যাকাণ্ডে নিহত হবার পর, ২০০১ সালে জ্ঞানেন্দ্র শাহ নেপালের রাজ-সিংহাসনে বসেন। ২০০৫ সালে সংবিধান স্থগিত করে, সংসদ ভেঙে দিয়ে জ্ঞানেন্দ্র নিজেই দেশের শাসনভার গ্রহণ করেন। যার ফলে গণতান্ত্রিক আন্দোলন শুরু হয়। এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন মাওপন্থী ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো। ২০০৮ সালে বিশেষভাবে নির্বাচিত একটি পরিষদ ২৩৯ বছরের পুরনো রাজতন্ত্রের বিলুপ্তির ঘোষণা করে।রাজতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে গণপ্রজাতন্ত্রী নেপাল প্রতিষ্ঠা করা হয়। এর মাধ্যমে ১৯৯৬ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত চলা মাওবাদী বিদ্রোহের সমাপ্তি ঘটে। দীর্ঘ লড়াইয়ে প্রায় সে ১৭,০০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
❤ Support Us








