- মা | ঠে-ম | য় | দা | নে
- অক্টোবর ১১, ২০২৩
বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবথেকে বেশি রান তাড়া করে জেতার রেকর্ড গড়ল পাকিস্তান
সামনে বিশাল রানের টার্গেট। জিতলে বিশ্বকাপের ৪৮ বছরের ইতিহাসে রেকর্ড। শুরুতে চাপে পড়েও শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে রেকর্ড গড়ে দুরন্ত জয় তুলে নিল পাকিস্তান। ১০ বল বাকি থাকতে ৬ উইকেটে জয় বাবর আজমদের। পাকিস্তানের জয়ের নায়ক মহম্মদ রিজওয়ান ও আব্দুল্লা শফিক। প্রথমে ব্যাট করে শ্রীলঙ্কা তুলেছিল ৩৪৪/৯ রান। জবাবে ৪৮.২ ওভারে ৩৪৫/৪ রান তুলে ম্যাচ জিতে নেয় পাকিস্তান। একই সঙ্গে ভেঙে দিল বিশ্বকাপে আয়ারল্যান্ডের সবথেকে বেশি রান তাড়া করে জেতার রেকর্ড। ২০১১ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের তোলা ৩২৮ রান তাড়া করে ৩২৯/৭ তুলে ম্যাচ জিতেছিল আয়ারল্যান্ড।
টস জিতে এদিন প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় শ্রীলঙ্কা। দ্বিতীয় ওভারের চতুর্থ বলে কুশল পেরেরাকে (০) তুলে নেন হাসান আলি। এরপর পাকিস্তান বোলারদের ওপর জাঁকিয়ে বসেন পাথুম নিসঙ্কা ও কুশল মেন্ডিস। দুজনে ১০২ রানের পার্টনারশিপ গড়ে তোলেন। পাথুম নিসঙ্কাকে তুল নিয়ে জুটি ভাঙেন শাদাব খান। ৬১ বলে ৫১ রান করে তিনি আউট হন। জুটি ভাঙার পর মনে হচ্ছিল পাকিস্তান ঘুরে দাঁড়াবে। কিন্তু সে সুযোগ দেননি কুশল মেন্ডিস ও সাদিরা সমরাবিক্রমা।
মেন্ডিস ও সাদিরার জুটিতে ওঠে ১১১। পাকিস্তান বোলারদের ওপর রীতিমতো তান্ডব চালিয়ে ৬৫ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন কুশল মেন্ডিস। বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার হয়ে দ্রুততম সেঞ্চুরির ইনিংস। শেষ পর্যন্ত আরও আক্রমণাত্মক হতে গিয়ে হাসান আলির বলে ইমাম–উল–হকের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন কুশল মেন্ডিস। ৭৭ বলে ১২২ রান করে তিনি সাজঘরে ফেরেন। মেন্ডিসের ইনিংসে রয়েছে ১৪টি চার ও ১টা ছয়।
কুশল মেন্ডিস আউট হওয়ার পর চরিথ আসালঙ্কা (১) দ্রুত ফেরেন। রানের গতিও কমে যায়। ধনঞ্জয় ডিসিলভা (২৫), দাসুন শনাকারা (১২) রান পাননি। শ্রীলঙ্কাকে এগিয়ে নিয়ে যান সাদিরা সমরবিক্রমা। বিশ্বকাপের আসরেই জীবনের প্রথম একদিনের সেঞ্চুরি তুলে নেন। তাঁর সেঞ্চুরি আসে ৮২ বলে। শেষ পর্যন্ত ৮৯ বলে ১০৮ রান করে তিনি আউট হন। মারেন ১১টি চার ও ২টি ছয়। শেষ পর্যন্ত ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ৩৪৪ রান তোলে শ্রীলঙ্কা।
বিশাল রানের লক্ষ্য তাড়া করতে গেলে
ওপেনিং জুটি ভাল হওয়া জরুরি। ফখর জামানের পরিবর্তে এদিন প্রথম একাদশে আসেন আব্দুল্লা শফিক। ইমাম (১২) এদিনও ব্যর্থ হলে নিজেকে দারুণভাবে মেলে ধরেন শফিক। বাবর আজম (১০) আউট হওয়ার পর রিজওয়ানের সঙ্গে জুটি বেঁধে দলকে টেনে নিয়ে যান। দুজনের জুটিতে ওঠে ১৭৬ রান। ৯৭ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন শফিক। বিশ্বকাপের অভিষেক ম্যাচেই সেঞ্চুরি করে নজির গড়লেন পাকিস্তানের এই ওপেনার। ইমরান খান, জাভেদ মিয়াঁদাদ ও সেলিম মালিকের পর চতুর্থ ব্যাটার হিসেবে বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে সেঞ্চুরি করলেন। শেষ পর্যন্ত ১০৩ বলে ১১৩ রান করে শফিক আউট হন।
শফিক আউট হওয়ার পর সৌদ শাকিলকে সঙ্গে নিয়ে পাকিস্তানকে এগিয়ে নিয়ে যান মহম্মদ রিজওয়ান। ৯৭ বলে তিনি সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। ৩০ বলে ৩১ রান করে আউট হন শাকিল। শাকিল আউট হলেও পাকিস্তানকে চাপে পড়তে দেননি রিজওয়ান ও ইফতিখার। পাথিরানার এক ওভারে পরপর তিনটি চার মেরে দলের জয় নিশ্চিত করে দেন ইফতিখার। ১০ বল বাকি থাকতে ৩৪৮/৪ তুলে ম্যাচ জিতে নেয় পাকিস্তান। দুরন্ত ব্যাটিং করে ১২১ বলে ১৩৪ রান করে অপরাজিত থাকেন মহম্মদ রিজওয়ান। ১০ বলে ২২ রান করে অপরাজিত থাকেন ইফতিখার। বিশ্বকাপের ৪৮ বছরের ইতিহাসে সবথেকে বেশি রান তাড়া করে জেতার রেকর্ড।
❤ Support Us








