- মা | ঠে-ম | য় | দা | নে
- জুলাই ২০, ২০২৬
বিশ্বচ্যাম্পিয়নকে হারিয়ে জাপান ওপেনে শিরোপা জিতে ইতিহাস সিন্ধুর
শেষবার বড় আসরে খেতাব এসেছিল ২০১৯ সালে। জিতেছিলেন বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ শিরোপা। তারপর থেকে বড় প্রতিযোগিতায় শুধুই ব্যর্থতা। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে অবশ্য সৈয়দ মোদি ট্রফিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন। ২ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে শিরোপা জয় পিভি সিন্ধুর। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ও বিশ্বের ৩ নম্বর তারকা জাপানের আকানে ইয়ামাগুচিকে ২১–১৭, ২১–১৭ পয়েন্টে হারিয়ে জাপান ওপেনে চ্যাম্পিয়ন হলেন ভারতের এই মহিলা ব্যাডমিন্টন তারকা। প্রথম ভারতীয় হিসেবে জাপান ওপেনে চ্যাম্পিয়ন হয়ে ইতিহাস গড়লেন পিভি সিন্ধু।
প্রতিযোগিতার শুরু থেকেই দারুণ ছন্দে ছিলেন সিন্ধু। তাঁর থেকে র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকা খেলোয়াড়দের অনায়াসে হারিয়ে ফাইনালে পৌঁছেছিলেন। যদিও ফাইনালের লড়াই সিন্ধুর কাছে মোটেই সহজ ছিল না। জাপানের আকানে ইয়ামাগুচির বিরুদ্ধে তাঁর পরিসংখ্যান খুব একটা ভাল নয়। কিন্তু জাপান ওপেনে সব হিসেব বদলে দিলেন সিন্ধু। দুরন্ত নৈপূন্য দেখিয়ে বাজিমাত করে গেলেন ভারতের এই ব্যাডমিন্টন তারকা।
ম্যাচটা সিন্ধুর কাছে সহজ হবে না, বোঝা গিয়েছিল। প্রথম গেমে শুরুতেই ৩–০ ব্যবধানে এগিয়ে গেলেও দারুণ প্রত্যাবর্তন ইয়ামাগুচির। সমতা ফিরিয়ে ৫–৪ ব্যবধানে এগিয়ে যান জাপানি তারকা। ব্যবধান ধরে রেখে একসময় ১১–৯ পয়েন্টে এগিয়ে ছিলেন ইয়ামাগুচি। বিরতির পর খেলা শুরু হতেই একেবারে অন্য মেজাজে সিন্ধু। আক্রমণে আরও বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠেন। এবং ইয়ামাগুচিকে রীতিমতো কোণঠাসা করে ফেলে ১৬–১২ ব্যবধানে এগিয়ে যান। আবার ম্যাচে ফিরে আসেন ইয়ামাগুচি। একটা অসাধারন র্যালির পর স্কোর দাঁড়ায় ১৭–১৭। এরপর টানা চারটি পয়েন্ট জিতে এগিয়ে যান। শেষপর্যন্ত প্রথম গেম পয়েন্ট কাজে লাগিয়ে ২১–১৭ ব্যবধানে প্রথম গেম জিতে নেন সিন্ধু। প্রথম গেমের পর্যায়ে প্রচণ্ড আক্রমণাত্মক ছিলেন এই ভারতীয় শাটলার। ইয়ামাগুচিকে কোনও সুযোগই দেননি।
দ্বিতীয় গেমও দুর্দান্তভাবে শুরু করেন সিন্ধু। শুরুতেই একের পর এক স্ম্যাশ মেরে একটা চাঞ্চল্যকর র্যালি জিতে নেন। দ্বিতীয় গেমে ইয়ামাগুচিতে দেখে ক্লান্ত মনে হচ্ছিল। সেই সুযোগে ৮–৩ ব্যবধানে এগিয়ে যান সিন্ধু। ১১–৭ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যান সিন্ধু। বিরতিতে থেকে ফিরে এসে আরও ৩ পয়েন্ট তুলে নেন। তখন বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নের চোখেমুখে হতাশার ছাপ। এরপর র্যালিতে আধিপত্য দেখিয়ে সিন্ধু দ্রুত ১৬–১২ পয়েন্টে এগিয়ে যান। ঘরের দর্শকদের সমর্থনে উজ্জীবিত হয়ে ম্যাচে টিকে থাকার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছিলেন ইয়ামাগুচি। তিনি ব্যবধান কমিয়ে ১৫–১৭ করে ফেলেন। এরপর ২০–১৭ অবস্থায় তিনটি ম্যাচ পয়েন্ট নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হন সিন্ধু। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার ৭ বছর পর কোনও বড় প্রতিযোগিতায় শিরোপা জিতলেন ভারতের এই মহিলা ব্যাডমিন্টন তারকা।
❤ Support Us








