- বি। দে । শ
- জুন ২৩, ২০২৬
কাতারের গ্যাস উৎপাদন কেন্দ্রে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত ১২ জন ভারতীয়
কাতারের রাস লাফান শিল্প শহরের এক কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে ১৩ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১২ জন ভারতীয় এবং ১ জন পাকিস্তানী। ভারতীয়দের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন দেশের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। ভারতীয় দূতাবাস ক্ষতিগ্রস্ত দেশের নাগরিকদের পরিবারবর্গকে সহায়তা করছে।
রাস লাফান শিল্প শহরের কাতার এনার্জি এলএনজি পরিচালিত বারজান স্থানীয় গ্যাস সরবরাহ কেন্দ্রে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। কারিগরি ত্রুটির কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটে। কাতারের জ্বালানি মন্ত্রী সাদ বিন শিরাদা আল–কাআবি জানান, এই দুর্ঘটনায় ভারতীয় ও পাকিস্তানি মিলিয়ে ১৩ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া ৬৬ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কাতার, ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, কেনিয়া, ঘানা, তানজানিয়া, নাইজেরিয়া এবং নেপালের শ্রমিকরা রয়েছেন।
দোহায় অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্টে বলেছে, ‘কাতারের কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, রাস লাফানে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় ১২ জন ভারতীয় নাগরিক নিহত হয়েছেন।’ কাতারের কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, ‘আহত সকলের অবস্থা স্থিতিশীল এবং তাঁরা যথাযথ চিকিৎসা পাচ্ছেন। আমাদের দূতাবাস এই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ভারতীয় নাগরিক ও তাঁদের পরিবারকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা প্রদানের জন্য কাতারি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করছে। নিহতদের মরদেহ দ্রুত ভারতে নিয়ে আসার চেষ্টা করা হচ্ছে।’
এই দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেছেন, ‘কাতারের রাস লাফান শিল্প শহরে বিস্ফোরণে ভারতীয় নাগরিকসহ বহু মানুষের মৃত্যু ও আহত হওয়ার খবরে আমরা গভীরভাবে মর্মাহত। দূতাবাস এই দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ভারতীয় নাগরিকদের পরিবারবর্গকে সহায়তা করার চেষ্টা করছে। হতাহত ও তাদের পরিবারের প্রতি আমাদের সমবেদনা রইল।’ এর আগে, ভারতীয় দূতাবাসও এই দুর্ঘটনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
এক পৃথক বিবৃতিতে কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কাজ চলাকালীন যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিস্ফোরণ ঘটেছে। এ ঘটনায় বিভিন্ন দেশের ১৩ জন নিহত এবং আরও ৬৬ জন আহত হয়েছেন। নিরাপত্তা কর্মকর্তারা রাস লাফানের জরুরি প্রতিক্রিয়া দলের সহযোগিতায় তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং অনুমোদিত জরুরি পদ্ধতি প্রয়োগ করেন। আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য অবিলম্বে চিকিৎসা কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কর্মকর্তারা দুর্ঘটনার সঠিক কারণ এবং এর পারিপার্শ্বিক সমস্ত পরিস্থিতি তদন্ত করছেন। বর্তমানে, দুর্ঘটনার ফলে কোনও তেল বা গ্যাস নিঃসরণ হয়নি এবং জননিরাপত্তা বা পারিপার্শ্বিক পরিবেশের জন্য কোনও হুমকি নেই।
এর আগে, কাতার এনার্জি জানিয়েছিল যে, রবিবার সন্ধ্যায় বারজান লোকাল গ্যাস সাপ্লাই ফ্যাসিলিটিতে কার্যক্রম পুনরায় চালু করার সময় এই ঘটনা ঘটে। যার ফলে একটি ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। জরুরি প্রতিক্রিয়া দল এবং কাতার সিভিল ডিফেন্স ঘটনাস্থলে পৌঁছে দ্রুত এবং সম্পূর্ণরূপে আগুন নিভিয়ে ফেলে। কোম্পানির বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয় যে, জরুরি রক্ষণাবেক্ষণের কারণে ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে বারজানে উৎপাদন সম্পূর্ণরূপে বন্ধ ছিল। ঘটনার মাত্র দুই দিন আগে তা পুনরায় চালু হয়েছিল।
❤ Support Us







