- এই মুহূর্তে দে । শ
- সেপ্টেম্বর ২, ২০২৫
ভয়াবহ বন্যায় পাঞ্জাবে মৃত ২৯, হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন। বিপদসীমা অতিক্রম করে দিল্লির বাড়িতে যমুনার জল
সাম্প্রতিককালের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যায় পাঞ্জাবে কমপক্ষে ২৯ জন মারা গেছেন এবং হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পর্যন্ত চীন সফর থেকে দিল্লিতে ফিরেই পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানকে ফোন করে পরিস্থিতির খোঁজ নেন। শুধু পাঞ্জাব নয়, দিল্লির অবস্থাও বেশ খেরাপ। যমুনা নদীর জল বিপদসীমা অতিক্রম করে দিল্লির বিভিন্ন বাড়িতে ঢুকে পড়েছে।
ভারী বৃষ্টিপাত এবং বাঁধ থেকে জল ছাড়ার ফলে পাঞ্জাবে ১০টিরও বেশি জেলা প্লাবিত হয়েছে। আগস্ট মাসে পাঞ্জাবে ২৫৩.৭ মিমি বৃষ্টিপাত হয়, যা রেকর্ড। এই বৃষ্টিপাতের পরিমান স্বাভাবিকের চেয়ে ৭৪ শতাংশ বেশি এবং ২৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে, আগামী দিনে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। চীন থেকে ফিরেই সোমবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী মোদী মানকে ফোন করেন। মোদী কেন্দ্রের পক্ষ থেকে মানকে সব ধরণের সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন।
পাঞ্জাব জুড়ে ১৩০০ টিরও বেশি গ্রাম ডুবে গেছে। ৬৫৮২ জনকে ১২২টি ত্রাণ শিবিরে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে পাঠানকোট, গুরুদাসপুর, ফাজিলকা, কাপুরথলা, তারন তারান, ফিরোজপুর, হোশিয়ারপুর এবং অমৃতসর জেলা। পাহাড়ি রাজ্যগুলিতে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে শতদ্রু, বিয়াস এবং রাভি নদী এবং মৌসুমি নদীগুলি উপচে পড়েছে। কিছু জায়গায় রাভি নদীর প্রস্থ দশ গুণেরও বেশি বেড়ে গেছে, যার ফলে ঘরবাড়ি, বিস্তীর্ণ ফসলি জমি ডুবে গেছে এবং হাজার হাজার পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
এনডিআরএফ, সেনাবাহিনী, বিএসএফ এবং জেলা কর্তৃপক্ষ এখনও পর্যন্ত প্লাবিত এলাকা থেকে ১৪৯৩৬ জনকে উদ্ধার করেছে। আজনালায় বন্যার কারণে বিচ্ছিন্ন গ্রামগুলিতে জল, দুধের গুঁড়ো এবং শুকনো রেশন পৌঁছে দেওয়ার জন্য ড্রোন মোতায়েন করা হচ্ছে। সোমবার বেশ কয়েকটি গ্রামে বন্যার জল ঢুকে পড়ায় হোশিয়ারপুর ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাড়িঘর ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় অনেক পরিবার জমি এবং গবাদি পশুর কাছাকাছি থাকার জন্য ত্রাণ শিবির এড়িয়ে ট্র্যাক্টর ট্রলিতে আশ্রয় নিয়েছে।
অন্যদিকে, সোমবার থেকে দিল্লিতে ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে, বিশেষ করে দিল্লি–গুরুগ্রাম সীমান্তে তীব্র যানজট তৈরি হয়েছে এবং যমুনা নদীর তীরে বন্যার আশঙ্কাও বেড়েছে। টানা বৃষ্টিপাতের ফলে দিল্লিতে যমুনা নদীর জলস্তর আজ সকালে বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। প্রশাসন যমুনার আশেপাশের মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়েছে। যমুনাসহ কিছু নদীর জলস্তর বৃদ্ধির ফলে প্রশাসন যমুনানগর জেলার হথনিকুন্ড ব্যারেজের ফ্লাডগেট খুলে দিয়েছে।
সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে আজ কিছু ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যমুনার জলস্তর ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় দিল্লি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ সোমবার বিকেল ৫টা থেকে পুরাতন রেলওয়ে সেতুতে যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। জলাবদ্ধতা এবং দৃশ্যমানতা কম থাকার কারণে রাজধানীতে বিমান চলাচলেও ব্যাঘাত ঘটছে। আবহাওয়া দফতর পূর্বাভাস দিয়েছে যে, ২ থেকে ৪ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে মেঘলা আকাশ থাকবে, প্রতিদিন হালকা বৃষ্টি ও বজ্রপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
❤ Support Us







