- গ | ল্প রোব-e-বর্ণ
- সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৪
বটগাছ তালগাছ ও অন্যান্য
বাবা বলে, ‘রাজু বটগাছ হবি। দেখ কেমন একটা বিরাট জায়গা জুড়ে ছায়া দেয়, কত মানুষ গ্রীষ্মের দিনে আশ্রয় পায়, ছায়া পায়, আরাম পায়, কত পশু পাখী দিনে রাতে শুয়ে থাকে।’
-কিন্তু বাবা, আমি তো তাল গাছ হতে চাই। তালগাছ একপায়ে দাঁড়িয়ে সব গাছ ছাড়িয়ে।
-কি লাভ হবে? কে আশ্রয় নেবে, কে ছায়া নেবে, কাকেই বা গরমে ভরসা দিবি?
-বাবা বটগাছ হয়েও কি লাভ, অন্যের আশ্রয় হব, কিন্তু যখন নিজের প্রয়োজন হবে তখন কি তারা আসবে? মা তো তাই বলে।
রাজুর সামনে দুপুর নেমে আসে, পাশে মা শুয়ে আছে, রাজুর চোখে ঘুম নেই।বাবা অফিসে, জানলাতে পা ঝুলিয়ে বসে থাকবার সময় সামনের তাল গাছে চোখ যায়।বিকাল নামতে তিনটে শকুন কোথা থেকে উড়ে এসে তালগাছের পাতার বুকে ঝপ্ করে বসে যায়।ডানার ফাঁকে ঘাড় গুঁজে থাকে।উল্টো দিকে বসে রাজুর চোখ শকুনের ডানাতে আটকে যায়।মাথা তুলতেই মেঘ।এদিক ওদিক খণ্ড খণ্ড।রাজু বসে বসে মেঘেদের দৌড় প্রতিযোগিতা বিচার করে।এই মেঘটা আগে আসবে, না ঐ মেঘটা?দুটো মেঘের মাঝে এক ফালি নীল আকাশ, এটা যেন দুটো উরুর মাঝে জন্মস্থান।
-দেখেছিস কখনও?বিড্ডু একদিন জিজ্ঞেস করেছিল্।
রাজু তখন ক্লাস ফাইভে পড়ে, গ্রামের বাড়ি ছেড়ে বাবার কাজের জায়গায় থাকে।বিড্ডু রাজুর থেকে মাত্র আঠারো দিনের বড়, নিজের কাকার ছেলে, খুব সাহস, ক্লাস টু’তে পড়তে একদিন প্রকাশকে খুব মেরেছিল।ছেলেটা টিফিনের সময় কি একটা খারাপ কথা বলেছিল।তারপর থেকে বিড্ডু গেলে রাজুর আলাদা সাহস হয়।
ক্লাস থ্রিতে পড়বার একটা বৃষ্টির দিনে মা স্কুলে যেতে দেয় নি, মেজদিদাদের বাড়ির নিচে প্রথম রাজুর ঠোঁটে বিড়ি গুঁজে দিয়ে বলেছিল,‘নে টান এবার।’বিড্ডু নিজে টানে, ধোঁয়া ছাড়ে।পরম তৃপ্তি, সঙ্গে সেদিন ডোডন ছিল।বিড্ডু আর রাজুদের দূর সম্পর্কের ভাই।ডোডোনও টানে, ছাড়ে, শুধু রাজুই পারে না।ধোঁয়ার ছাড়া আর নেওয়ার মাঝে একটা বড় অঙ্ক আছে।রাজু কিছুতেই সেই অঙ্ক মেলাতে পারেনা।অথচ মেজ-দিদা ধোঁয়া দেখে ছাদ থেকে চেল্লায়।
‘বিড়ি কে ধরালি রে, এই ছেলেগুলো। দাঁড়া তোদের বাপেদের বলছি।’বাকি দুজন সেদিন স্বাভাবিক থাকলেও রাজুর হাত পা কাঁপতে থাকে।সারাটা দিন খুব অস্থির লাগে।বাবা শুনলে পিটিয়ে পায়েস বানিয়ে দেবে।সন্ধেবেলা মেজদিদার নাতনি রিমিদি আসে।রিমিদি রাজুর বাবার কাছে প্রাইভেট পড়ে।রিমিদি তখন ক্লাস এইট, রাজু ক্লাস থ্রি।অঙ্ক করাবার ফাঁকে ফাঁকে বাবা রিমিদিদির পিঠে পায়ে হাত বুলিয়ে বলে,‘আমার সোনা মেয়ে, আমার মানিক মেয়ে।’মা পিছন ফিরে বারান্দাতে রুটি বানায়।রুটিতে ধোঁয়া ওঠে।গনগনে আগুন, তাপ, মায়ের পা বারান্দার জলে ডুবে থাকে, পায়ে হাজা হয়।রাতে শোবার আগে আঙুলের ফাঁকে ফাঁকে বাবা ক্রিম লাগিয়ে দেয়।তারপর অন্ধকার নামে।রাজুর ঘুম আসে।স্বপ্নের দোলার আগে বিছানাতে দোল খায়।মায়ের চাপা গলাতে দুপুরের শকুন নেমে আসে।
সকালে ঘুম থেকে উঠেই পুকুর পাড়ে যেতে হয়, বাড়িতে পায়খানা নেই, বড়জ্যাঠা তৈরী করতে দেয়নি। বলেছে,‘ঘরে ঠাকুর আছে, পায়খানা তৈরী করা যাবে না।’ বাবা আড়ালে বলে, ‘ঠাকুর পায়খানা করে না, নাকি আমাদের পায়খানা মেঘ থেকে মাটিতে পড়ে।’ কে কার কথা শোনে, অগত্যা সকাল মানেই পুকুর ধার।মাঝে মাঝে বিড্ডুও যায়।বিশেষ করে স্কুল থেকে বাড়ি ঢোকার সময় দুজনে পরামর্শ করে পুকুরে যায়।নিমাইডোবা।মা বকে, বাবা ভয় দেখায়, বলে,‘পুকুরটাতে ভূত আছে।বিজয় মামাদের একটা বাহাদুর দুপুরে স্নান করতে গিয়ে ডুবে গেছিল।’রাজু পুকুরটার সামনে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে বাবার কথা মনে করে।গ্রীষ্মকালে পুকুরের বুক ফেটে মায়ের পায়ের মত হয়ে যায়, রাজু ফাটার মধ্যে ভূত খোঁজে।ভূতের ঘর বাড়ি।খুঁজে পায় না, তারমানে বাবাও মিথ্যে বলে।রাজু রিমিদিকে সব কথা জানিয়ে দেয়।রিমিদিও ছাদ থেকে পুকুর দেখে, ভুত খোঁজে।বর্ষাকালে পুকুর জলে ভরে যায়।পাড়ে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে রাজু, বিড্ডু দুজনায় খোলামকুচি ছুঁড়ে ব্যাঙ লাফানো খেলে।চারবার, পাঁচবার, তারপর জলের পাশেই বসে।দুটো ইট পেতে একটা সুন্দর ব্যবস্থা করা আছে।বসবার কিছুক্ষণ পরেই একটা কালো ভুটরা শুয়োর হঁদ হঁদ করে এসে মুখ দেয়।বিড্ডু বলে,‘গরম খাবার।ধোঁয়া উঠছে।’ পোষা কুকুর ডনও মাঝে মাঝে চলে আসে।মা ঘেন্না পায়, গায়ে ঠেকলে জল ছোঁড়ে, চেল্লায়, তাড়িয়ে দিয়ে বলে,‘বের হ, গু’খেকো কুকুর।’তবে রাতে ডনকে একটা করে রুটি দিতে হয়, না দিলে পরের দিন ভোরেই পায়ে মাথা ঘসে।অবাক লাগে, কি রকম অদ্ভুত ভাবে বুঝে যায় ডন।তারপর একটা সন্ধেতে মুখের ওপর দিয়ে একটা ট্রাক চলে যায়।বড়জ্যাঠাই খবর আনে।রাজু, বিড্ডু দুজনায় দেখতে গেছিল্ মুখটা এক্কেবারে চেপে গেছিল।রাতে ঘুম আসেনি।রাতের বাতাস ডনের গন্ধ মেশা ছিল।পরেরদিন সকালেও রাজু, বিড্ডু দুজনেই আলোতে ডনের লাশ দেখতে গেছিল।সেখানে তখন ছিল না।পরে বাবার মুখে শুনেছে রাতেই ডনের মৃতদেহ ভাগাড়ে ফেলে দিয়ে এসেছে মুচিপাড়ার কেউ, সুবলা বা নেপলা বা গাজুকাকা।ঘরের সবার মুখে রাজু শুনেছে গাজুকাকা মুচি পাড়াতে থাকলেও গাজুকাকা নাকি বাউরি।মুচি আর বাউরি পাড়া থেকে রাজুদের বাড়িতে কাজ করতে আসে।বাইরে বাসন মাজে, ঝাঁট দেয়, কাচে।তারপর চলে যায়।মা মাজা বাসনে জল ঢেলে তারপর ঘরে তোলে।রাজু জিজ্ঞেস করলে বলে,‘ওদের ছুঁতে নেই, ওরা সব নিচু জাত।’
-বাবা নিচু জাত কি?
-যাদের টাকা পয়সা কম তারাই নিচু।
-ও!নিচু জাতদের নাম ধরে ডাকতে হয়?
-না তো, সব্বাইকে সম্মান দিতে হয়।
-তাহলে যে বড়দা, মেজদা, সবাই ওদের নাম ধরে ডাকে।
-ভুল করে, তুই কোন দিন নাম ধরে ডাকিস না।
-বাবা হারুজেঠুও নিচু জাত?
-নারে বাবু, হারুদা ব্রাহ্ণণ, আমাদের জাতের।
-তাহলে বড়দারা হারুজেঠুকেও যে নাম ধরে।
-হারুদার যে টাকা নেই।যাদের টাকা নেই তাদের কেউ সম্মান করে না।
রাজু বাবার মুখে সব শোনে।হারুজেঠু বাঁকুড়ার এক গ্রাম থেকে রাজুদের বাড়ির দুর্গাপুজোতে কাজ করতে আসত।বাড়িতে বাড়িতে বেসনের টানা আর চোনার নাড়ু বানাত।রাজুরা নাড়ু পাকাত।প্রথমে বড়জ্যাঠা তারপর মেজ, সেজ, হয়ে শেষে রাজু আর বিড্ডুদের নাড়ু।পিঠে ব্যথা ধরে যেত, তাও আনন্দ লাগত।হাতে লেগে থাকা গুড় চাটার আনন্দ, প্রসাদের মিষ্টি, পুজোর আগেই চুরি করে খেয়ে নেওয়ার আনন্দ।প্রসাদ দিতে যাবার সময়, লাড্ডু তুলে নেওয়ার আনন্দ।
গাজুকাকু বলিদানের পর পাঁঠার ছাল ছাড়াতে আসত।ছাল ছাড়িয়ে মাংস ভাগ করত।সাতটা ভাগ।প্রতিভাগে সমান মেটে, মাংস, চর্বি, পাঁঠার অণ্ডকোষ।রাজুরা প্রথমে ঐ দুটোকে পাঁঠার কিডনি ভাবত।কিডনির কথা রাজু শুনেছিল।গয়লাদের রাসুর বউয়ের দুটো কিডনিই খারাপ হয়ে গেছিল, মারা গেল।রাজু, মায়ের সাথে দেখতে গেছিল।তারপরেই পাঁঠার কিডনি খুঁজছিল।কথাগুলো শুনেই ফুলদি মুখ টিপে টিপে হেসে ওঠে, তারপর আচমকা রাজুর ওপর রেগে যায়, বলে,‘খুব পাকা হয়ে যাচ্ছিস।’ফুলদি বড়জ্যাঠার ছোট মেয়ে।প্রায়দিন স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার সময় হজমি, ঝালমুড়ি কিনে আনত।ছুটির দিনেও মাঝে মাঝেই বলে ঊঠত,‘চল রবিনকাকার দোকান থেকে চকলেট নিয়ে আসি।’রাজু বুঝল না সেদিন ফুলদি রেগে গেল কেন?পাঁঠার কিডনি খোঁজার মধ্যে পাকামির কি রয়েছে।ফুলদির সাথে দুদিন আড়ি।তারপর একদিন ফুলদি স্কুল থেকে ফিরে ওপরে উঠে লজেন্স দিয়ে নিজের থেকে ভাব করে।
বড়জ্যাঠা বারান্দাতে বসে বসে মাংস ভাগ করে।গাজুকাকুকে বার বার চা খাওয়ায়।তারপর প্রতি ভাগের থেকে কিছুকিছু নিয়ে নিজের ভাগটা বাড়িয়ে নেয়্ মুখে বলে,‘খাটনি আছে না বল?’গাজুকাকা ঘাড় নাড়ে।বাইরের লোক পুজো দিতে আসে, বড়জ্যাঠা পুজোর সব টাকা নেয়, পকেটে ভরে, কোন হিসাব কেউ চায় না, কেউ জানেও না। একবার রাজু আর বিড্ডুকে বাজারে নিয়ে গেছিল ঠাকুরের বাসন কিনতে, ভালো বাসনের দাম লিখিয়ে খারাপ বাসন নিয়ে আসে।দোকানদার বড়জ্যাঠার চেনা লোক।বাড়িতে নিজেদের দুর্গাপুজো, কালিপুজো।খুব মজা হয়।বিশেষকরে ভাইফোঁটার সময়।লাইন দিয়ে সব ভাইবোনরা বসে।দিদিরাও লাইন দিযে ফোঁটা দেয়।প্রথমে বড়দি, তারপর মেজদি।এদিকে প্রথমে বড়দা মেজদা শেষে টুট্টে, বিড্ডুর ভাই।ছোড়দা সব বারেই দেরি করে।ছোড়দা পিসির ছেলে।নিজের পাড়ায় হাজারটা বোন।ভিক্ষে বোন, পাতানো বোন।সবার কাছে ফোঁটা নিয়ে তারপর বাড়িতে আসে।ছোড়দার জন্য বসে থাকতে হয়।বড়দা রেগে যায়।
‘থাক সামনের বছর থেকে তাপুকে আলাদা ফোঁটা দিয়ে দিবি।এরকম করলে দেরি হয়ে যাচ্ছে।’
ক্লাস এইটে পড়বার সময় গ্রামের বাড়িতে পুজোর সময় গেলে বিড্ডু একটা কথা প্রসঙ্গে বলে,‘ছোড়দা এক্কেবারে মাল ছেলে।ঐ ভিক্ষে বোনটোন নামেই, এক্কেবারে ফাকার মাস্টার।কাউকে ছাড়েনা।’
-বাজে কথা বলছিস তুই, এইরকম হয় নাকি আবার?
রাজুর কথাগুলো শুনতে খারাপ লাগে খুব।ছোড়দাকে নিয়ে বাবা গর্ব করে বলত,‘তাপুকে দেখ, সাতচড়ে মুখে রা নেই।মা বাবা এমনকি আমাদেরও মুখের ওপর কোন চোপা করে না।’আর বিড্ডু মুচকি হেসে তার ঠিক উল্টো কথাই বলে।‘জানিস ছোড়দার সাথে, ছোড়দি, ন’দির খারাপ সম্পর্ক আছে।’ মেজজ্যাঠার দুই মেয়ে।রাজু রেগে যায়।‘দুর!এমন আবার হয় নাকি?তুই যত বানিয়ে বানিয়ে বলছিস।’
-বানিয়ে বানিয়ে?বেশ আমি তোর সামনে ছোড়দিকে বলছি।
বিড্ডু ছোড়দিকে একবার অভ্রদার কথা বলে দিয়েছিল।ছোড়দি তখন ক্লাস টুয়েলভ, বিড্ডুরা সিক্স।একদিন বিড্ডু ছোড়দিকে হাতে একটা চিরকুট গুঁজে দিয়ে বলে,‘অভ্রদা দিয়েছে।স্কুল থেকে ফেরবার পথে।’পরের বারের ব্যাপারটাও রাজুর চোখের সামনেই হয়েছিল।কি যেন একটা কাজে গ্রামের বাড়িতে গেছিল।ছোড়দিকে দেখতে পেয়েই বিড্ডু বলে,‘এবার মজা দেখ।’রাজু দাঁড়িয়ে থাকে।বিড্ডু বলে,‘ছোড়দি, পিছন দিকের জানলাটা বন্ধ করে দিবি, ছোট্টুদের বাড়িতে উঠলে সব দেখা যায়।’
-কি দেখা যায়?
-কি আর যাবে এই তুই, ন’দি আর ছোড়দা যা করিস।
ছোড়দির ভ্রু কুঁচকে যায়।
-কি দেখেছিস?
-তোদের তিনজনকেই তো জানলা দিয়ে দেখলাম রে, তুই ন’দি, আর ছোড়দা।তিনজনেই ল্যাংটো ছিলিস।
-বাজে বকিস না।কাকাকে বলে দেব।
-আমিও মেজজ্যাঠাকে বলব।তারিখ,সময় সব লিখে রেখেছি।
ছোড়দির মুখচোখে চকচক ঘাম।একটু গম্ভীর ভাবে বলে,‘আমি ছিলাম না।’
-ছিলিস ছোড়দি, ছিলিস, তিনজনেই ল্যাংটো ছিলিস।
পরে বিড্ডুকে ছোড়দাও এই সমস্ত কথা জিজ্ঞেস করে।বিড্ডু সব উত্তর দিয়ে বলে,‘সামনে রথের মেলাতে দুশো দিবি।না হলে সব ফাঁশ করে দেব।’
-তোর কথা কেউ বিশ্বাস করবে না।
-করবে।তোর আরো আছে, তোর ভিক্ষে বোন রুবী, ভাড়াটের মেয়েটা, বুড়োকাকার মেয়ে, সব জানি।আমি সব বলে দেব।এখন কামারবাজারের একজনের সাথে ঘুরছিস, তাকেও বলে দেব।
-তোর কথা কেউ বিশ্বাস করবে না।
-সে দায়িত্ব আমার, তোকে তার জন্যে ভাবতে হবে না।
ছোড়দিরা রেগে যেত।কত বার রাজুকে বলেছে,‘তুই বিড্ডুর সাথে মিশবি না।খারাপ হয়ে যাবি,ওটা এক্কেবারে বাজে ছেলে।বিশ্বাস কর।’
রাজু ঐ সব কথা শুনত না।বিড্ডুর গায়ে কি শক্তি।একবার ঠাকুর দেখতে গিয়ে রাজুর পা মচকে গেছিল, বিড্ডু একরকম কোলে করে বাড়ি আনে।তারপর বিড্ডুরা কত কিছু জানে।রাজুর নিজেকে খুব ছোট মনে হয়।গাছে চড়তে জানেনা, সাঁতার জানেনা।টোল খেলতে জানেনা, ডাংগুলি জানেনা, এক্কেবারে ল্যাল।মাকে এই সব বললেই মা রেগে ওঠে,‘ঐ কর, বাপ ব্যাটা মিলে সারাটা সময় গ্রাম গ্রামই করে যা।আজ সিনেমা, কাল থিয়েটর, পরশু খেলা, এইসব করলে কি আর পড়শোনা হয়।’
বাবাও মায়ের সামনে কিছু বলে না।মায়ের আড়ালে দুজন মিলে স্মৃতির চাষ করে।বাবার মুখে শুনে গোলাপ বাঁধে এক ডুবে নিচের থেকে মাটি নিয়ে আসে, মাছ ধরে, তারপর গন্ধক আর পটাশের ফটকা তৈরী করে, গাদ্দা-গুরুম।বাবাও কত কিছু জানে, রাজু জানে না।মা আরো রেগে ওঠে, ‘বলে একবার করে বাড়ি যাবে আর ফিরে এসে বাপ ব্যাটা মিলে গ্রাম গ্রাম করে বেড়াবে।পরের বছর থেকে আর কোন পুজোতেই যাব না।’বাবা কিছু না উত্তর দিলেও প্রথমদিকে গ্রাম ছেড়ে চলে আসাটাকে কিছুতেই মানতে পারেনি।রথের দিন থেকে বলতে আরম্ভ করত,‘আজ মেড় বাঁধবে রে।’ রাজু মেড় বাঁধা জানে, এক মাটি , দু’মাটি, রঙ, ডাক পড়ানো।ধর্মরাজ মিস্ত্রি ঠাকুর তৈরী করতে আসত, রাজুরা সেই সময় মন্দিরেই বসে থাকত, বাঁশ বাঁধা দেখত, একমাটির পর ঠাকুরের ফাটা শরীরে কষ্ট খুঁজত, তারপর মাটিতে কাপড় লাগিয়ে দু’মাটি।বড় জ্যাঠা সাদা কাপড় দিত।জেঠিমা তখন সাদা কাপড় পরে।রাজু মাকে ধর্মরাজমিস্ত্রিদের জন্য চা তৈরি করে দিতে বলত।মা প্রথমে রেগে যেত,‘কাজের সময়, এই সব বাড়তি কাজে খুব অসুবিধা হয়।’ তারপরে অবশ্য করে দিত।
গ্রাম ছেড়ে চলে আসবার পরে বাবার চোখ মুখেই ফুটে উঠত এক মাটি, দু’মাটির, রঙ, ডাক পরানোর গন্ধ।রাজুর শুধু স্কুল, ক্লাস, হোম-ওয়ার্ক।বিরক্ত লাগত।ক্লাস ফোরে পড়তে রাজু গ্রামে শেষবারের মত ঢাক বাজায়।শহরে এসেও পুজোর দিনগুলোতে কিরকম হয়ে যায়।পাড়ার ঢাক বুকে বাজে।বাবা মুখে কিছু বলে না, এপাড়া ওপাড়া ঘুরে বেড়ায়।প্রথমে কয়েকটা বছর ডিউটি নিয়ে নিত।এক বছর দুবছর তিন বছর।
এরমাঝে বড়জ্যাঠার ছেলে চাকরি পেয়ে যায়।কোলিয়ারিতে জমি দিয়ে চাকরি।রাজুর বাবা নো-অবজেকসন লেটার দেয়।সেই সময় অবশ্য বাড়ি যাওয়া হত।বড়জ্যাঠা তাও পুজোর সময় চেল্লাত,‘তোরা পুজোর টাকা দিচ্ছিস না খুব খারাপ।’ বড়জ্যাঠার চার মেয়ে।তাদের বিয়ের সময় ভাইদের জনে জনে ডেকে জিনিস দেওয়ার কথা বলত।ছোটকাকা একটু ঠোঁটকাটা, একবার বলে দিয়েছিল,‘বড়দা তুমি তো আমাদের জিজ্ঞেস করে জন্ম দাও নি।’
-ছিঃ, ছিঃ এরকম করে নিজের বড় ভাইকে বলে, তোদের কাউকে কিছু দিতে হবে না।
এটা অবশ্য ছোট মেয়ের বিয়েতে।তার আগে সবার বিয়েতেই ভাইদের কাছ থেকে মোটা টাকা নিয়ে নেয়।
ক্লাস ফাইভে পড়তেই রাজু শেষবারের মত গ্রামে গিয়ে ঢাক বাজিয়েছিল।বাবার ঝুলফিতে পাকা চুলের গন্ধ। বাবা গ্রামের গল্প করলেও যেতে চায় না।শহরেই ঘুরে বেড়ায় এপাড়া ওপাড়া।মা জিজ্ঞেস করে,‘যেতে চাওনা কেন?’
-বড়দা টাকার কথা বলে, আমি নাকি নারায়ণ পুজোর টাকা দি’না।
-কিন্তু তুমি তো জমিরও কোনো ভাগ নাও না।মা বলে।
ওরা কেমন যেন হয়ে গেছে।আগেরবার বড়বউদি চা দিতে গিয়ে ফিরিয়ে নিয়ে বলে,‘তুমি তো সেজ ঠাকুরপোর বাড়িতে খাচ্ছ।এখানে চা খাবে?’ আমি নিতাইদার দোকানে চা খেয়ে আসি।
রাজু সব শোনে, উত্তর দেয় না।নিজের চোখে বাবাকে বড়জ্যাঠার মেজমেয়ের বিয়েতে মা’কে লুকিয়ে মোজার ভিতর থেকে টাকা বের করে দিতে দেখেছিল।তাও বড়জ্যাঠার হাতে তুলে দেবার সময় মুখ ব্যাজার।‘কত আছে?’
-পনেরোশ।পনেরোশ!কি হবে এর থেকে আমার অন্য আত্মীয়রা অনেক ভালো।গিফ্ট দেয় না।মেয়ের বিয়েতে সাহায্য করে।
রাজু দাঁড়িয়ে থাকে, পাশে আপরাধীর মত মুখ করে থাকে বাবা।রাজু সব বোঝে, প্রশ্ন করেনা,উত্তরও দেয় না।কয়েক বছর ধরে মায়ের অজান্তে জমির চালটা বড়জ্যাঠাদের দিয়ে দিচ্ছে।মা জানে না।গ্রামের বাড়ি যায়, চাল আনে না।ফিরে বলে,‘এবারের চালটা ভালো নয়। দোকানে বিক্রি করে দিলাম।’
নিজের, বাবার, কারোরই আর দেশের বাড়িতে যেতে ইচ্ছে করেনা।মন খারাপ লাগে।পাড়াতে মাঝে মাঝেই ঢাকিদের থেকে ঢাক নিজের কাঁধে তুলে নেয়, বাজায়।কাঁসি বাজায়।তখনই শহরের বুক ফেটে গ্রাম বেরিয়ে আসে।
মাঠ পুকুর হয়, হাঁস চড়ে, এক একটা বাড়ি তালগাছ, খেঁজুর গাছ, আম গাছ হয়ে যায়্।আমগাছে বিড্ডুরা চেপে লুকোচুরি খেলে।তালগাছে শকুন বসে, ঘাড়টা গুঁজে দেয় দুটো ডানার ফাঁকে।রাজু ঢাকিদের সাথে গল্প করে,‘তোমরা কোন গ্রামের?’
-বীরভূমের।ইলামবাজার পেরোয় যেতি হয়।বাঁকি সুন্দরপুর।নাম শোনেন নাই?
‘ গ্রামের ঢাকিগুলোও বীরভূম জেলা থেকে আসত?’ বাবাকে জিজ্ঞেস করে।
বাবা উত্তর দেয়,‘নানা ওরা বাঁকুড়ার।’
গ্রামে এক ঢাকির ছেলের সাথে রাজুর খুব ভাব ছিল।রাজু তখন ছোট।পটকা দিত, পুরানো জামাও দিয়েছে।স্কুলের গল্প করত।‘তোর কোন ক্লাস?দিদিমনি মারে?’
ছেলেটা ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে।উত্তর দেয় না।পাশ থেকে ওর বাবা উত্তর দেয়,‘উয়াকে ভর্তি করি নাই।এই আমার সাথে বাজায় আর জোগাড়ে খাটে।খাবো কি বল?’
সবাই লোকটাকে জামাই বলে ডাকত।
‘জোগাড়ে খাটা’ মানে রাজমিস্ত্রিদের সঙ্গে সিমেন্ট বালি বয়ে দেওয়ার কাজ।রাজু বাবাকে জিজ্ঞেস করে জেনেছে।
জামাই ধুতি পরত, বসে ঢাক বাজালেই নিচের দিকে পুঁটুলির মত কিছু একটা বাঁধা অবস্থায় দেখা যেত। রাজু দেখত, প্রতিদিন ঐরকম পুঁটুলিটা বাঁধা থাকছে।মুড়ি আছে নাকি?
-খ্যাপা, হাঁদা।ওটা হাইড্রোশিল হয়েছে।জাঙ্গিয়া পরবি।না হলে এমনি পুঁটুলি তোকেও মাথায় নিয়ে ঘুরতে হবে।কথাগুলো বন্ধনদা বলে ওঠে, বন্ধনদা পাড়ার দাদা।
বাড়ি ফিরেই বাবার সামনে কাঁদে,‘আমি শুধু প্যান্ট পরব না।জাঙ্গিয়া কিনে দাও।’
-দুর এই বাচ্ছা ছেলে, পোঙ্গা নেই জাঙ্গিয়া পরবে।
-বিড্ডু পরে, ডোডোন পরে, আমি কেন পরব না ?
শহরে বিড্ডু প্রায় রাজুদের বাড়ি আসে, থাকে, গল্প করে।কাকা রেগে যায়, রাজুকে ডেকে অনেকবার বোঝাতে বলেছে।প্রথম কয়েকটা বছর, গল্প মানে খেলার কথা, রথের মেলা, কবিগান, মাছ ধরা।আর একটু বড় হলে ছোড়দির নতুন গল্প।তখন গয়লা পাড়ার একটা ছেলের সাথে এদিক ওদিক ঘুরে বেড়াচ্ছে।রাজু দাদাটাকে চিনত নয়নদা।ছোড়দির সাথে ছাড়াছাড়ির পরে এক সন্ধ্যায় মদ খেয়ে রাজুদের শহরের বাড়িতেও চলে আসে।ছোড়দির সম্পর্কে কত কথা বলে।পড়তে পড়তে রাজুর সেদিকে কান চলে যাচ্ছিল।ক্লাস এইট, বইয়ের পাতায় মানুষের থেকে ব্যাঙের ছবি বেশি।বিড্ডুকে আবার সব কথা জিজ্ঞেস করে।শোনা কথা মিলিয়ে নেয়।বিড্ডু হেসে ওঠে,‘তুই এক্কেবারে বোকা, জানিস না, ছোড়দির পেটে ছেলে চলে এসেছিল।নয়নদা আমাকে সব বলেছে।হাসপাতালের কাগজও দেখিয়েছে।তবে কাউকে বলিস না।’
-সবাই জেনে গেছে।তোমাদের পাড়ায় একটা ঢিঢি পড়ে গেছে।তুমি তো কিচ্ছু বিশ্বাস কর না, তবে তোমার বড়ভাই যেমন হোক মেয়েগুলো এইরকম নয়, সবগুলোর তো দেখাশোনা করেই বিয়ে হল।
মায়ের সাথে বাবার আলোচনা কানে আসে।মা নিজের থেকে রাজুকে কিছু বলে না মা।কিছু জিজ্ঞেস করলেই বলে,‘চুপ কর, পাকা হয়ে যাচ্ছিস।’বাবা, মায়ের মুখে সব শুনে লম্বা শ্বাস নেয়।‘আমাদের আর কি, আমরা তো আর এখন থাকি না।আর গ্রাম ছেড়ে যারা বেরোয়, তারা আর ফিরে যায় না।’
মা না বললেও বিড্ডুর মুখে রাজু সব শুনে নিয়েছে।নার্সিংহোমের নাম পর্যন্ত।বিড্ডু এখন ছোড়দি বাথরুমে ঢুকলে জানলাতে চোখ দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে।ছোড়দি কিছু বললেই বলে,‘বেশ, তাহলে আমি তোর হবু শ্বশুর বাড়িতে সব বলে দেব।’ছোড়দি চুপ করে যায়।ন’দিকে বলে,‘তাহলে ছোড়দার কেসটা সবাইকে বলি?’ এরমাঝে ন’দির বিয়ে হয়।ছয়মাসের মধ্যে ছোড়দির বহু দূরে বিয়ের ঠিক হয়।জামাইয়েরও নাকি চরিত্র ভালো নয়।নিজের বউদির সাথে কি সব সম্পর্ক আছে।সবাই সব জানে, চেপে যায়।সব শুনে রাজুর মন খারাপ লাগে, এই বয়সেই বিড্ডু কত কিছু দেখে নিল।রাজুর দেখা হল না।তবে বিড্ডু বলেছে,‘এবার এলে তোকেও একটা জিনিস দেখাব।’
-কি জিনিস?
-বলব না, এলে দেখবি।রাজুর চোখ চকচক করে।রোদ ওঠে কেমন ভাবে সব ঝড় বৃষ্টি উধাও হয়ে যায়। লোভ হয়।শরীরে মেঘমল্লার ভাব, প্যান্টে টান পড়ে।
অন্য দিকে আস্তে আস্তে ক্লাস বাড়ে, বইগুলোর চেহারাতেও ভারিক্কি ভাব, গত বছর ক্লাসে সেকেণ্ড হলেও কানের কাছে মা সব সময় বলে,‘বাবু পড়াশোনা করতে হবে, গ্রাম থেকে অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে আসা।যদি খারাপ কিছু হয় মুখ দেখানো যাবে না।কথাগুলো সব সত্যি।বাবার প্রথমদিকে দু’চোখে গ্রাম ভেসে উঠত। কথায় কথায় মাকে শোনাত,‘আজ ধর্মরাজ পুজো’, অথবা ‘রক্ষা’মার পুজো।’ তারপর কারোর বিয়ের কথা শুনলে বলে উঠত,‘দেখলে ভোজটা ফাঁকালাম্।’ পরের দিকে বাবার, রাজুর দু’জনের শরীর থেকে গ্রামের গন্ধ মুছতে আরম্ভ করে।মায়ের কথাগুলো পড়ার চাপের সাথে কাটাগুটি খেলে।বিড্ডুর কথাগুলোও খারাপ লাগে, সমস্ত বইগুলো বিড্ডুর কাছে যেতে দেয় না।শহরের বাড়িতে এলে একপাশে বিড্ডু একাই বকে যায়, পাশে বসে রাজু হোমটাক্স করে। পিরিওডিক টেবিলের সাথে হিস্ট্রির পিরিওডস, ম্যাথের সাথে ফিজিক্সের জিঙ্গল রাজুকে বসে থাকতে দেয় না। সব সময় মনে হয় ভালো পড়া হচ্ছে না। কম পড়ছি, সময় হচ্ছে না। এইভাবে পড়লে ভালো রেজাল্ট হবে না।বাড়ি যেতে ইচ্ছে করে না।মা জিজ্ঞস করলে বলে,‘গেলে টিউসন কামাই হবে।তোমরা যাও কয়েকটা ঘন্টা একা থাকতে পারব।’
বিয়ে বা পৈতেতে রাজুরা সবাই মিলে গ্রামের বাড়ি যায়, যেতে হয়।পুজোতে আর যায় না।বাবা এখন জমির চালের ভাগ নিতে যায়ই না।মা জিজ্ঞেস করলে বলে,‘যাক গে মরুক গে, আর পারিনা।’
তবে গ্রাম থেকে লোক আসে, ডাক্তার দেখাতে আসে, রাতে আটকে পড়লে আসে।দরকারে আসে, এমনি আসে।মা সামনে কিছু বলে না।চলে গেলে বলে,‘এটা কি ধর্মশালা?যে যখন পারছে চলে আসছে।’বাবা হাসে,‘আমার জন্য কেউ যদি একটু আরাম পায়, স্বস্তি পায়, ক্ষতি কি বল?’
বিয়ের ঠিক হলেও ছোড়দির কেসটা ক্লাবেও ওঠে।তারপরের ঘটনা বিড্ডু বলতে পারেনি।রাজুর তখন মর্নিং স্কুল।বাড়ি ফিরে দুপুরে ঘুমিয়েও পড়েছিল।দুপুরে বাবা অফিস থেকে চলে আসে।কখন আসে রাজু জানে না।ঘুম ভেঙে যায়।দেখে বাবা-মা তৈরি।
-কোথায় যাবে ?
-বাড়ি যাব।
-এখন ?
-বিড্ডু গাছ থেকে পড়ে গেছে।হাসপাতালে নিয়ে গেছিল, কিন্তু…
-বিড়্ড়ু!কখন ?কে বলল ?
-আজ সকালে, অফিসে ফোন এসেছিল।
রাজুর শরীরে ঝটকা লাগে।নাকে নিমাই ডোবার গন্ধ আসে।দুটো খোলাম কুচি ব্যাঙের মত লাফিয়ে যায়। বিড়ি খাওয়ার চেষ্টা থেকে আরম্ভ করে নিষেধের বেড়া জাল চমকানো, বিড্ডু ছোটে পিছনে রাজু, দুজেনের ল্যাংটা বেলা।মাটি ফুঁড়ে পুরানো দিনগুলো চলে আসে।পাশে দাঁড়ানো বাবা বলে ওঠে,‘ক্লাস টেনের ছেলে, এখন কেউ গাছে ওঠে?ভালো করে পড়, রেজাল্ট কর।’
-ভাগ্যিশ এখানে নিয়ে এসেছিলাম।না হলে এটিও অমনি হত।রাজু কোনো কথা বলে না।সাতটা থেকে সায়েন্সের টিউসন আছে, তার আগে কেমিস্ট্রির মেটালের চ্যাপ্টরটা পড়তে হবে।
-কিরে রেডি হ, যাবি না ?
রাজু একটা লম্বা শ্বাস ফেলে,‘বাবা, তোমরা যাও আমার টিউসন আছে।’
-সে’কিরে বিড্ডু যে তোর….।
-পরে যাব, কেমিস্ট্রির ক্লাস মিস করলে মুশকিল হবে।
বাবা মা আর কথা বাড়ায় না।রাজু বই খোলে।পড়ায় মন বসে না।জানলাতে চোখ চলে যায়।চোখের সামনে গ্রামের পুকুরের পাড়ের তালগাছে শকুন বসে।মাথাটা সেই দুটো ডানার নিচে নামানো থাকে।
♦—♦♦—♦♦—♦♦—♦
❤ Support Us








