- ধা | রা | বা | হি | ক রোব-e-বর্ণ
- মে ২৬, ২০২৪
ভোর ভয়ি। পর্ব ৭ : পিতৃহৃদয়ের দুটি ‘চুরি’
অলঙ্করণ: দেব সরকার
বায়োস্কোপের বাকসো। রঙের নকশা চটে খসে এখানে-ওখানে বেরিয়ে পড়েছে মৃত্যু-প্রস্তাব। বাকসোর গোল জানালার ঢাকনা কবে যেন হারিয়ে গিয়েছে। সেখানে তাকিয়ে আছে একজোড়া চোখ। চোখের পর্দায় আসে শূন্য খেয়াঘাট, দূরে দূরে সবল ডানার চিল, অন্ধ ধৃতরাষ্ট্র, চাহে কোই মুঝে জংলি কহে, আরও কত রক্ত চাই তব প্রীতি তরে, ধানের ক্ষেতে মশাল আগুন, লকআপের আর্তনাদে বাতাস কাঁপে, শিক্ষকদের চেয়ারে ভাঙনের শব্দ, রং ও রেখায় জাগে পুরাণপ্রতিমা, উন্নয়ন আর উৎসব শুষে খায় জলাভূমি, কুয়াশার ওপারে পলিথিনে মোড়া চাঁদ, জোড়া চোখ ঘটনার ঢেউয়ে ঢেউয়ে সাঁতরায়, দূরে কোথাও আগুনবরণ আকাশে বাজে ‘ভোর ভয়ি’।
♦ সপ্তম পর্ব ♦
একটা ছাপাখানা ছিল আমাদের৷ কলেজ স্ট্রিটে ইহুদি মার্কেটের ভেতর, ওই যেখানে বাটার দোকানের মাথায় BATA লেখা চারটে বাক্স খাড়াখাড়ি দাঁড়িয়ে সারাদিন ঘুরপাক খেত, সেই মার্কেটে৷ শুনেছি, এই বাজারের মালিকানা ছিল কংগ্রেস নেতা অশোককৃষ্ণ দত্তদের৷ পুরোটাই জুতো-চপ্পলের পাইকারি বাজার৷ বাংলার মফসসল গ্রামে, আসামে মণিপুরে অরুণাচলে এই বাজার থেকে পেটি পেটি জুতো-চপ্পল যেত৷ প্রধানত চপ্পল৷ এখন যায় কিনা জানি না৷ শুনতে পাই, দেশের জুতো-চপ্পলের বাজার দিল্লির দখলে চলে গেছে৷ এখানে ব্যবসায়ীদের ৭০ শতাংশ ছিল বাঙাল৷ ১৯৪৭-এর আগে ও পরে পূর্ববঙ্গের ভিটেমাটি ছেড়ে-আসা মানুষ৷ ৩০ শতাংশ অবাঙালি, চামড়া সোল স্পঞ্জ অ্যাডেসিভ ইত্যাদির কারবারি৷ আর তিন কি চার ঘর ছিল পেটি-নির্মাতা৷ কাঠ, টিনের পাতি, পেরেকের হাতুড়ির মাথায় ঠোকাঠুকি ভোর থেকে রাত৷ এঁরা ছিলেন গরিব লেখাপড়া না-জানা মুসলমান৷ হাওড়া জেলার দূরগাঁয়ের বাসিন্দা৷ শেনিবার বিকেলে দেশে যেতেন, ফিরতেন সোমবার৷ পুজোর সিজনে অবশ্য বাড়ি যাওয়া হত না মাসখানেক৷ আমাদের ছাপাখানার পাশের ঘরগুলো ছিল এঁদের৷ বাবাকে এঁরা মান্য করতেন৷ ডাকতেন বাসুবাবু৷ কারণ প্রেসের নাম ছিল বাসুদেব প্রিন্টিং ওয়ার্কস৷
ট্রেডল মেশিন ও হ্যান্ডকম্পোজের যুগের জিনিস৷ শুনেছি, ছাপাখানার ব্যবসায়ে আমাদের পরিবারের পরম্পরা আছে৷ ঢাকায় এই নামেই প্রেস ছিল, যা চালাতেন আমার পিতামহ সুধন্যকুমার পাল৷ বাবার যখন সাত বছর বয়স তিনি সন্ন্যাস রোগে (Apolexy) প্রয়াত হন৷ হাল ধরেন যৌথ পরিবারের অন্য সদস্যরা৷ দেশভাগ পর্যন্ত সেই প্রেস ছিল৷ দেশভিখারি হয়ে শহর কলকাতায় আছড়ে পরেও বাস্তুহীন বাবা পরম্পরা ছাড়তে পারেনি৷ কিংবা এমনও হতে পারে, অন্য কোনো কাজ জোটাতে পারেনি৷ কোনোভাবে কিছু টাকা-পয়সা জুটিয়ে ছাপাখানা বসায়৷
এই ছাপাখানা নিয়ে বলবার আছে অনেক৷ পরে বলা যাবে সেসব৷ আপাতত এটুকু বলি, এই ব্যাবসা থেকে আমাদের কোনোক্রমে চলবার মতো আয়ও হত না৷ দেখেছি, বাবা ঘি ফেরি করত দোকানে দোকানে৷ সাইকেলের হ্যান্ডেলে ভারী দুটো ব্যাগ ঝুলিয়ে৷ শুনেছি, বিদ্যাসাগর কলেজের মর্নিং সেকশনে কী-একটা কাজ করত৷ মা ঠোঙা বানাত৷ তিন-চারটে বাঁধা দোকানে আমি দিয়ে আসতাম৷ পয়সা নিয়ে আসতাম৷ ভাই তখন খুব ছোটো৷ গৃহশিক্ষক রেখেছিল মা৷ দু-মাসের বেতন না পেয়ে তিনি আর আসেননি৷ আমার যে ঠিকঠাক স্কুলে পড়া হল না, তার মূলে তো প্রয়োজনীয় আয়ের অভাব৷ আমার বইয়ের জন্য বা টুইশন ফি-র জন্য আত্মীয়দের কাছে মা ভিক্ষা করতে বেরত, সেকথা আগে বলেছি৷
আমার লেখাপড়ার জন্য বাবা চুরি করেছিলেন৷ হ্যাঁ চুরি৷ বইচুরি৷ এই ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে আছে চৌষট্টির দাঙ্গা৷
চারদিকে চিৎকার৷ আমি আর বোন একটা মোটা খদ্দরের চাদর জড়িয়ে মায়ের গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে কাঁপছি৷ মাথার ওপর উড়ছে মশাল৷ উত্তর থেকে দক্ষিণে৷ দক্ষিণ থেকে উত্তরে৷ বস্তির চালায় পড়ছে৷ বালতি বালতি জল ঢালা হচ্ছে৷ শিবতলার মাঠের পুবদিকে ইমানুর-আনিসুরদের বস্তি জ্বলে গেল৷ কেউ ছিল না সেখানে৷ গোলামের বস্তি দাউদাউ জ্বলে উঠল৷ জ্বলন্ত আস্তাবল থেকে কোনোক্রমে বেরিয়ে-আসা দুটো ঘোড়া রাস্তায় ছোটাছুটি করতে থাকল তীব্র চিৎকারে
তখন আমি ১২ কি ১৩৷ দাঙ্গা কী জিনিস জানি না৷ যদিও উদবাস্তু, কোনো মুসলমান সম্পর্কে কটুকথা বাড়িতে বা আশেপাশে শুনিনি, ইমানুর-আনিসুরদের থেকে আমরা যে আলাদা কখনও কেউ বলেনি৷ চোখের সামনে দেখেছি প্রিয়বন্ধু ইমানুর-আনিসুরদের বস্তি পুড়ে গেল৷ এটাই দাঙ্গা৷ বড়ো হয়ে শৈলেশকুমার বন্দোপাধ্যায়ের [Press, বানান শুধরে নেবেন] লেখা পড়ি: কাশ্মীরের শ্রীনগরে হজরত বাল মসজিদে রক্ষিত এবং মুসলমানদের দ্বারা পবিত্র বিবেচিত পয়গম্বর মহম্মদের চুল রহস্যজনকভাবে অপহৃত হয় বলে ১৯৬৩ সালের শেষভাগে ষোষণা করা হয়৷ ফলে কাশ্মীর সহ ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের এক শ্রেণির মুসলমান সভা, শোভাযাত্রা, সংঘর্ষ ইত্যাদির মাধ্যমে তাঁদের ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকেন৷ ইতিমধ্যে ৪ জানুয়ারি ওই পবিত্র কেশ অমনি রহস্যজনকভাবে ফিরে পাবার সংবাদ প্রচারিত হয়৷ কিন্তু ৩ জানুয়ারি পূর্ব পাকিস্তানের (অধুনা বাংলাদেশ) খুলনা ও যশোরে এক শ্রেণির মুসলমান সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর ব্যাপক আক্রমণ লুটপাট ও নিগ্রহ চালায়৷ এই উপদ্রব চলে কয়েকদিন ধরে৷ কয়েক লক্ষ হিন্দু পালিয়ে আসে পশ্চিমবঙ্গে৷ এর প্রতিক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গের ২৪ পরগনা, নদীয়া, গঙ্গার তীরবর্তী শিল্পাঞ্চল ও কলকাতায় মুসলিম-বিরোধী দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে৷ বাংলার বাইরেও দাঙ্গার আগুন জ্বলে৷
১২ কি ১৩ বছরের আমি-র সেই আগুন-লাগা একটা রাত মনে করতে পারি৷ আমরা তিন ভাইবোন শুয়ে পড়েছি৷ বাবা তখনও ফেরেনি৷ দরজায় হঠাৎ ধাক্কা: বাইরে আসো, বাইরে আসো, মশাল ছুড়তাছে, পুইড়া মরবা৷ মা আমাকে আর বোনকে বিছানা থেকে তুলে টেনে উঠোন পেরিয়ে রাস্তায় নিয়ে এল৷ কোলে ভাই ৫ কি ৬ বছরের৷—শিবতলার মাঠে খোলা আকাশের নীচে দাঁড়ালাম৷ অনেক মানুষ এসেছে৷ চারদিকে চিৎকার৷ আমি আর বোন একটা মোটা খদ্দরের চাদর জড়িয়ে মায়ের গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে কাঁপছি৷ মাথার ওপর উড়ছে মশাল৷ উত্তর থেকে দক্ষিণে৷ দক্ষিণ থেকে উত্তরে৷ বস্তির চালায় পড়ছে৷ বালতি বালতি জল ঢালা হচ্ছে৷ শিবতলার মাঠের পুবদিকে ইমানুর-আনিসুরদের বস্তি জ্বলে গেল৷ কেউ ছিল না সেখানে৷ গোলামের বস্তি দাউদাউ জ্বলে উঠল৷ জ্বলন্ত আস্তাবল থেকে কোনোক্রমে বেরিয়ে-আসা দুটো ঘোড়া রাস্তায় ছোটাছুটি করতে থাকল তীব্র চিৎকারে৷ তারা পালাবার পথ খুঁজে পায় না৷
ফুটপাথ জুড়ে ছড়িয়ে আছে বই৷ কোথাও কোথাও ধোঁয়া উড়ছে৷ এই দোকানগুলো মূলত স্কুল বইয়ের এবং এদের মালিকরা মুসলিম৷ পুলিশের গাড়ি দেখে দু-চারজন এসেছে৷ রাস্তা শুনশান৷ গাড়ি নেই৷ এরকম হতে পারে, বাবা কখনও ভাবেনি৷ এই দোকান- মালিকরা সবাই তার অনেকদিনের চেনাজানা৷ এদিক-ওদিক হাঁটতে হাঁটতে ইউনিভার্সাল আর্ট গ্যালারির (ছবি তোলার স্টুডিয়ো) বন্ধ দরজার কাছে একটি বই বাবার চোখে পড়ে
সে-রাতে বাবা ঘরে ফেরেনি৷ ফিরতে পারেনি৷ পরের রাতেও৷ বাবার মুখে শুনেছি, আটকে রেখেছিলেন কাঠের পেটি বানানোর সেই মুসলমান কর্মীরা৷ গুন্ডাদের হাত থেকে বাঁচতে বাবা ওঁদের ভরসা৷ ওঁরা সবাই ধুতি পরে ছাপাখানার ভেতর ঢুকে গেলেন৷ দরজা বন্ধ করে টেবিলে বসেছিল বাবা৷ মার্কেটের লোহার গেট আগেই বন্ধ ছিল৷ পরের দিন ও রাতটাও প্রায় একইভাবে কাটে৷ স্নান-খাওয়া নেই৷ রাতের দিকে মার্কেটের বাইরে চিৎকার চেঁচামেচি শোনা যায়৷ তখনই লুটপাট হয়৷ তৃতীয় দিন বেলার দিকে কোনোভাবে খবর পেয়ে পুলিশ আসে৷ সেই মুসলমান কর্মীদের নিয়ে যায়৷ বাবাকেও বেরিয়ে আসতে বলে৷ বেরিয়ে এসে দেখে ‘হুগলি বুক ডিপো’ সহ চারটি বইয়ের দোকানেই লুটপাট হয়েছে৷ ফুটপাথ জুড়ে ছড়িয়ে আছে বই৷ কোথাও কোথাও ধোঁয়া উড়ছে৷ এই দোকানগুলো মূলত স্কুল বইয়ের এবং এদের মালিকরা মুসলিম৷ পুলিশের গাড়ি দেখে দু-চারজন এসেছে৷ রাস্তা শুনশান৷ গাড়ি নেই৷ এরকম হতে পারে, বাবা কখনও ভাবেনি৷ এই দোকান- মালিকরা সবাই তার অনেকদিনের চেনাজানা৷ এদিক-ওদিক হাঁটতে হাঁটতে ইউনিভার্সাল আর্ট গ্যালারির (ছবি তোলার স্টুডিয়ো) বন্ধ দরজার কাছে একটি বই বাবার চোখে পড়ে৷ তুলে নেয়৷ ভেবেছিল, পুলিশ কিছু বললে দিয়ে দেবে৷ পুলিশ কিছু বলেনি৷ আটকে-পড়া মানুষদের নিরাপদ জায়গায় পৌঁছে দেওয়া তখন তাদের বড়ো দায়িত্ব৷ বাবা বইটি ব্যাগে ঢুকিয়ে নেয়৷ প্রথমে আমহার্স্ট স্ট্রিট থানা৷ সেখান থেকে আরেকটা গাড়িতে করে বাবাকে বাড়ি পৌঁছে দেয় পুলিশ৷ স্নান নেই খাওয়া নেই ঘুম নেই বিধ্বস্ত চেহারা৷ একবুক উদবেগ থেকে উদ্ধার পেল মা৷ কোনো খবর ছিল না, খবর নেওয়ার উপায় ছিল না, নানারকম খারাপ খবর আসছিল৷ সন্ধেয় ব্যাগ থেকে একটা বই বের করে আমার হাতে দিয়ে বলে, তর লাগব মনে কইরা আনছি৷ রাস্তায় পইড়া ছিল৷ কাউরে কিছু কওনের দরকার নাই৷ বইটা ছিল ইংলিশ টু বেঙ্গলি ডিকশনারি৷ এ টি দেবের৷ আমার বহুকাল কাজে লেগেছে৷ বই কিনে দিতে পারে না ঠিক, কিন্তু ছেলের পড়ার কথা বাবার মাথায় ছিল সেই দুর্যোগেও৷
পিতৃদেব আরেকটা ‘চুরি’ করেছিল তার বখাটে ছেলের জন্য৷ আমি তখন ক্লাস নাইনে৷ আমাদের স্কুলের প্রশ্নপত্র ছাপা হত অ্যান্টনিবাগানের কোনো প্রেসে৷ সেখানে বাবার যাতায়াত ছিল৷ প্রেসের টেবিলের পাশে পড়ে-থাকা বাতিল গালিপ্রুফ সরিয়ে পকেটে ঢুকিয়ে নেয় মালিকের অগোচরে৷ ক্লাস নাইনের বাংলা দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্নের প্রুফ৷ বাতিল বলেই হয়তো প্রেস মালিক ফেলে রেখেছিলেন৷ তাছাড়া বাবা তাঁর বিশেষ পরিচিত৷ সন্দেহ করার কারণ নেই৷ সেই সুযোগটা নেয় বাবা৷ এখন বুঝি, কী মানসিক যন্ত্রণা পেয়েছে সে আমার দুর্মতিতে৷ হয়তো ভেবেছে, যদি পড়ায় মতি ফেরে, যদি রেজাল্ট একটু ভদ্রলোকের মতো হয়৷ আমাকে বলা হয়েছিল, এটা সাজেশন৷ অন্য একটা স্কুলের প্রশ্নপত্র৷ এরকম প্রশ্ন তোমার পরীক্ষায় আসতে পারে৷ ইম্পরটান্ট ভেবে পড়তে পারো৷ ক্লাস করি বা না করি, বই নিয়ে বসি বা না বসি, প্রতি বছর পরীক্ষায় পাস করে যেতাম কোনোক্রমে৷ না, টোকাটুকির সুযোগ ছিল না, রুম কলেকশন কিছু হত৷ বাকিটা কীভাবে যেন লিখে ফেলতাম৷ অঙ্কে অবশ্য করুণ দশা৷ এবার ‘সাজেশন’ যেন আমার সামনে পথরেখা মেলে দিল৷ জয়াপিসির কাছে গেলাম সাহায্য চাইতে৷ তিনি বি এ ক্লাসের বই থেকে নোট তৈরি করে দিলেন৷ মনে আছে, ‘অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে/তব ঘৃণা যেন তারে তৃণসম দহে’-র ভাব সম্প্রসারণ লিখে দেন তিনি৷ সেই ‘সাজেশন’ হুবহু প্রশ্নপত্র হয়ে এল৷ মনের আনন্দে লিখলাম৷ রেজাল্ট বেরনোর আগে বাংলা্র শিক্ষক অপূর্ব রায় একদিন জিজ্ঞেস করলেন, তুই তো ক্লাসই করিসনি৷ লিখলি কী করে? তিনি সন্দিগ্ধ৷ অন্য শিক্ষকদের কাছে খবর নিলেন৷ সব বিষয়ে মোটামুটি৷ শুধু বাংলা দ্বিতীয় পত্রে ফাটাফাটি৷
বাবার ‘চুরি’ আমাকে লেখাপড়ায় ফেরাল৷
♦—♦♦—♦♦—♦♦—♦
ক্রমশ…
আগের পর্ব পড়ুন: পর্ব ৬
❤ Support Us







