Advertisement
  • পা | র্স | পে | ক্টি | ভ রোব-e-বর্ণ
  • অক্টোবর ১, ২০২৩

কাউকে পরবাসী ভাবতে দেননি

অবিজ্ঞপিত, অনাড়ম্বর অবস্থান থেকে কখনো সরে যাননি, বাংলা সাহিত্যের অন্যতম নিখুঁত কবি। তাঁর অঙ্গীকারে অহংকার ছিল না, ছিল শাণিত আত্মমর্যাদা

বাহার উদ্দিন
কাউকে পরবাসী ভাবতে দেননি

সাহিত্যের দুই জনক বিজিৎকুমার ভট্টাচার্য এবং ব্রজেন্দ্রকুমার সিংহ

 
অসমে, বাংলা আর অসমিয়ায় বহু লিটল ম্যাগ ও সাময়িক পত্রিকার জন্ম হয়েছে, মারাও গেছে অকালে, ব্যতিক্রম বিজিৎ ভট্টাচার্যের ‘সাহিত্য’। আয়ুষ্মাণ, বিশুদ্ধ কবিতা পত্রিকা। টিঁকে আছে, আশা করি টিঁকিয়ে রাখবেন বিজিৎদার সহগামী, সহমর্মী শিখা ভট্টাচার্য। কবি আর সংখ্যাহীন কবি-লেখকের ধাত্রী।
 
কলকাতায়, কিংবা ঢাকায় তখন যা সম্ভব হয়নি, দেশভাগের পর, অশ্রুসিক্ত উচ্চারণ নিয়ে, হাইলাকান্দি থেকে নিখুঁত কবিতা পত্রিকা ‘স্বপ্নিল’ প্রকাশ করেছিলেন করুণা সিন্ধু দে, ত্রিদিব মালাকার আর দীপক ভট্টাচার্য। লিখতেন খন্ডিত বঙ্গভূমির প্রতিষ্ঠিত, উদীয়মান আর নবীন কন্ঠের কবিরা। করুণা সিন্ধু আর ত্রিদিব মালাকার লেখাপড়ার জন্য কলকাতায় চলে এলেন, দীপক ভট্টাচার্য কমিউনিস্ট পার্টি করতেন; রোমান্টিকতায়, মুক্তচিন্তায় বিশ্বাস করত না তাঁর দল, ‘স্বপ্নিল’ বন্ধ হয়ে গেল।
 
দ্বিতীয় স্তরে হাইলাকান্দি থেকে ত্রৈমাসিক কবিতা পত্রিকা বের করলেন বিজিৎ ভট্টাচার্য। প্রধান সহযোগী ব্রজেন্দ্রকুমার সিংহ। দুজনেই অধ্যাপক, ব্রজনে বাবু অর্থনীতির, বিজিৎদা পদার্থ বিদ্যার। ওই যে ষাটের দশকের গোড়ার দিকে তাঁরা সাহিত্য পত্রিকার যৌথ জনক হয়ে উঠলেন, সে পিতৃত্ব আর অভিভাবকত্বের অবসান হয়নি কখনো। সাহিত্য কালোক্রমে ঈশান বাংলার নয় কেবল, সমগ্র আসামের সংস্কৃতিপ্রেম, বৃহৎ প্রেমের অনুশীলন মঞ্চ হয়ে উঠল। আসামের বাইরের কবি লেখকদেরও উজ্বল মুখপত্রের চেহারা নিল ‘সাহিত্য’। যাঁরা পেশাগত কারণে বরাক উপত্যকা ছেড়ে ভারতের বিভিন্নপ্রান্তে ছড়িয়ে পড়লেন, তাঁদেরও অবলম্বন হয়ে থাকল ‘সাহিত্য’-র ছায়াতলা।
 

বইমেলায় সাহিত্যের আসর সাজিয়ে শিখা ভট্টাচার্য

বইমেলায় সাহিত্যের আসর নিয়ে শিখা ভট্টাচার্য

নিয়মিত লেখা চাইতেন, না পাঠালেই মৃদু, অভিমানী ভর্ৎসনা। অর্থাৎ, একদা বরাকবাসী কোনো কবিকে পরবাসী হতে দেননি তিনি। সম্ভবত, বুদ্ধদেব বসু, সঞ্জয় ভট্টাচার্য, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, আব্দুল মান্নান সৈয়দ ছাড়া অন্য কাউকেই, সম্পাদনা আর সাহিত্যচর্চায় এত নিবিড়ভাবে জড়িয়ে থাকতে যায়নি। বিজিৎদার ক্ষেত্রে কাজটি অনেক কঠিন। প্রথমত, সাহিত্য-র প্রকাশকেন্দ্র হাইলাকান্দির মতো বিত্তহীন, অনুন্নত একটি শহর। দ্বিতীয়ত, সচেতনভাবে বাণিজ্যিক বা সরকারি সাহায্য থেকে দূরবর্তী অবস্থান বজায় রাখার অনড় সংকল্প। অবিজ্ঞপিত, অনাড়ম্বর অবস্থান থেকে কখনো সরে যাননি, বাংলা সাহিত্যের অন্যতম নিখুঁত কবি। তাঁর অঙ্গীকারে অহংকার ছিল না, ছিল শাণিত আত্মমর্যাদা। এই অনুভবই, হয়তো বা নিঃসময়ের প্রতিনিধির মর্যাদা দেবে ‘সাহিত্য’ কে, সম্পাদকের স্মৃতিকেও অপরিহার্য করে তুলবে।
 
বিজিৎদার কবিতা এবং অন্যান সাহিত্য কীর্তি নিয়ে কথা বলার সময় নয় এটি, তাঁর রচিত বহু অনুভূতি ভুলে থাকা অসম্ভব। তাঁর দায়বদ্ধতা, যাপিত মতাদর্শের প্রতি তাঁর আমৃত্যু আস্থা আমাদের বাতিঘর হয়ে থাক, আমরা যে কোনো সামাজিক সঙ্কটে যেন তাঁর মতো অকপটে সত্য বলার সাহস অর্জন করি, বন্দীরে আবার কেন বন্দী কর মহারাজ প্রজানুরঞ্জন।
 

♦–♦♦–♦♦–♦♦–♦♦–♦


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!