Advertisement
  • ন | ন্দ | ন | চ | ত্ব | র
  • মে ৮, ২০২৫

দেশকাল আর সময়ের বাধা পেরিয়ে, কান উৎসবে ফিরছে ‘অরণ্যের দিনরাত্রি’

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
দেশকাল আর সময়ের বাধা পেরিয়ে, কান উৎসবে ফিরছে ‘অরণ্যের দিনরাত্রি’

সত্যজিৎ রায়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র, ১৯৭০ সালে নির্মিত ‘অরণ্যের দিনরাত্রি’। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের উপন্যাসের সুচারু ভঙ্গীমা আর কাহিনীর পরতে পরতে, খাঁজে খাঁজে লুকিয়ে থাকা রহস্যের আবরণ। একদল শহুরে যুবকের নিছক বনভ্রমণের গল্প নয়, স্বাধীনোত্তর ভারতের নাগরিক জনমানসের গভীর অন্বেষণ। আধুনিকতা আর আত্মসন্ধানের দ্বন্দ্ব, শ্রেণী, লিঙ্গ আর সম্পর্কের জটিলতা, আর সভ্যতা বনাম প্রাকৃতিকতার টানাপোড়েন। নিঃশব্দ চাহনি, অসমাপ্ত সংলাপ, নিপুণ ক্যামেরার কারুকার্য। সত্যজিতের বিরল, অন্তর্মুখী জগতের কথন।

দেশকালের সীমানা পেরিয়ে এবার ভারতীয় চলচিত্রকারের, বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ চলচ্চিত্র মঞ্চ কান-যাত্রা। শুধু বাংলা নয়, গোটা পৃথিবীর জন্য এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। কান চলচ্চিত্র উৎসব ২০২৫-এ ৫৬ বছর পর নতুন প্রাণ নিয়ে হাজির হচ্ছে ‘অরণ্যের দিনরাত্রি’। ফোর-কে রিস্টোর সংস্করণ ‘কান ক্লাসিকস’ বিভাগে প্রদর্শিত হবে। উপস্থাপনায় থাকবেন অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুর আর বিখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা ও ‘দ্য ফিল্ম ফাউন্ডেশন’-এর বোর্ড সদস্য ওয়েস অ্যান্ডারসন।

সাদা-কালো ক্যানভাসে রচিত এক অন্তর্মুখী চারু-দর্শন। নতুন দর্শক, নতুন প্রেক্ষাপট, তবু শর্মিলার নিঃশব্দ চাহনি, সৌমিত্রর দ্বিধা— সেই আবহেই ফিরবে। রবি ঘোষ, পাহাড়ী সান্যাল, সিমি গারেওয়ালের মতো শিল্পীদের উপস্থিতিতে গতিময় হয়ে উঠবে বড়োপর্দা। সিনেমায় চার তরুণের ঝাড়খণ্ডের জঙ্গলে ঘোরাঘুরি, নিস্তব্ধতা আর মৌনমুখরতার কাব্যিক ভাষা, পর্দায় ফুটিয়ে তুলেছিলেন সত্যজিত। প্রবাহমান স্মৃতির ধারায় ভাসতে ভাসতে, শর্মিলা ঠাকুর বলেন, ‘অরণ্যের দিনরাত্রি সময়কে ছাপিয়ে চিরকালের হয়ে ওঠার অমোঘ শিল্প। নতুন প্রজন্মও অবাক বিস্ময়ে তাকায় সেদিকে। আমি তখন ‘আরাধনা’ ছবির শুটিং করছিলাম, মানিকদা হঠাৎ এক মাসের শিডিউল চেয়ে বসেন। প্রচণ্ড গরমে আমাদের শুটিং হত।’ খ্যাতনামা ছবি নির্মাতা ওয়েস অ্যান্ডারসন বলেন, ‘সত্যজিৎ রায়ের ছাপ থাকা যে কোনো ছবিই সংরক্ষণযোগ্য ও মূল্যবান। তবে প্রায় বিস্মৃত ‘অরণ্যের দিনরাত্রি’ হীরের দ্যুতির মতোই, স্বমহিমায় উজ্জ্বল। উপন্যাসের ছোঁয়া, আধুনিকথার পাঠ। অর্থনৈতিক-সামাজিক বিশাল ক্যানভাসে শ্রেণী ও লিঙ্গের সংঘর্ষ, শহুর বনাম গ্রামীণ জনপদ, তাদের মিশে যাওয়া কিংবা দ্বন্দ্বের কথা। নারীর হৃদয়ের জটিলতা, পুরুষের ‘পৌরুষ’-এর বর্বর ছবি চিনে ফেলা।’

জানা যাচ্ছে, চলচ্চিত্রটির রিস্টোরেশনের কাজ হয়েছে দ্য ফিল্ম ফাউন্ডেশনস ওয়ার্ল্ড সিনেমা প্রজেক্ট, ফিল্ম হেরিটেজ ফাউন্ডেশন, দ্য ক্রাইটেরিয়ন কালেকশন আর জনাস ফিল্মস-এর যৌথ উদ্যোগে। মূল নেগেটিভ সংরক্ষিত করেছিলেন প্রযোজক পূর্ণিমা দত্তা। ফিল্ম হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের পরিচালক শিবেন্দ্র সিং ডুংগারপুর, আনন্দের এই মাহেন্দ্রক্ষণে দাঁড়িয়ে বলেছেন, ‘৫৬ বছর পরে এই ছবির সৌন্দর্য ও শিল্পগুণকে পুনরুজ্জীবিত করে দেখা অত্যন্ত আবেগময় অভিজ্ঞতা। সূক্ষ্ম মনস্তাত্ত্বিক চিত্রণ, সংগীতের মনমুগ্ধ ব্যবহার, চরিত্রদের রসায়ন, শর্মিলা ঠাকুরের অনবদ্য অভিনয় এবং মূল-নিবাসী নাগরিকদের প্রতি রায়ের সংবেদনশীল উপস্থাপনা, নির্বাক বিস্ময়ে চুপ করিয়ে রাখে আমাদের।’

এই বিভাগে, শতবর্ষপূর্তি উপলক্ষে প্রদর্শিত হবে চার্লি চ্যাপলিনের ‘দ্য গোল্ড রাশ’। তা ছাড়াও,আলেহান্দ্রো গনসালেস ইনিয়ারিতুর ‘আমোরেস পেরোস’,এডওয়ার্ড ইয়াং-এর ‘ই ই’, জন উ-র ‘হার্ড বোয়েল্ড’, মার্সেল পাগনলের ‘মারলুস’ এবং সুমিত্রা পেরিস পরিচালিত শ্রীলঙ্কার চলচ্চিত্র ‘গেহেনু লামাই’ দেখবেন বিশ্বের সিনেমা প্রেমিক-প্রেমিকারা।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!