- স | হ | জ | পা | ঠ
- এপ্রিল ৮, ২০২৫
জিন ইঞ্জিনিয়ারিং এর কামাল, ১২ হাজার বছর পর প্রত্যাবর্তন ‘ডায়ার উলফ’-এর
১২ হাজার বছর আগে প্রাগৈতিহাসিক ডায়ার উলফ ছিল আমাদের গ্রহে বিচরণকারী সবচেয়ে বড়ো নেকড়ে। পৃথিবীর ভূখণ্ড থেকে আকস্মিক অদৃশ্য হয়ে যায় ওরা। সেই বিলুপ্ত নেকড়ের ‘পুনর্জন্ম’ ঘটালেন বিজ্ঞানীরা। টাইম ম্যাগজিনে নেকড়ের প্রত্যাবর্তনে ঝড় উঠেছে বিশ্বজুড়ে।
জনপ্রিয় টিভি সিরিজ ‘গেম অফ থ্রোনস’ -এ নেড স্টার্কের সন্তানরা তুষারময় জঙ্গলে খুঁজে পেয়েছিল কয়েকটি নেকড়ে সন্তান। স্টার্কের বারণ সত্বেও শাবকগুলিকে লালন-পালন করেছিল ওরা। আজ থেকে ১২ হাজার বছর আগে বিলুপ্ত প্রাগতৈহাসিক হিংস্র সেই নেকড়েগুলিই ‘ডায়ার উলফস’। পৃথিবীর ভূখণ্ড থেকে আকস্মিক জেনেটিক সমস্যার ফলে, উল্লেখযোগ্য কোনো চিহ্ন না রেখেই অদৃশ্য হয়ে যায় ওরা। সেই বিলুপ্ত নেকড়ের ‘পুনর্জন্ম’ ঘটালেন বিজ্ঞানীরা। টাইম ম্যাগজিনে নেকড়ের প্রত্যাবর্তনে হতবাক গোটা বিশ্ব। বিজ্ঞানীরা জানালেন ‘ডায়ার উলফ’-ই প্রথম প্রাণী, যাঁদের বিলুপ্তির পর ফিরিয়ে আনা হল।
রোমুলাস এবং রেমুস ছুটছে, খেলছে, কামড়াচ্ছে, একে অপরকে আদর করছে। কিন্তু এই সাদা রঙের ৬ মাস বয়সী শাবকগুলোর মধ্যে অস্বাভাবিক কিছু রয়েছে। প্রথমত তাদের আকার। এই বষয়েই তারা প্রায় ৪ ফুট লম্বা আর ৮০ পাউন্ডের বেশি ওজনের। পূর্ণ বয়স্ক হলে ওরা ৬ ফুট লম্বা ও ১৫০ পাউন্ড পর্যন্ত বেড়ে উঠতে পারে। অনান্য গৃহপালিত প্রাণীর থেকে ওদের মেজাজ আলাদা। মানুষের থেকে দূরে দূরে থাকা তাদের অভ্যাস। এমনকি যিনি ওদের জন্ম থেকে লালন-পালন করেছেন, তিনি কিছুটা কাছে আসলে রোমুলাস আর রেমুস দূরে পালিয়ে যায়। পোষা কুকুরের মতো আচরণ নয়, বন্য শ্বাবকের মতো আচরণ। কারণও যথেষ্ট, এই শাবকগুলো আসলে বন্য চতুষ্পদ। আরো সঠিকভাবে বলতে হলে, ওরা ডায়র উলফ– একা থাকার অধিকার ওদের আছে।
আদিম সে সময়ে, ভেনেজুয়েলা থেকে শুরু করে কানাডা পর্যন্ত বিস্তৃত জঙ্গলে ছিল ওদের বসবাস। কিন্তু বিগত ১০ হাজার বছরের সময় ধরে তাদের আর দেখা যায়নি পৃথিবীর বুকে। সাম্প্রতিক সময়ে আমেরিকা জুড়ে অনেক ডায়র উলফের হাড় পাওয়া গেছিল। তৈরি হয় বিলুপ্ত প্রাণীটিকে আবার ফিরিয়ে আনার সুযোগ। টেক্সাসভিত্তিক কলোসাল বায়োসায়েন্সেস নামক একটি সংস্থা এই চমকপ্রদ কাজ করেছে। সংস্থাটি প্রাণীর জিনগত পরিবর্তন নিয়ে কাজ করে। সংস্থাটি এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছে, ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর, তাঁরা ৩টি নেকড়ের বাচ্চা সফলভাবে জন্ম দিয়েছেন। সেখানে আরও বলা হয়, ‘এটি বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির একটি বড় মাইলফলক। বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীদের পুনরুজ্জীবিত করার প্রযুক্তির দিকে এটি আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। অন্যান্য বিপন্ন প্রজাতির প্রাণীকে রক্ষা করার জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।’ কলসাল বায়োসায়েন্স, আরো জানিয়েছে, ডায়র উলফের শাবকগুলো তৈরি করতে তাঁরা প্রাচীন ডিএনএ, ক্লোনিং আর জিন এডিটিং প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে। জাদুঘরে সংরক্ষিত এই নমুনাগুলি গবেষকদের জিনগত বৈশিষ্ট্যগুলি চিহ্নিত করতে সাহায্য করেছে। বিজ্ঞানীরা বিশেষ প্রযুক্তির ব্যবহার করে ধূসর নেকড়ের জিনে ২০টি পরিবর্তন করেন। এরপর সেই জিনটিকে কুকুরের ডিম্বাণুর সঙ্গে মিলিয়ে একটি কুকুরের গর্ভে রাখা হয়। এরপরেই জন্ম হয় ডায়ার উলফের মতো দেখতে কুকুর ছানাগুলির। সংস্থার তরফ থেকে এক্স হ্যান্ডলে একটি ভিডিও শেয়ার করা হয়েছে। কলোসালের প্রধান প্রাণী যত্ন বিশেষজ্ঞ, ম্যাট জেমস বলেছেন, আকারে ডায়ার উলফ বড়, গাঢ় পশম এবং শক্তিশালী চোয়ালের অধিকারি, চেহারার মিল থাকলেও আচরণের দিক থেকে, প্রাচীন নেকড়ের মতো হিংস্র এরা হয়তো হবে না।
কলোসালের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও হার্ভার্ড এবং এমআইটির জেনেটিক্স অধ্যাপক জর্জ চার্চ এক সাক্ষাৎকারে বলেন, এই প্রকল্প আমাদের প্রযুক্তির সক্ষমতার প্রমাণ। এক ফোঁটা রক্ত থেকে ক্লোনিং করে প্রাণী ফিরিয়ে আনা এখন সম্ভব — এটা এক বিশাল পরিবর্তনের সূচনা। দেয়ার উলফ ছাড়াও, কলোসাল জানিয়েছে, প্রাচীন ম্যামথ, ডোডো পাখি ও তাসমানিয়ান বাঘের পুনর্জীবনের প্রকল্পে কাজ করছে। এই সাফল্যে তাঁরা আগামীতে আরো বিলুপ্ত প্রাণী ফিরিয়ে আনবার ব্যাপারে আশাবাদী। মার্কিন ধনকুবের এলন মাস্ক এই খবর শুনে উচ্ছ্বসিত হয়ে লিখেছেন, ‘একটা ছোট পোষ্য উল-মামথ তৈরি করুন প্লিজ !’ বর্তমানে ডায়র উলফগুলিকে একটি অজ্ঞাত ২,০০০ একর এলাকায় রাখা হয়েছে। নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে ১০ ফুট উঁচু বেড়া দেওয়া হয়েছে সেখানে। পাশাপাশি প্রচুর নিরাপত্তা রক্ষী ড্রোন ও লাইভ ক্যামেরা নিয়ে সর্বদা সজাগ রয়েছে।
❤ Support Us








