Advertisement
  • বি। দে । শ
  • মার্চ ৪, ২০২৬

দুবাইয়ে আটক কাটোয়ার ৭, আতঙ্ক পরিবারে

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
দুবাইয়ে আটক কাটোয়ার ৭, আতঙ্ক পরিবারে

বাতাসে বারুদের গন্ধ। ঘন ঘন মিসাইলের ঝলক। টানা বিস্ফোরণ। দুবাইয়ে এমনটাই আশঙ্কার আবহে আটকা পড়েছেন কাটোয়া মহকুমার ৭ বাসিন্দা। প্রশাসনের পরামর্শে ঘরবন্দি ওই ব্যক্তিদের পরিবার উদ্বেগে রয়েছেন। আটকদের মধ্যে কেউ ইঞ্জিনিয়ার, কেউ নির্মাণ শ্রমিক, কেউ কম্পিউটার সেক্টরে কাজ করেন। কেতুগ্রামের বিল্বেশ্বরের বাসিন্দা রাকেশ শর্মা দুবাইয়ের একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত। বছরখানেক আগে বিয়ে করেছেন। স্ত্রী ববিতাকেও সেখানে নিয়ে গিয়েছেন। ববিতা সেখানে একটা শপিং মলে কাজ করে। রাকেশ বাড়িতে ফোন করে জানিয়েছে, দুবাই শারজা-সহ আশপাশ এলাকায় মুহুর্মুহু ড্রোন হামলা চলছে। মিসাইল আছড়ে পড়ছে। ববিতার মা চন্দনা সিংহ বলছিলেন, ‘মেয়ে ছবি পাঠিয়েছে। এইসব দেখে ভয়ে অস্থির হয়ে আছি। খুব দুশ্চিন্তায় আছি। কী করে যে ওরা ফিরবে!’

এদিকে কাটোয়ার বীজনগর গ্রামের বাসিন্দা পেশায় সিভিল ইঞ্জিনিয়ার সুমন চ্যাটার্জি সস্ত্রীক শারজায় থাকেন। সুমনের মা মুনমুন চ্যাটার্জি জানালেন, ‘ছেলের অফিস বন্ধ। ওয়ার্ক ফ্রম হোম করছে। সবথেকে চিন্তা বউমা অন্তঃসত্ত্বা। ওদের মে মাসে বাড়ি আসার কথা। কী যে হবে কিছুই বুঝতে পারছি না।’ কাটোয়ারই নয়াচরের যুবক রাহুল মণ্ডল সংসারের অভাব মেটাতে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেই দুবাইয়ে গিয়েছেন। সেখানকার একটি নির্মাণ সংস্থায়  কাজ করেন। সংসার বাঁচাতে গিয়ে এখন জীবন বাঁচানোর জন্য লড়ছেন। রাহুলের বাবা বিশ্বনাথ মণ্ডল দিনমজুর। মা চম্পা অন্যের বাড়িতে রান্না করেন। বিশ্বনাথ বলছিলেন, ‘ছেলে ফোন করেছে। কাঁদছে। বলছে, যুদ্ধ লেগেছে। ভয় পাচ্ছি। ঘরের মধ্যে আছি। বাড়ি যাব কী করে! এসব শুনে কি আর ভাল লাগছে, বলুন?’

চোখের সামনে মিসাইল হামলা দেখে ঘুম ছুটেছে পূর্বস্থলীর গাছা গ্রামের শাজাহান শেখ। দুবাইয়ের বুর্জ খলিফার কাছাকাছি থাকেন শাজাহান। বাড়িতে জানিয়েছেন, বুর্জ খলিফা ফাঁকা করে দেওয়া হয়েছে। বহুতলগুলোয় মিসাইল হানা হচ্ছে। একই অবস্থা মঙ্গলকোটের ধারসোনা গ্রামের রিপন শেখের পরিবারে। রিপন শারজায় একটা গাড়ি সার্ভিসিং সংস্থায় কাজ করে। বাড়িতে ফোন করে জানিয়েছে, রাতে ঘরে ফিরে রান্না চড়িয়েছি। আচমকা গোটা বিল্ডিংটা থরথর করে কেঁপে উঠল। বাইরে বেরিয়ে দেখে কিছুটা দূরেই একটা মিসাইল হানা হয়েছে। রাস্তায় আগুন জ্বলছে। কাজের জায়গা থেকে ছুটি দিলে কী হবে, বিমান পরিষেবাইতো বন্ধ। তাই দেশে ফেরার উপায় নেই। ওই পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছেন মঙ্গলকোটের বিধায়ক অপূর্ব চৌধুরি। বললেন, ‘রাজ্যে জানিয়েছি। যারাই ওখানে আছে, তারা সকলে যাতে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারে, সেই ব্যবস্থাই হচ্ছে।’


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!