- এই মুহূর্তে দে । শ
- জুন ২৪, ২০২৬
বকেয়া কর্মীদের বেতন, উধাও সংস্থার কর্ণধার । ভারত-বাংলাদেশের কয়েক’শ পরিযায়ী শ্রমিককে নগদ সহায়তা সিঙ্গাপুর সরকারের
মাসের পর মাস কাজ করেও মেলেনি বেতন। নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের সব পথও কার্যত বন্ধ। ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন ভারত ও বাংলাদেশের শত শত পরিযায়ী শ্রমিক। অবশেষে তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা করল সিঙ্গাপুর সরকার। বুধবার জানানো হয়েছে, বেতন না-পাওয়া, প্রতারিত হওয়া প্রায় ৪০০ জন শ্রমিককে জরুরি আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। নগদ অর্থের পাশাপাশি মিলবে খাদ্যসামগ্রী কেনার ভাউচারও।
সিঙ্গাপুরের বৃহত্তম শ্রমিক সংগঠন ‘ন্যাশনাল ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস’ (এনটিইউসি) এবং বেসরকারি সংস্থা ‘মাইগ্র্যান্ট ওয়ার্কার্স সেন্টার’ (এমডব্লিউসি) যৌথ ভাবে এ সহায়তা দেবে। ঘোষণা অনুযায়ী, প্রত্যেক শ্রমিক পাবেন ১০০ সিঙ্গাপুর ডলার নগদ এবং ১০০ সিঙ্গাপুর ডলারের ফেয়ারপ্রাইস সুপারমার্কেট ভাউচার। অর্থাৎ মোট ২০০ সিঙ্গাপুর ডলারের সহায়তা পৌঁছে যাবে প্রত্যেকের হাতে। বুধবার তুয়াস ভিউ ডরমিটরিতে গিয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে দেখা করেন এনটিইউসি-র সেক্রেটারি-জেনারেল তথা শ্রমিক নেতা ঙ চি মেং। তিনি জানান, গত দু–দিনে প্রায় ৪০ জন নিয়োগকর্তার কাছ থেকে ১৫০টি নির্মাণক্ষেত্রের চাকরির সুযোগও চিহ্নিত করা হয়েছে, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের দ্রুত বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা যায়।
ঙ চি মেং বলেছেন, ‘শ্রমিকদের এভাবে ফেলে রেখে দেওয়া, তাঁদের প্রাপ্য বেতন না-দেওয়ার ঘটনা কোনও ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এনটিইউসি এ বিষয়ে নিশ্চুপ থাকবে না।’ তিনি জানান, শ্রমিকদের বকেয়া বেতন আদায়ের জন্য সিঙ্গাপুরের শ্রম মন্ত্রক (এমওএম)-এর সঙ্গেও আলোচনা চলছে। ঘটনার সূত্রপাত চলতি সপ্তাহের শুরুতে। সোমবার ‘কেপিএ ইঞ্জিনিয়ারিং’ ও তার সহযোগী সংস্থা ‘এসকে ইন্ডাস্ট্রিজ’-এ কর্মরত ১০০-রও বেশি শ্রমিক ‘এমওএম’-এর পরিষেবা কেন্দ্রে গিয়ে সাহায্য চান। তাঁদের অভিযোগ, তিন থেকে চার মাস ধরে বেতন দেওয়া হয়নি। সংস্থার কর্তাদের সঙ্গেও কোনো যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। পরের দিন, অর্থাৎ মঙ্গলবার, ভারত ও বাংলাদেশের আরও শতাধিক জন শ্রমিক একই ধরনের অভিযোগ নিয়ে প্রশাসনের দ্বারস্থ হন। তাঁদের দাবি, শুধু বেতন নয়, আবাসনের ব্যবস্থাও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।
বুধবার ডরমিটরিতে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে ঙ জানতে পারেন, অধিকাংশেরই তিন মাসের বেতন বাকি। আবার অনেকের ক্ষেত্রে সেই সময়সীমা চার মাসে পৌঁছেছে। তামিল ও বাংলা ভাষার দোভাষীর সাহায্যে প্রায় ২০০ শ্রমিকের বক্তব্য শোনেন তিনি। শ্রমিকদের দুর্দশার আরও একটি দিক সামনে এসেছে। শ্রমিক নেতা জানিয়েছেন, ‘অনেকেই এখনো নিয়োগকারী সংস্থাকে দেওয়া এজেন্সি ফি শোধ করতে পারেননি। কেউ কেউ ঋণের দায়ে জর্জরিত।’ তাঁর আরও আশঙ্কা, অভিযুক্ত নিয়োগকর্তারা হয়তো এখন সিঙ্গাপুরেই নেই। এ পরিস্থিতিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে সিঙ্গাপুর সরকার। শ্রম প্রতিমন্ত্রী দিনেশ বাসু দাশ জানিয়েছেন, তদন্ত শেষ হলে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সিঙ্গাপুর সরকারের তরফে ঘোষণা করা হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের বিশেষ পাস দেওয়া হবে, যাতে তাঁরা সিঙ্গাপুরে বৈধ ভাবে থাকতে পারেন এবং নতুন কাজের সন্ধান চালিয়ে যেতে পারেন। বর্তমানে অধিকাংশ শ্রমিকই শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা স্থাপন বা নির্মাণ শিল্পে যুক্ত। সে কারণে তাঁদের জন্য নতুন কাজের সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনাও তুলনামূলক বেশি বলে মনে করছে প্রশাসন। তুয়াস ভিউ ডরমিটরিতে থাকার মেয়াদ শেষ হলে শ্রমিকদের সেংকাং অঞ্চলে অবস্থিত শ্রম মন্ত্রকের অনবোর্ডিং সেন্টারে স্থানান্তরিত করা হবে বলেও জানিয়েছে সরকার। পাশাপাশি, বেতন-সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির দায়িত্বে থাকা ‘ট্রাইপার্টাইট অ্যালায়েন্স ফর ডিসপিউট ম্যানেজমেন্ট’ও শ্রমিকদের আইনি ও প্রশাসনিক সহায়তা দিচ্ছে।
এদিকে তদন্তের আওতায় এসেছে ‘কেপিএ ইঞ্জিনিয়ারিং’ ও ‘এসকে ইন্ডাস্ট্রিজ’। ‘কেপিএ ইঞ্জিনিয়ারিং’ মূলত শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করে। জানা গিয়েছে, ২০২৩ সালে ‘এসকে ইন্ডাস্ট্রিজ’ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন যে পরিচালক, তিনি ২০২৫ সালে একই দিনে আরও তিনটি সংস্থা খোলেন। প্রতিটির একমাত্র পরিচালক হিসেবেও নিজের নামও নথিভুক্ত করেন। সম্ভাব্য আইনভঙ্গের অভিযোগে ওই সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে সিঙ্গাপুরের শ্রম মন্ত্রক। তদন্ত চলছে, তবে, বিদেশে কাজের স্বপ্ন নিয়ে সিঙ্গাপুরে যাওয়া শত শত ভারতীয় ও বাংলাদেশি শ্রমিকের জীবনে এ মুহূর্তে সবচেয়ে বড়ো প্রশ্ন— বকেয়া বেতন আদৌ মিলবে কি না। আপাতত সরকারের আর্থিক সহায়তা কিছুটা স্বস্তি দিলেও সমস্যার সম্পূর্ণ সমাধান এতে হবে না।
❤ Support Us







