- দে । শ
- জুন ১৯, ২০২৬
রামমন্দিরে ভক্তদের দানের অর্থ তছরুপের অভিযোগ
অযোধ্যার রামমন্দিরে ভক্তদের দান করা কোটি কোটি টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী চুরির অভিযোগ ঘিরে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। এই ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন বলে দাবি করেছেন মন্দির নির্মাণ কমিটির প্রধান তথা অবসরপ্রাপ্ত আইএএস কর্মকর্তা নৃপেন্দ্র মিশ্র।
নৃপেন্দ্র মিশ্রের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর উদ্বেগ শুধু ভক্তদের দান করা অর্থ ও সোনাদানা চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে নয়, মন্দিরের সামগ্রিক প্রশাসনিক ও নজরদারি ব্যবস্থার দুর্বলতাকেও ঘিরে। তাঁর কথায়, “আমি বলব প্রধানমন্ত্রী গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তাঁর একটি বড় চিন্তা ভক্তদের অর্থ নিয়ে। একই সঙ্গে তিনি মন্দিরের সিস্টেম নিয়েও উদ্বিগ্ন। এখানে কার্যত একটি ভেঙে পড়া ব্যবস্থা কাজ করছে। আগামী দিনে এই জরাজীর্ণ ব্যবস্থাকে কীভাবে আরও কার্যকর ও স্বচ্ছ করা যায়, সেটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।”
সম্প্রতি অভিযোগ ওঠে, রামমন্দিরে ভক্তদের দান করা বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। প্রথমে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছিল মন্দির পরিচালনাকারী রামজন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট। তবে পরবর্তীতে অভ্যন্তরীণ তদন্তে কিছু সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের তথ্য সামনে আসে। এরপরই উত্তরপ্রদেশ সরকার ঘটনাটির তদন্তে তিন সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করে।
ইতিমধ্যে অযোধ্যা পুলিশ মন্দিরের দুই কর্মচারীকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। তদন্তকারী সূত্রের দাবি, তাঁদের কাছ থেকে কয়েক লক্ষ টাকা নগদ অর্থ এবং সোনাদানা উদ্ধার হয়েছে। তবে তদন্ত কতটা নিরপেক্ষ ও কার্যকর হবে, তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন নৃপেন্দ্র মিশ্র।
তিনি জানান, তদন্তের অন্যতম বড় সমস্যা হতে পারে সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ। তাঁর মতে, “সিসিটিভি ফুটেজেরও একটি নির্দিষ্ট মেয়াদ থাকে। সাধারণত ৪৫ দিনের পর ফুটেজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে যায়। অবশ্যই তা মুছে যাওয়ার আগে সংরক্ষণ করা উচিত ছিল।”
একই সঙ্গে তিনি দানের হিসাব সংরক্ষণ পদ্ধতির দুর্বলতার কথাও তুলে ধরেছেন। নৃপেন্দ্র মিশ্র বলেন, “যদি কেউ মন্দিরে গয়না দান করেন, তার রসিদ থাকে এবং সেই দানের হিসাব সংরক্ষিত হয়। কিন্তু অনেক ভক্ত সরাসরি বিগ্রহের সামনে নগদ অর্থ বা সোনাদানা অর্পণ করেন, যার কোনও আনুষ্ঠানিক রেকর্ড থাকে না।”
ফলে কোটি টাকার দানচুরির অভিযোগের প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দায়ীদের শনাক্ত করা তদন্তকারীদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এই ঘটনা রামমন্দিরের আর্থিক স্বচ্ছতা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং দান ব্যবস্থাপনা নিয়ে একাধিক প্রশ্নও সামনে এনে দিয়েছে।
❤ Support Us







