- গল্প
- মে ৩, ২০২২
আমরা ক্রমশ চিঠি লেখার থেকে দূরে সরে যাচ্ছি
হাতের সামনে খোলা নোট-খাতায় তাকাল। এতদিন সে খেয়াল করেনি, নোটপ্যাড শব্দটার মানেই বদলে গেছে তার মতো আরো অনেকের কাছে। চিঠি তো লিখবে, কিন্তু কাকে ও কী?
অলঙ্করণ: দেব সরকার
কলকাতা শহরে এই মুহূর্তে লোক-সংখ্যা কত? জানি না। একুশ শতকের একুশতম বছরে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রয়েছি। বিকেলে বারান্দায় পায়চারি করতে করতে কথাটা রঞ্জনের মনে হলো। এই মুহূর্তে যে আকস্মিকভাবে সে ঘর-বন্দী তাতে ভাবনার অবশ্য আরো অনেক কিছুই থাকতে পারত। হঠাৎ তুমুল বৃষ্টিতে শহর স্তব্ধ। রাতভোর বৃষ্টি যাকে বলে। বাকি নাগরিকদের মতো সেও ঘুম ভেঙে উঠে জানতে পারে, যদিও স্বচক্ষে নয়। ঘুম থেকে উঠে অন্ধকার অন্ধকার ও থমথমে পৌনে ন-টার সময়ও, এবং বাইরে পিটির-পিটির বৃষ্টির আওয়াজ, তবুও সেপ্টেম্বরে তা আশ্চর্যের নয় শরতের বৃষ্টি হতেই পারে, কিন্তু আশপাশটা কেমন নিজের চোখে দেখার আগেই বাথরুমে বসে পাশের বাড়ির টিভির গমগমে আওয়াজে পরিস্থিতি জানতে পেরে গেছিল।
কাল রাত্তির থেকে আকাশ ভাঙা বৃষ্টিতে কিন্তু রেকর্ড ভাঙল কলকাতার… শহরের সর্বত্র জল এবং যানবাহন বন্ধ বেহাল অবস্থা কিন্তু… আমরা কিন্তু দাঁড়িয়ে রয়েছি এই মুহূর্তে দেখতে পাচ্ছ পার্ক সার্কাস মোড়, এ প্রসঙ্গে মেয়র বলেছেন….।
এরপর কৌতূহল মেটানোর জন্য বারান্দায় যেতেই হয় এবং বানভাসি কলকাতার দৃশ্য বর্ণনা যা টিভিতে দেখায় তার থেকে অন্যরকম কিছু সে দেখেনি। ভ্রু কুঁচকে রঞ্জন ফোনটা খোলে – অনেকগুলো মিটিং ছিল দুপুরবেলা – সেগুলো ক্যানসেল করবে কি করবে না ঠিক করতে করতে বাইরে আবার বৃষ্টি এবং ঘরে মায়ের আগমন। সে ফোন রেখে হাত বাড়ায় মায়ের হাতের চায়ের কাপ ও গোটা চারেক পাকানো খবরের কাগজের দিকে। কলকাতার পেপার-বয়রা আশ্চর্য। ঝড়, জল সব কিছুর মধ্যেই ঠিক ছুঁড়ে দিয়ে গুঁজে দিয়ে চলে যায়। ভাগ্যিস যায়। রঞ্জন তাড়াতাড়ি কাগজটা খুলে পড়তে শুরু করে মুখের কাছে তুলে, মায়ের বহু কথা শোনার হাত থেকে বাঁচার বর্ম। তবু অভেদ্য বর্ম নয়, কিছু কথা কানে আসে, বেশিরভাগই রঞ্জনের জীবনের ব্যর্থতা ও সাফল্য নিয়ে। সে কান দেয় না। নাকের সামনে কাগজটা ধরে কল্পনা করতে থাকে খবরের কাগজওলাদের।
চক অ্যান্ড চারকোল বুলিয়ে যেন শহরটা আঁকা হয়েছে। সাইকেলের চাকায় জমা জল কেটে ফোয়ারা উঠছে, গলিঘুঁজি পেরিয়ে ব্রেক মেরে একটা পা নামিয়ে রাস্তায় ভর দিয়ে কাগজ ছুঁড়ে দিচ্ছে বাড়িগুলোতে, কোথাও দরজার গ্রিলে গুঁজে দিচ্ছে দৌড়ে তারপর আবার সাইকেলে উঠে প্যাডেল, উপর থেকে দেখলে যেন কোনো আশ্চর্য জলযান সারা শহরময় ভেসে বেড়াচ্ছে। হোপলেস সিচ্যুয়েশান। মনে মনে বলে উঠে এই সময়েই সে মিটিংগুলো ক্যানসেল করে। এখন এই বিকেল চারটে বেজে ঊনপঞ্চাশ মিনিটে, বারান্দায় পায়চারি করতে করতে মনে হলো, না করলেই হতো। কারণ তারপর আর বৃষ্টি খুব একটা হয়নি আর আশপাশের জল খানিক নেমেছে বলেই মনে হয়। অন্তত বেরনো তো হতো। বাড়িতে বসে থাকাটা অসহ্য। কোনো এক অছিলায় বাইরে বেরনোটাও ভালো। লক-ডাউন তো বাঙালিকে ঘরে ঢুকিয়ে দিয়েছে। আজকাল চট করে কেউ বেরতে চায় না, দেখা করতে চায় না। এইসব ভাবনা নিয়ে রঞ্জন পায়চারি করছিল বারান্দায়, এমন সময় তার মনে হলো সত্যিই এ শহরটা কী দম-চাপা, কত লোক বাস করে এখানে, ঘাড়ের উপর চড়ে একে অপরের সঙ্গে রয়ে গেছে। কোথায়ই বা সে যাবে এই ভিড়ের শহরে, সামান্য পা চালিয়েও স্বস্তি নেই, পার্ক-টার্কগুলোও বন্ধ থাকছে, লেকে ঢোকায় কড়াকড়ি।
দম-চাপা ব্যাপারটা তার মাথার মধ্যে বসে যেতে থাকল। সে একটা জনসংযোগের কোম্পানিতে কাজ করে, ক্লায়েন্টদের সঙ্গে দেখা করতে তাকে বেরতেই হয়, শুধু ফোন আর ভার্চ্যুয়াল মিটিং-এ এসব কাজ হয় না। এই সব কাজের মিটিং-এর ফাঁকে ফাঁকে শহর জুড়ে ঘুরে বেড়াতে তার ভালোই লাগে, তার মায়ের ভাষায় যেটার নাম ‘হোট্রে বেড়ানো’। কিন্তু ক্রমশ যাওয়ার জায়গা কমছে। সন্ধেবেলা, উইক ডেজ, কাজ সেরে একদিন বন্ধু সুদীপ্তকে গোল পার্ক সাদার্ন অ্যাভিন্যু চত্বরে আড্ডা মারতে ডেকেছিল। কিন্তু বসবে কোথায়? একটার পর একটা ক্যাফে খুলছে বটে হিন্দুস্তান পার্ক ডোভার লেন-এ – তার যে-কোনো একটায় ঢুকে পড়া যায় – কিন্তু কেমন বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো মনে হয় সেগুলোকে। নিরুপায়, সুদীপ্তকে টেক্সট করে সেগুলোর একটার লোকেশান পাঠিয়ে নিজে গিয়ে বসল। ব্ল্যাক কফি অর্ডার দিল। এসপ্রেসো নয় আমেরিকানো। সুদীপ্ত, তার শিক্ষক বন্ধুটির মুখ ভেসে উঠল, এসেই বলবে কী সব বুর্জোয়া জায়গায় আসিস আর ডাকিস তুই আজকাল।
মনে আছে পোস্ট-কার্ডে বাবার এক দাদা না জ্যাঠা বিজয়ার আশীর্বাদ পাঠাতেন দুর্গাপুর থেকে। ইনল্যান্ড লেটার বলে নীলরঙের মোড়ানো চিঠিও মনে পড়ছে মা-কে পাঠাতে দেখেছি, নীল-কাগজের চিঠিগুলো ভাঁজে ভাঁজে আটকে ফেলে দেওয়া যেত ডাকবাক্সে । কিন্তু এখন কি আর পাওয়া যায়? কারাই বা চিঠি লেখে?
চিঠি লেখার মতো এমন অপ্রয়োজনীয় কাজ আর কী থাকতে পারে। হাতে মুঠোফোন, সর্বক্ষণ হোয়াটস্যাপ, মেসেজ, রেকর্ডেড মেসেজ, ভিডিও কল, কনফারেন্স কল – যোগাযোগের স্রোতের মধ্যেই তো সবাই রয়েছে। রঞ্জন মনে করতে পারল না কাউকে সে চিঠি লিখেছিল কি-না। মনে আছে পোস্ট-কার্ডে বাবার এক দাদা না জ্যাঠা বিজয়ার আশীর্বাদ পাঠাতেন দুর্গাপুর থেকে। ইনল্যান্ড লেটার বলে নীলরঙের মোড়ানো চিঠিও মনে পড়ছে মা-কে পাঠাতে দেখেছি, নীল-কাগজের চিঠিগুলো ভাঁজে ভাঁজে আটকে ফেলে দেওয়া যেত ডাকবাক্সে। কিন্তু এখন কি আর পাওয়া যায়? কারাই বা চিঠি লেখে? এসব ভাবতে ভাবতে দ্রুত আঙুল চালিয়ে সে তার লেখাটা শেষ করছিল। সেটাও চিঠি, তবে কেজো চিঠি – তার বয়ানটা শেষ করতে চাইল – জনসংযোগের চাকরিতে চিঠি যা লিখতে হয় সংবাদপত্রে অথবা সাংবাদিকদের পাঠানোর জন্য ইভেন্ট ইত্যাদির ডিটেল দিয়ে। সেগুলো প্রায় খবরের কাগজের নিউজ স্টোরির মতোই, যাতে সাংবাদিক বাবুরা না-খাটার আনন্দে পুলকিত হয়ে হুবহু ছেপে দেন খবরটা। অজান্তেই তার একটা মুখ ব্যাঁকানোর অভিব্যক্তি খেলে গেল গালে। স্মার্ক। আই হেট ইট, অত্যন্ত বিরক্ত লাগে তোমার এই কোনো কিছু অপছন্দ হলে স্মার্ক করা। তার সদ্য-প্রাক্তন বান্ধবীর উক্তি মনে পড়ে গেল। এই জন্য অবশ্য তাকে ছেড়ে যায়নি সে বা ব্রেক-আপ হয়নি। সে যাই হোক, প্রাক্তনের কথা মনে করাটা কোনো কাজের কথা নয়, বিশেষ করে কাজের সময়, কিন্তু কেজো লেখায় তার মন বসছে না। সত্যিই একটা চিঠি লিখলে কেমন হয়?
কাকে লেখা যায় চিঠি? দূরে থাকে এমন বন্ধুদের নাম মনে করার চেষ্টা করল কিন্তু দূরত্বের মুশকিল হলো আলগা হয়ে যায় যোগাযোগ – ওই হোয়াটস্যাপ গ্রুপে বা ক্বচিৎ কখনো কলকাতায় পুরনো বন্ধুদের গ্যাদারিং-এ হয়তো দেখা, কথা, খানিক পুরনো দিন ঝালিয়ে নেওয়া। চিঠিতে লিখবে কী? নোটপ্যাডটা বন্ধ করল রঞ্জন – লিখলে খাতায় কলমে লিখবে। ব্যাগ থাবড়ে একটা প্যাড, মানে কাগজের প্যাড, নোটপ্যাড নামের বৈদ্যুতিন যন্ত্র নয়, আর পেন বেরল। আশ্চর্য এতদিন সে খেয়াল করেনি, নোটপ্যাড শব্দটার মানেই বদলে গেছে তার কাছ, বা তার মতো আরো অনেকের কাছে। যাই হোক চিঠি তো লিখবে, কিন্তু কাকে ও কী?
আশপাশে তার বয়সি ছেলেরা ক্যাফেটাতে গুলতানি করছে। আরেকটা টেবিলে তারই মতো একা বসে ল্যাপটপ খুলে খুটুরখুটুর করছে একজন বছর চল্লিশের লোক। কী লিখছে – গল্প, উপন্যাস?
রঞ্জন আবার তাকাল। ভদ্রলোক স্ট্র দিয়ে লাতে বা ক্যাপুচিনো ধরনের কিছু খেতে খেতে টাইপ করছেন – ভ্রু দুটো কুঁচকে গেছে, ফুলো ফুলো মুখ যেন ঘুম থেকে উঠে এসেছে অথবা অ্যালকোহল। চুল দাড়ি পরিচ্ছন্ন করে কাটা। পোলো নেক টিশার্ট আর জিন্স পরা, দেখে পেশা বোঝার উপায় নেই, হয়তো কর্পোরেটের গ্লোরিফায়েড কেরানি, মোটা মাইনের বলদ একটা, এখানে বসে ওয়ার্ক ফ্রম হোম করছে। মনটা হুহু করে উঠল রঞ্জনের, একসময় ভেবেছিলাম লেখক হব। সে ইচ্ছে ক্রমশ দূরতর হচ্ছে। এভাবেই হেমিংওয়ে ক্যাফেতে বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা গল্প লিখতেন, আর আমি জন সংযোগের ঘাস-ভুস লিখি।
রঞ্জন নিজের হাতের সামনে খোলা নোট-খাতায় তাকাল। ব্রেক আপের সময় যদি একটা চিঠি লিখে ব্যাপারটা করা যেত। তখন মাথায় আসতে পারত। হেসে ফেলল সে, ভাগ্যিস, এমনিই যথেষ্ট বিরক্ত ও রাগ দেখিয়েছে, এরপর চিঠি লিখলে কী করত কে জানে?
রঞ্জনকে আজ আপিস যেতে হয়েছে, আজকাল সাড়ে-আটটার পর কেমন থমথম করতে থাকে শহরটা – ফুটপাথের হকাররা দোকান-টোকান বন্ধ করে দিচ্ছে, রাস্তায় বাস, অটো কমে গেছে – সন্ধেবেলাই যেন রাত নেমেছে। সহকর্মীদের অবশ্য সে বিষয়ে হুঁশ নেই, অ্যাপ ক্যাবের ভাড়া খুব বেশি না দেখালে তাদের হেলদোল নেই কিছুতেই। এই যে অ্যাম্বি, তার কোলিগ, তাকে জিজ্ঞেস করতে বলতেই পারল না কবে সে শেষ পাবলিক ট্রান্সপোর্টে চড়েছে। অথচ তার থেকে দু-চার বছরের ছোটো হবে, কানে ইয়ার-ফোন গুঁজে বাবু ট্যাক্সিতে উঠে বাড়িতে পৌঁছয়। যদিও ছোকরা কাজের ব্যাপারে সিরিয়াস ও দক্ষ কিন্তু তার বাইরে জীবনে কিস্যু নেই। অ্যাম্বির দিকে তাকিয়ে তার আবার মনে পড়ল চিঠি লেখার কথা। বেশির ভাগ বন্ধুই তো অ্যাম্বির মতো। উৎসাহ বলতে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে সিনেমা, সিরিজ দেখা। তারা আদৌ ধৈর্য ধরে চিঠি পড়বে এটা ভাবাও বেশ কষ্টকর।
ক্লায়েন্টের জন্য একটা ভিডিও প্রডাকশানের কাজ সেরে সবাই বাড়ি ফেরার জন্য গাড়ি ডাকছে – রঞ্জনের তাড়া নেই সে ব্যাগট্যাগ গুছিয়ে নিচে নামল। হলুদ ট্যাক্সি পাওয়া যাবে ঠিক, না হলে একটু এগিয়ে বা স্ট্যান্ড আছে। তার আপিস ধ্যারধ্যারে সল্ট লেক নয় খাস কলকাতার বুকে, একটু হাঁটলে ময়দান বা রবীন্দ্রসদন মেট্রো দূরে নয়। অবশ্য কলকাতায় আজকাল এইটুকুও হাঁটতে কেউ রাজি নয়, অর্থাৎ বাবুরা বাবুই আছে নাগরিক হতে শেখেনি। কথাটা পুরো সত্যি নয়। রঞ্জনের বাপ জ্যাঠারাও রঞ্জনদের থেকে কর্মঠ ছিল। কিন্তু ভালো অভ্যেস বাঙালির ধাতে বসে না, তাছাড়া এটা হয়তো গোটা বিশ্বের সমস্যা। কিন্তু আমাদের গরিব দেশে এ রোগ !
— শৌখিন চাকরি করিস তাই এমন মনে হয়। দেখিসনি লক ডাউনে মানুষের মিছিল? ট্রেন, বাস বন্ধ করে, দাম বাড়িয়ে কী অপরিসীম যন্ত্রণা বেড়েছে খেটে-খাওয়া মানুষের, সাধারণ চাকরের?
বিদ্যুৎ চায়ের কাপে চুমুক মেরে বলল। গত-দিনের এই ভাবনাটা রঞ্জন আড্ডায় বলে ফেলে। যাব-না যাব-না করেও সে সন্ধেবেলায় হাজির হয়েছে পুরনো বন্ধুদের আড্ডায়, পাঁচমেশালি লোকজন উপস্থিত সেখানে। ভবানীপুরের পুরনো এই বাড়ির উঁচু ছাদের ঘর, শিক দেওয়া জানলা ভালো লাগে রঞ্জনের। যদিও সুমন এখানে সপ্তাহান্তে আসে, সদ্য বিয়ে করে সরে পড়েছে নিউ টাউনের দিকে, অজুহাত সেক্টর ফাইভের অফিস কাছে। এখন অবশ্য ওয়র্ক ফ্রম হোম।
— এটা কিন্তু বাড়বাড়ি বিদ্যুৎদা, রঞ্জন তো ওর অফিসের কোলিগদের কথা বলেছে, সুমনের বউ মেহুলি বলে উঠল।
— রঞ্জন তো মিছিল-টিছিলেও গেছিল, ছবি দেখেছি ফেসবুকে, দৃপ্ত ফুট কাটল।
— আরে আমি কি ওকে বলেছি নাকি কিছু, কিন্তু ও যেটা বলল সেটা খুব হাতে গোনা কয়েকজনের সমস্যা।
— কী করা যাবে আমি যদি সেই কয়েকজনের মধ্যে পড়ি বিদ্যুৎদা?… এই না আমি রোববারের সন্ধেবেলা চা খাব না, স্যাক্রিলেজ, বিয়ার দাও আমায়। যা বলছিলাম বিদ্যুৎদা আমার সমস্যাটা হয়তো ছোটো কিন্তু জেনুইন। চোখের সামনে আমার শহরের জীবন বদলে যাচ্ছে। অ্যান্ড আই হ্যাভ নো ক্লু।
— এই ঘনঘোর ফ্যাসিবাদে/ তর্কের পাল্লায় পড়ে রোববারের আড্ডা যাবে বরবাদে, দৃপ্ত গুনগুন করে উঠলে সুমন তাকে থামিয়ে দিয়ে বলে, চুপ কর ফক্কড়।
আমার বয়ফ্রেন্ডকে থামালে আমি কিন্তু খেলব না, নীনা ছদ্ম কুপিত হয়।
এ-সবের মাঝে রঞ্জন খেই হারিয়ে চুপ। তাছাড়া বিয়ারের ক্যানে দু-চুমুক দিয়ে মুড ফুরফুরে। ফলে সে এ নিয়ে বাহাস করতে চাইল না বা পারল না। বরং তার মনে হচ্ছে এই কথাগুলোই গুছিয়ে লিখবে চিঠিতে। রনিতাকেই লিখবে। এটা ভেবে বিদ্যুৎদা আর আড্ডাটার উপর যে বিরক্তি ধরছিল সেটা খানিক গেল।
— হ্যাঁরে সত্যিই তুই এইসব আন্দোলনে গেছিলি?
রঞ্জন হেসে ফেলল শুনে তারপর বলল, অবশ্যই, ওই দু-একটা পোস্টারটোস্টার মেরেছি, তার বেশি কিছু না। ছবিটবিও বিশেষ তুলিনি ওসবের। আমি কি আর বিদ্যুৎদার মতো অ্যাক্টিভিস্ট, বেশি বাড়াবাড়ি করলে চাকরি নিয়ে টানাটানি হবে না এ গ্যারান্টি কে দেবে? তারপর দেখলাম আমার যাওয়া বা না যাওয়ায় কিছু এসে যায় না।
রঞ্জন থামল। এ-বিষয়ে সে এর থেকে বেশি কিছু বলতে চায় না, আড়চোখে বিদ্যুৎদার দিকে তাকাল, অনেক কিছু বলবে মনে হচ্ছে, মনে-মনে একটা লেকচার গোছাচ্ছে। রঞ্জন সেটা এড়াতে বলল – ছাড় না ভাই যাদের লড়াই তাদের লড়তে দে, সব আড্ডায় এই এক কচকচি ভালো লাগে না।
হ্যাঁ ঠিক বলেছিস শালা, কোনোমতেই এটা অ্যাভয়েড করা যায় না আজকাল, সুমনের এই কথায় রঞ্জন হেসে ফেলল, এই সুমন এক সময় ছাত্র রাজনীতি করত, বামপন্থী, তাই কথায় কথায় বলত এভরিথিং ইজ পলিটিকাল। সত্যি যখন তাই হয়ে যায়, তাহলে দেখ কেমন লাগে। ক্লস্ট্রোফোবিয়া। রঞ্জন তার হাত থেকে বাঁচতে চায়। এক লোক, এক কথা, এক তর্কও আসলে ক্লস্ট্রোফোবিয়া, ৪ন এরা এটা বোঝে না। আর সেই জন্য সে কথা ঘুরিয়ে দিতে চায় এই বিদ্যুৎ-এর মতো লোকেদের থেকে যারা গত এক দেড় দশক ধরে একই কথা বলে আসছে, কথা শুধু কথা, কোনো কাজের কাজ নয়। এরা নিজেরাও কি ক্লান্ত হয় না? বা মনেও হয় না, আসলে সেই নাগরিক মন তৈরি হয়নি এদের, সবাই জীবনানন্দ নয়।
আড্ডা বিষয়ান্তরিত হলো। কোনো বন্ধুর বাড়ির ঝামেলা থেকে মদের নতুন কোনো ব্র্যান্ড। রঞ্জন জানলা দিয়ে বাইরে তাকাল, থমথমে আকাশ এ শরতেও। মিটমিট করছে স্ট্রিট ল্যাম্পগুলো – গলির শেষ বড়ো রাস্তাটায় পড়েছে তার এক চিলতে দেখা যাচ্ছে। কাছেই বনফুল, স্যাঙ্গুভ্যালি। কতদিন খাওয়া হয়নি এসব জায়গায়। মা-বাবার সঙ্গে একসময় আসত এখানে। এত দ্রুত এগুলো নস্টালজিয়া হয়ে যাবে? কথাটা বন্ধুদের মাঝে পারতেই হইহই করে উঠল সবাই, একদিন যাওয়া যাক। সত্যিই কি যাওয়া হবে? মনে হয় না, তবু বিয়ারের ধুনকি হিসেবেও ভাবতে ভালো লাগছে।
চিঠিটা যাকে-তাকে লেখার কোনো মানে হয় না, এটা সে প্রথম থেকে ঠিক করে রেখেছিল। রনিতাকেই লিখবে সে। কিন্তু কেন রনিতাই – ফক্কড় বন্ধুরা বলবে উত্তরাধুনিক প্রেমপত্তর, পটানোর জন্য নভেলটি – তা সত্যি না, রঞ্জনের তেমন কোনো বাসনার থেকেও চিঠি লেখার উত্তেজনা অনেক বেশি। আর রনিতার সঙ্গেও তার সম্পর্ক ভাসমান, একটা দুটো ডেট বা চ্যাট খানিক হয়েছে, একটা সম্পর্ক ভাঙার পর ঝট করে সে আর কারো সঙ্গে জড়াতে চায় না। কাজেই ওই পর্যন্তই। তাকে চিঠি লেখার একমাত্র কারণ সে মেয়ে অবসরে কবিতাটবিতা লেখে, ওয়ার্ল্ড লিটারেচার-এ ওয়াকিফ-হাল।
ফেরার পথে পাড়ায় ঢুকে রঞ্জন দেখল ক্লাবের দরজার বাইরে গুলতানি চলছে। কারো মুখে মাস্কটাস্কের বালাই নেই, শুধু চেয়ারগুলো একটু দূরে দূরে রাখা। এর মধ্যে তার বাবাও রয়েছে। বহুবার বুঝিয়াছে, কিন্তু কথা শুনবে না। আজ আর এখন মুখে বিয়ারের গন্ধ নিয়ে কিছু বলতে যাওয়ায় ঝামেলা, সে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বাড়ি ঢুকল। কী আড্ডা দেয়, কী কথা বলে এরা – সেই কাগজ আর টিভির নিউজে দেখা বিষয় নিয়ে তর্ক আলোচনা – এই সব চলে। কমবয়সিরা ক্লাবের পুজোটুজো চাঁদা তোলা ইত্যাদি নিয়ে থাকে, তার বাবার বয়সিরা এ-সবে জড়ায় না, তাদের কাজ শুধু গুলতানি করা। অদ্ভুত এই ক্লাব কালচার, বাংলা ছাড়া আর কোথাও এটা পাওয়া যায় না বোধহয়। কী-ভাবে শুরু হলো কে জানে? এমনকি হাই-রাইজারের গেটেড কম্যুনিটির ভিতরও ঢুকে পড়েছে নাকি, কালচারাল অ্যাসোসিয়েশান, পুজো কমিটি ইত্যাদির ছদ্মবেশে। বাঙালি বোধহয় ঘোঁট না পাকিয়ে, না জড়িয়ে-মড়িয়ে থাকতে পারে না। বিচিত্র জাত। এসব ভাবতে ভাবতেই বিছানায় এলিয়ে ঘুমিয়ে পড়ল সে।
বৃষ্টি এ বছর পিছু ছাড়ছে না। রাতে সে টের পেয়েছিল বৃষ্টি নেমেছে। সকালে উঠে দেখল আবার সেই একই রকম মেঘলা, স্যাঁতসেঁতে। কাজ করার ইচ্ছে হয় না, কেমন যেন একটা শ্লেষ্মা-জমা ঝিমঝিমে শরীর। সারাক্ষণ ম্যাজম্যাজে ভাব। এ-ঘর ও-ঘর ছটফট ঘুরে বেড়াল খানিকক্ষণ, মায়ের সঙ্গে একচোট ঝগড়া। সারা শহরই গোমড়া মুখে, আকাশের মতো মুখ ভার। ফোন আর ল্যাপটপ নিয়ে কাজে মন দেওয়ার চেষ্টা করল সে।
দুপুর গড়িয়ে বিকেলের দিকে পৌঁছতে মনে হলো বৃষ্টি একটু ধরেছে। বেরনো যায়? সুদীপ্তকে ফোন করল।
— শালা প্রিভিলেজড। গোটা শহর জলের তলায় আর তুমি বিহারে বেরবে রাজপুত্তুর।
— বাজে হ্যাজাস না। বেরবি কি-না বল?
— আমি স্কুলে মিড ডে মিলের জন্য বেরিয়েছি সকালে, একটু পরে বাড়ি ফিরব। সারাদিন জলের মধ্যে কেটেছে, আমার আর শখ নেই বেরনোর।
— এই জন্য মাস্টারদের লোকে গাল দেয়, শখ আহ্লাদ শুনলেই ভাষণ। তুই বাড়ি গিয়ে বউয়ের সঙ্গে প্রেম কর, আমি দেখি কী করি?
এই বলে রঞ্জন ফোন কেটে দিল। ধ্যুস আজ আর এখন কেউ বেরবে বলে মনে হয় না। কিন্তু বাড়িতে থাকলে পাগল হয়ে যাব। বারান্দায় বেরিয়ে দেখল বৃষ্টি কমেছে। আকাশে মেঘ ছাড়া ছাড়া ভাবে ভেসে বেড়াচ্ছে। রাস্তায় জল রয়েছে। এই অবস্থায় বেরনোর জন্য শর্টস আর চপ্পল ভালো। সে দ্রুত পোশাক বদলে নিল। কোথায় যাবে? ভাবতে ভাবতে মনে হলো একবার পোস্ট অফিসের দিকে গেলে কেমন হয়? একটা নীল ইনল্যান্ড লেটার যদি পাওয়া যায়, নিদেন পোস্ট কার্ড। এটা ভেবে মনটা ফুরফুরে হলো। একটা করার মতো কিছু পাওয়া গেছে। যেন অ্যাডভেঞ্চার।
— সবে বৃষ্টি ধরেছে এখনই কোথায় বেরচ্ছিস? রঞ্জন ভেবেছিল চুপচাপ বেরিয়ে যাবে, সে সুযোগ পেল না, বসার ঘরে বেরতেই তার মা টের পেয়ে গেছে, কারণ বাবার জন্য চা করতে উঠেছে – এই হিসেবটা তার মাথায় একেবারেই ছিল না। সে ভেবেছিল নির্ঝঞ্ঝাটে বেরিয়ে যাবে। কোথায় আর যাব, এই কাছেই একটু, বলতেই রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে এসে তার মা আঁচলে হাত মুছতে মুছতে বলতে শুরু করল, চিনি কমে এসেছে, কয়েকটা ডিম আর আলু শুধু… রঞ্জন আর কথা বাড়াতে দিল না, সে জানে এরপর গোটা বাজারের ফর্দ আসবে। মা বিকেলে সে-সব আনব, এখন কাজে যাচ্ছি, বলে আর পিছনে না তাকিয়ে বেরিয়ে পড়ল।
বড়ো রাস্তায় জল না থাকলেও গলিগুলোতে এখনো জল রয়ে গেছে। তবু এদিকটায় কম, কলকাতার অনেক জায়গা থেকে জল নামেনি সাতদিন, ভালো ভালো অ্যাপাটর্মেন্টের তলায় জল। অনীশের কথা মনে পড়ল, ক্লাইমেট নিয়ে কাগজে লেখে, বলেছিল বিশ-ত্রিশ বছরে এ শহরে আর বাস করা যাবে না। তদ্দিনে কোথায় পালাব, হিমালয়ে, সেও তো যা খেল দেখাচ্ছে – যাকগে এ-সব ভেবে লাভ নেই, এ-দেশে কিছু বদলায় না, শুধু চেঁচিয়ে মরে কিছু লোক। তবে অ্যাপার্টমেন্টগুলোর অবস্থা দেখে মজা হয়েছে, জল জমাকে যারা বস্তির সমস্যা ভাবত তাদেরই আছোলা বাঁশ এবার। দেখ কেমন লাগে।
এই ভাবতে ভাবতে রঞ্জন রাস্তা ধরে হাঁটছিল, হঠাৎ একচিলতে রোদ, বৃষ্টির পর নীল ঝকঝকে আকাশে সূর্য উঠতেই লেমন ইয়ালো রঙের ছোপ রাস্তার ধারের বাড়িগুলোর জানলায়, দোকানে কার্নিশে পড়ে ঝকঝক করছে, মন-ভালো-করে-দেওয়া, এমনকি চপ্পলের ঠোক্করে রাস্তার কাদা উঠে পায়ের ডিম পর্যন্ত নোংরা করে দিচ্ছে তার জন্যও বিরক্তি জাগছে না এখন। যেন মাথার ভিতর মাইলস ডেভিসের জ্যাজ বেজে চলেছে। এই যে খোলা সেলুনের কাঠের চেয়ারে একটা লোক সরু করে গোঁফ ছাঁটছে, এই যে সিগারেটের দোকানে হাতে সিগারেট নিয়ে জ্বালাতে ভুলেই গল্প করে চলেছে একজন, কচুরির দোকানের মহিলা উনুনটা ধরানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছে – এই যে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে চায় মানুষ দ্রুত, এর চনমনে মাদকতা রঞ্জনের ভিতর খেলে গেল।
রাস্তাটা বড়ো হলেও ফুটপাথ নেই এখানে – কলকাতার প্রাচীন অনেক রাস্তার মতো, ফলে গাড়ি বাঁচিয়ে মন্থর গতিতে হেঁটে পোস্ট অফিসের সামনে আসতে সময় লাগল। শাদা চুনকাম করা বাড়িটার গায়ে ড্যাম্পের ছোপছোপ লেগে, দরজা বন্ধ ভিতর থেকে। যেমন ভেবেছিল সে – লোকজন, সামনে কাগজ, খামের দোকান যা তার স্মৃতিতে ছিল – সেগুলো কিছুই দেখতে পেল না। একটা জানলার পাল্লা খোলা দেখে সে উঁকি মারল। কয়েকজন কর্মচারী এদিকে ওদিক ছিটিয়ে বসে কাজ করছে। কী করা যায় সে বুঝতে পারল না, ইতিউতি খানিক ঘুরল, তারপর উলটোদিকের কয়েকটা খোলা দোকানের দিকে এগোল।
একটা দোকানের লোককে খানিক মিশুকে মনে হলো। মাঝবয়সি, ঠোঁটে একচিলতে হাসি লেগে রয়েছে। তার চারপাশে ইলেকট্রিকাল জিনিসপত্তর, চার্জার, ব্যাটারি, ফোনের খাপ, বাল্ব, টিউব রকমারি সব জিনিস। সে যেতেই ভদ্রলোক ভ্রু তুলে তাকালেন।
— আচ্ছা পোস্ট কার্ড ইত্যাদি পাওয়া যায় না এখানে, মানে পোস্ট অফিসের বাইরে কোনো দোকান নেই?
— না, সে-সবের দোকান নেই আর।
— পোস্ট অফিসে?
— পেতে পারেন হয়তো।
— বন্ধ মনে হচ্ছে।
— যান না, দরজা ঠেলে ঢুকে জিজ্ঞেস করুন না ওদের।
— আচ্ছা।
রঞ্জন আর কথা বাড়াল না। ঘুরে পোস্ট অফিসের সামনেটায় গিয়ে আবার ইতস্তত করল। দরজা ঠেলে ঢুকে সে কী বলবে? তার সত্যি ঠিক কী প্রয়োজন সে নিজেও জানে না, ঝোঁকের মাথায় এসেছে। দীর্ঘশ্বাস ফেলে সে ফিরতি পথে হাঁটা লাগাল। যার উদ্দেশ্যে লিখবে ভেবেছিল তাকেও মনে হচ্ছে দূরতর, অলীক। কী-বা লিখত সে, আদৌ লিখতে পারত।
হলদে বিকেলে তবু তার মনে হলো, আজ না হোক কাল কোনো একদিন আবার আসা যেতেই পারে। অন্তত এমন সুন্দর বিকেলে এই খোঁজটার মজাই বা কম কি? চুলের ভিতর দিয়ে একবার হাত বোলাল সে, তারপর হেসে উঠল নিজের মনেই।
♦–♦♦–♦♦–♦
গল্পকারের পরিচিতি: সাংবাদিক, কবি, গদ্যকার – এমন নানা পরিচয়ের মধ্যে ঘুরতে ফিরতে থাকা একজন। কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজির স্নাতক ও সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর। সাংবাদিকতা দিয়ে জীবন শুরু। গত দশ বছরে পেশাদার সাংবাদিকতা ছেড়ে লেখালিখি ও অনুবাদের কাজে যুক্ত। বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষাতেই সাহিত্য চর্চা করেন। বাংলায় প্রথম কবিতার বই ‘জাদুকরি বইঘর’ প্রকাশিত হয় ২০১৪ সালে, দ্বিতীয় বই ‘আদার ব্যাপারী যাবে আর্মেনী ঘাটে’ ২০১৬। এর পর ছোট গল্পেরর বই ‘জেরি ইঁদুরের গর্ত থেকে’ (২০১৮) ও উপন্যাস ‘গুলজার শহরের পক্ষী ও নাগর’ (২০২০) প্রকাশ পায়। তাঁর
গল্প শূন্য দশকের গল্পের একটি সংকলন গ্রন্থ ‘শূন্য দশকের গল্প সংগ্রহ’-তে প্রকাশিত। সাহিত্য একাডেমির পত্রিকা ইন্ডিয়ান লিটারেচার সহ আরো নানা দেশ বিদেশের কাগজে তার লেখা ও লেখার অনুবাদ ছাপা হয়েছে। করেছেন বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বইয়ের অনুবাদ। ঘুরেছেন দেশের নানা প্রান্তে যোগ দিয়েছেন সাহিত্য উৎসব, সেমিনার ও কর্মশালায়। ২০১৪ সালে হিন্দু লিট ফর লাইফ ফেস্টিভালে প্রকৃতি ফাউন্ডেশনের নির্বাচিত ২৫ জন কবির একজন।
চিত্রি পরিচিতি: আলোকচিত্রি, কলমবাজ চিত্রকর দেব সরকার আরম্ভ প্রকাশনার একনিষ্ঠ সহযোগী। বারুইপুরের বাসিন্দা।
গল্পের সমস্ত চরিত্র এবং ঘটনা কাল্পনিক । বাস্তবের সাথে এর কোন মিল নেই, কেউ যদি মিল খুঁজে পান তাহলে তা অনিচ্ছাকৃত এবং কাকতালীয় ।
❤ Support Us









