Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • আগস্ট ২১, ২০২৫

জিএসটি-তে রদবদল: ১২% ও ২৮% কর বাতিলের পথে, কেন্দ্রের প্রস্তাবে সায় রাজ্যগুলির। বিমা ক্ষেত্রে জোর নজরদারির দাবি বাংলার

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
জিএসটি-তে রদবদল: ১২% ও ২৮% কর বাতিলের পথে, কেন্দ্রের প্রস্তাবে সায় রাজ্যগুলির। বিমা ক্ষেত্রে জোর নজরদারির দাবি বাংলার

স্বাধীনতা দিবসের ভাষণের মঞ্চ থেকে ইঙ্গিত মিলেছিল। দীপাবলির আগেই বাস্তব রূপ পাওয়ার পথে জিএসটি সংস্কার। কেন্দ্রের প্রস্তাব অনুযায়ী, ৪টি ভাগ কমিয়ে গোটা কাঠামোকে ২ ভাগে নামিয়ে আনা হবে ৫ শতাংশ ও ১৮ শতাংশ। এই রূপরেখাতেই নীতিগত সায় দিল রাজ্যগুলির প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত ৬ সদস্যের মন্ত্রিগোষ্ঠী। লালকেল্লার ভাষণ মঞ্চ থেকেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানিয়েছিলেন, দেশের কর ব্যবস্থায় বড়ো ধরণের সংস্কার আসতে চলেছে। সে দিশাতেই বৃহস্পতিবার আরো এক ধাপ এগোল কেন্দ্র। দিল্লিতে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসল রাজ্যগুলির প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত ৬ সদস্যের ‘গ্রুপ অফ মিনিস্টার্স’। আলোচনার কেন্দ্রে ছিল পণ্য ও পরিষেবা কর (জিএসটি)-এর হার যুক্তিসঙ্গতকরণ।

বর্তমানে দেশে জিএসটির ৪টি স্ল্যাব রয়েছে— ৫ শতাংশ, ১২ শতাংশ, ১৮ শতাংশ এবং ২৮ শতাংশ। কেন্দ্রের প্রস্তাব, ৪টি স্তর সরিয়ে জিএসটি হারের সংখ্যা কমিয়ে আনা হবে ২টিতে— ৫ শতাংশ এবং ১৮ শতাংশ। সরলীকরণ এবং বৃহত্তর করসঙ্গতি আনতেই এই পরিকল্পনা। কেন্দ্রের দাবি, ১২ শতাংশ হার তুলে দিয়ে তার আওতায় থাকা প্রায় ৯৯ শতাংশ পণ্যকে পাঁচ শতাংশের আওতায় আনা হবে। একইভাবে, ২৮ শতাংশ হারের অন্তর্গত প্রায় ৯০ শতাংশ পণ্য ও পরিষেবা নিয়ে আসা হবে ১৮ শতাংশের স্ল্যাবে। তবে সব পণ্যের জন্য এক নিয়ম নয়। কিছু নির্দিষ্ট পণ্যকে রাখা হচ্ছে ‘সিন গুডস’ বা ‘ক্ষতিকর পণ্য’-র তালিকায়। এই তালিকায় থাকতে পারে মদ, সিগারেট, বিলাসবহুল গাড়ি, ঠান্ডা পানীয়, ফাস্ট ফুড, কফি, চিনি, মাদকদ্রব্য এমনকি পর্নোগ্রাফিও। এ ধরনের পণ্যের উপর করের হার ধরা হয়েছে সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ পর্যন্ত। সরকারের যুক্তি, এ সমস্ত পণ্যের ব্যবহার বা চাহিদা কমানোই তাদের লক্ষ্য। সে কারণেই ‘সিন ট্যাক্স’ ধার্য করে সাধারণ মানুষকে নিরুৎসাহিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবারের বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। বৈঠকের শেষে তিনি জানান, জিএসটি হারের পরিবর্তনের ফলে কেন্দ্র এবং রাজ্যগুলির রাজস্ব আদায়ে বড়োসড়ো প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষত, ১২ শতাংশ এবং ২৮ শতাংশ হার বাদ দিলে সেখান থেকে রাজস্ব আয় এক ধাক্কায় কমে যাবে। তাহলে ঘাটতি পূরণের কী উপায় হবে? তা কেন্দ্রের প্রস্তাবে তা স্পষ্ট করে বলা হয়নি। তাই রাজস্ব ক্ষতি ঠেকাতে তিনি প্রস্তাব দিয়েছেন, ‘সিন গুডস’-এর উপর ৪০ শতাংশের করের পাশাপাশি আরো কিছু অতিরিক্ত সেস বা কর আরোপের। যদিও, এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

এছাড়া, স্বাস্থ্যবিমা ও জীবনবিমা থেকে জিএসটি সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের যে প্রস্তাব কেন্দ্র দিয়েছে, তা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের তরফে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। বর্তমানে ২টি বিমা পরিষেবার উপর ১৮ শতাংশ জিএসটি আরোপ করা হয়। কর ছাড় দিলে বিমা সংস্থাগুলি সাধারণ মানুষকে সুবিধা দেবে ঠিকই, কিন্তু সে সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তারা যেন বিমা প্রিমিয়াম বাড়িয়ে গ্রাহকদের উপর অতিরিক্ত বোঝা না চাপায়, সে বিষয়েও কড়া নজরদারির পরামর্শ দিয়েছেন চন্দ্রিমা। তাঁর বক্তব্য, শুধুমাত্র কর ছাড় দেওয়া যথেষ্ট নয়; সেটা যেন বাস্তবিক উপকারে আসে সাধারণ মানুষের, তা নিশ্চিত করতে হবে।

এদিনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের নেতৃত্বে ছিলেন বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী। বৈঠকের পরে তিনি জানান, কেন্দ্র যে প্রস্তাব পেশ করেছিল, মন্ত্রীগোষ্ঠী তাতে মৌখিক ভাবে সায় দিয়েছে। তবে কিছু রাজ্য নিজেদের পর্যবেক্ষণ ও পরামর্শ জানিয়েছে। সব কিছুরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে জিএসটি কাউন্সিল। সম্ভাবনা, আগামী সেপ্টেম্বরেই বসবে সেই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক।বিশেষজ্ঞদের মতে, নয়া নিয়মের ফলে কর ব্যবস্থায় সরলতা আসবে, করপাঠ আরো স্বচ্ছ হবে এবং রাজ্য ও কেন্দ্র, দুই পক্ষেরই রাজস্ব আদায়ের পরিকাঠামো নতুনভাবে গড়ে উঠবে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!