- এই মুহূর্তে দে । শ
- আগস্ট ২৭, ২০২৫
বিচারের রায়দানে দীর্ঘসূত্রতা বরদাস্ত নয়, কড়া নির্দেশ শীর্ষ আদালতের
বিচার ব্যবস্থার উপর থেকে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস যদি টিকিয়ে রাখতে হয়, তবে মামলার রায় দানে দীর্ঘসূত্রতা আর বরদাস্ত নয়। সোমবার এক ঐতিহাসিক নির্দেশে দেশের সর্বোচ্চ আদালত জানিয়ে দিল, কোনো মামলায় রায় ‘রিজার্ভ’ হলে তা ৩ মাসের মধ্যেই ঘোষণা করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রায় না এলে হাইকোর্টের মুখ্য বিচারপতির হস্তক্ষেপে তা অন্য বেঞ্চে সরিয়ে দিতে হবে।
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় করোল এবং প্রশান্ত কুমার মিশ্রর বেঞ্চ এদিন স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ‘এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক যে, শুনানি শেষ হওয়ার পর মাসের পর মাস কিংবা বছরের পর বছর ধরে রায় ঘোষণা হয় না।’ আদালতের মতে, বহু মামলায় দীর্ঘ অপেক্ষার পরও বিচার না মেলায় জনগণের বিচারব্যবস্থার উপরে ভরসা হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্ট আরো বলেছে, যদি ‘রিজার্ভ’ হওয়ার ৩ মাসের মধ্যে রায় না-ঘোষণা হয়, তা হলে সংশ্লিষ্ট হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল বিষয়টি মুখ্য বিচারপতির নজরে আনবেন। মুখ্য বিচারপতি সেই বেঞ্চকে দুই সপ্তাহের মধ্যে রায় ঘোষণার নির্দেশ দেবেন। তা সত্ত্বেও রায় ঘোষণা না হলে, মামলাটি অন্য বেঞ্চে সরিয়ে দেওয়া হবে।
গুরুত্বপূর্ণ এ নির্দেশ বলবৎ করতে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, প্রতি মাসে হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে এমন মামলার তালিকা মুখ্য বিচারপতির কাছে জমা দিতে হবে, যেগুলিতে শুনানি শেষ হওয়ার পরেঅ রায় ঘোষণা হয়নি। এভাবে টানা ৩ মাস ধরে নজরদারি চালাতে হবে। তবে, শুধু দেরিতে রায় ঘোষণাই নয়, বহু হাইকোর্টের অভ্যাস, চূড়ান্ত আদেশ জানিয়ে দেওয়া হলেও যুক্তিসম্পন্ন রায় পরে দেওয়া হয়। এ প্রবণতার কারণে আগেও তারা শীর্ষ আদালতের তিরস্কারের মুখে পড়েছে। বিচারপতি করোলের বেঞ্চ আরও একবার মনে করিয়ে দিয়েছে, ‘এ অভ্যাস বিচারপ্রার্থীর অধিকারকে সরাসরি অমর্যাদা করে। এর ফলে উচ্চতর আদালতে যাওয়ার পথ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।
এদিনের রায় প্রেক্ষাপট উত্তরপ্রদেশের একটি মামলাকে ঘিরে। ২০০৮ সালে দায়ের হওয়া একটি ফৌজদারি মামলা দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন ছিল এলাহাবাদ হাইকোর্টে। ৯ বার মামলাকারী শুনানির জন্য আদালতের দ্বারস্থ হন, কিন্তু সদুত্তর মেলেনি। এরআগেও, গত এপ্রিল মাসে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, ৩ মাসের মধ্যে চুড়ান্ত রায় ঘোষণা করতে হবে। কিন্তু অবাক করার বিষয়, আলোচ্য মামলাটি ২০২১ সালের ২৪ ডিসেম্বর রিজার্ভ হওয়া সত্ত্বেও এখনো রায় ঘোষণা হয়নি। মুখ্য বিচারপতির কাছে গিয়েও লাভ হয় নি, যথাযথ শুনানির অভাবে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে রয়েছে সেটি। এ পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্ট কড়া ভাষায় এলাহাবাদ হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে নির্দেশ দিয়েছে, মুখ্য বিচারপতির কাছে অবিলম্বে বিষয়টি তুলে ধরতে হবে এবং মামলাটির বর্তমান অবস্থা নিয়ে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট শীর্ষ আদালতে পেশ করতে হবে। ন্যায়ের নামে দীর্ঘ অপেক্ষা যে আর বরদাস্তযোগ্য নয়, সোমবার তা স্পষ্ট জানিয়ে দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত।
❤ Support Us







