- এই মুহূর্তে বি। দে । শ
- জানুয়ারি ১০, ২০২৬
বাংলাদেশে বিএনপির নতুন চেয়ারম্যান পদে তারেক রহমান, নজরে ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন
বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতা ও প্রয়াণে, ১৭ বছর পর দেশে ফিরেছেন তারেক রহমান। আর তাঁর এই প্রত্যাবর্তনে বাংলাদেশের প্রধান দল, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা বিএনপির নতুন অধ্যায় শুরু হলো। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিক ভাবে দলের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হলো। শুক্রবার রাতে জাতীয় স্থায়ী কমিটির এক জরুরি বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে আওয়ামী লীগ ‘শূন্য’, অনান্য দলের ছন্নছাড়া অবস্থার মধ্যে আগামী জাতীয় নির্বাচনে একচেটিয়া জয়ের লক্ষ্যেই তড়িঘড়ি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে মেজর জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠা করা দলটি।
দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে চেয়ারম্যান পদটি শূন্য হয়ে পড়েছিল। সে শূন্যতা পূরণ করতেই দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক ডাকা হয়। বৈঠক শেষে জানানো হয়, গঠনতন্ত্রের বিধান মেনেই তারেক রহমান বিএনপির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। বৈঠক শেষে ঢাকার দলীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি জানান, তারেক রহমানের সভাপতিত্বেই জাতীয় স্থায়ী কমিটির জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় নেতারা দলের নতুন চেয়ারম্যানের নেতৃত্বের প্রতি আস্থা প্রকাশ করেন এবং তাঁর সফলতা কামনা করেন।
Mr. Tarique Rahman has assumed office as the Chairman of the BNP.
Following the passing of BNP Chairperson and former Prime Minister, national leader Begum Khaleda Zia, the position of party Chairman became vacant. In line with the BNP constitution, a meeting of the National… pic.twitter.com/X4gfwQGOAK
— Bangladesh Nationalist Party-BNP (@bdbnp78) January 9, 2026
দীর্ঘদিন অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করে গত ৩০ ডিসেম্বর ভোরে ঢাকার একটি হাসপাতালে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তাঁর মৃত্যুতে প্রায় ৪ দশক ধরে যে চেয়ারপারসন পদ তিনি অলঙ্কৃত করেছিলেন, তা হঠাৎ শূন্য হয়ে পড়ে। রাজনৈতিক মহলে তখন থেকেই প্রশ্ন উঠছিল, কে হবেন বিএনপির পরবর্তী চেয়ারম্যান? ভোটের মুখে সেই প্রশ্নের দ্রুত উত্তর দিতেই তৎপর হয় দল। জানা যাচ্ছে, বিএনপির গঠনতন্ত্রের ৭-এর ‘গ’ ধারা অনুযায়ী, চেয়ারম্যানের পদ শূন্য হলে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। সেই সাংবিধানিক ধারাবাহিকতাতেই দীর্ঘদিন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা তারেক রহমান এবার পূর্ণ দায়িত্ব পেলেন।
তারেক রহমানের রাজনৈতিক জীবন দীর্ঘ ও ঘটনাবহুল। আশির দশকের শেষদিকে, এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় মায়ের হাত ধরে রাজপথে তাঁর সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ। ১৯৮৮ সালে বগুড়ার গাবতলী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সদস্য হিসেবে দলে তাঁর নাম নথিভুক্ত হয়। ১৯৯১ সালের নির্বাচনের আগে তিনি মায়ের সঙ্গে সারা দেশে প্রচার অভিযানে অংশ নেন। ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনের সময় থেকেই জাতীয় রাজনীতিতে তাঁর প্রভাব স্পষ্ট হতে থাকে। দলের নির্বাচনী কৌশল ও মাঠপর্যায়ের সংগঠন গড়ে তোলায় তাঁর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। ২০০২ সালে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এবং ২০০৯ সালে দলের পঞ্চম জাতীয় সম্মেলনে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তিনি। ২০০৭ সালের ‘ওয়ান-ইলেভেন’ পরবর্তী রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে গ্রেপ্তার হন তারেক রহমান। দীর্ঘ কারাবাসের পর চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে যান এবং সেখানেই প্রায় ১৭ বছর ছিলেন তিনি। এই দীর্ঘ প্রবাসপর্বেও প্রযুক্তির সাহায্যে দল পরিচালনা ও নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছিলেন তিনি। ২০১৮ সালে বেগম খালেদা জিয়া কারাবন্দি হলে তারেক রহমানকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ঘোষণা করা হয়।
গত ২৫ ডিসেম্বর দীর্ঘ নির্বাসন কাটিয়ে দেশে ফেরেন তারেক রহমান। বিমানবন্দর থেকে শুরু করে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক জুড়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের ঢল নামে। পূর্বাচলে আয়োজিত সংবর্ধনায় তাঁর উপস্থিতি বিএনপির রাজনীতিতে নতুন উদ্দীপনার সঞ্চার করে। এ বার চেয়ারম্যান পদে তাঁর আনুষ্ঠানিক অভিষেকের মধ্য দিয়ে বিএনপি স্পষ্ট বার্তা দিল, ফেব্রুয়ারির আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দল পূর্ণ শক্তিতে মাঠে নামতে প্রস্তুত। ইতিমধ্যেই নির্বাচন পরিচালনা কমিটি-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক কাঠামো ঢেলে সাজানো হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। ভোটের আগে নেতৃত্বের এই পরিবর্তন বাংলাদেশের রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে। তবে একথা স্পষ্ট, খালেদা জিয়ার পর বিএনপির রাজনীতির হাল এখন সম্পূর্ণ ভাবে তারেক রহমানের হাতেই।
❤ Support Us







