Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • আগস্ট ৯, ২০২৩

দশম শ্রেণির অংক বইয়ে শুভেন্দু-নওশাদের নামোল্লেখ। অবিলম্বে সংশোধনের দাবি শিক্ষক মহলের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
দশম শ্রেণির অংক বইয়ে শুভেন্দু-নওশাদের নামোল্লেখ। অবিলম্বে সংশোধনের দাবি শিক্ষক মহলের

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের দশম শ্রেণির অংক বই “গণিত প্রকাশ” ছাপা হয়েছে ২০২৩ শিক্ষাবর্ষ শুরুর। তার পর সেই বই ছাত্রছাত্রীদের হাতে এসেছে। সেই বইতেই শুভেন্দু এবং নওশাদের নাম দিয়ে ২০৪ পাতার ১৬-র ২ নম্বর অংকের প্রশ্নমালায় শুভেন্দু ও নওশাদের অংশীদারী ব্যবসার অংক দেওয়া হয়েছে। এই নিয়ে রাজনীতি ও শিক্ষক মহলে আলোচনা, বিতর্ক ক্রমেই বাড়ছে।

 

এই বইয়ের পাতায় শুভেন্দু ও নওশাদ এই দুই রাজনৈতিক বিরোধী নেতার নাম দিয়ে অংকের প্রশ্ন রাখার অর্থ শিশুমনকে বঙ্গ রাজনীতি কদর্য আবহ দিয়ে কলুষিত করা বলে মনে করছেন শিক্ষক মহল। এই কাজ যাঁরা করেছেন তাঁরা রাজ্যের শাসকদল তৃণমূলের ছত্রছায়ায় যে আছেন তারই প্রমাণ অংক বইতে এই দুই বিরোধী নেতার নাম থাকা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারি স্কুলের  শিক্ষক বলছেন, “শিক্ষায় রাজনীতিকরণের এর চাইতে কদর্য উদাহরণ আগে দেখা যায়নি। শিক্ষাক্ষেত্রটাকে একেবারে দুর্নীতির আখড়া করে ফেলল তৃণমূল। সিপিএম আমলেও শিক্ষায় রাজনীতিকরণ হয়েছে। তবে শিশুমনকে রাজনীতির পঙ্কে নামিয়ে আনা হয়নি, যেটা এখন হচ্ছে।”

এই প্রসঙ্গে শিক্ষা দফতরের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে এই বই থেকেই নন্দীগ্রামের মহেশপুর হাই স্কুলের দশম শ্রেণির অংক পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে অংকটি তুলে দেওয়া হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে এই প্রশ্নপত্র, তার পর থেকেই বিতর্কের সূত্রপাত। পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম-১ ব্লকের গোকুল নগর গ্রাম পঞ্চায়েতে রয়েছে এই মহেশপুর হাই স্কুল। ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক আশিস দাস স্বীকার করেছেন এই প্রশ্নপত্র তাঁর স্কুলের। এই দুই নেতার নাম প্রশ্নপত্রে থাকা হচ্ছে অনিচ্ছাকৃত ত্রুটি তবে এই প্রশ্নে পরীক্ষা হয়নি।

“গণিতের যে প্রশ্ন নিয়ে এত বিতর্ক , সেই প্রশ্ন পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ প্রকাশিত  দশম শ্রেণির গণিত পাঠ্যপুস্তকেই  রয়েছে ! অবিলম্বে তার সংশোধন ও পরিমার্জন জরুরী। বর্তমান রাজ্যের সামাজিক অবস্থায় বিতর্কের জন্ম দিতে পারে এমন প্রশ্ন  কোমলমতি ছাত্র ছাত্রীদের না করাই শ্রেয়”, বলে জানিয়েছেন অ্যাডভান্সড সোসাইটি ফর হেডমাস্টার্স অ্যান্ড হেডমিস্ট্রেসেস-এর রাজ্য সাধারণ সম্পাদক, চন্দন মাইতি।

সরকারি স্কুল শিক্ষক সমিতির এক নেতা, যিনি নাম প্রকাশে আগ্রহী নয়, তিনি বলেছেন, “দশম শ্রেণির এই সরকারি অংক বই যখন ছাপা হয়েছে তখন রাজ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হয়নি। ৮ জুন রাজ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচনের দিন ঘোষণা হয়েছে। তাহলে বোঝা যাচ্ছে, শুভেন্দু অধিকারী ও নওশাদ সিদ্দিকীকে পরস্পরের জোটসঙ্গী প্রমাণের চেষ্টা সরকারিস্তরে বহুদিন আগে থেকেই শুরু হয়েছে। আর শুভেন্দু-নওশাদ জোটের কথা আমরা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে তৃণমূলের সর্বস্তরের নেতা তথা ভাঙড়ের তৃণমূলের পর্যবেক্ষক শওকত মোল্লার পঞ্চায়েত নিবাচনের আগে বার বার শোনা গেছে। এর ফলে এটাই প্রমাণ হচ্ছে সিলেবাস কমিটি, শিক্ষক, শিক্ষিকাদের একটা অংশ রাজ্যের শাসক দল তৃণমূলের হয়ে শিক্ষাক্ষেত্রে রাজনীতি করছে, যার থেকে বাদ যাচ্ছে না কোমলহৃদয় ছাত্র-ছাত্রীরাও।”


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!