- দে । শ ন | ন্দ | ন | চ | ত্ব | র
- এপ্রিল ২৬, ২০২৫
সাগরতীরে উড়ছে নিশান, দিঘার জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধনের কাউন্টডাউন শুরু !
৩০ এপ্রিল, অক্ষয় তৃতীয়ার দিন উদ্বোধন হতে চলেছে বহু প্রতীক্ষিত দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের।পুরীর আদলে নির্মিত এ মন্দিরে উচ্চতা ৬৫ মিটার বা ২১৩ ফুট। সমুদ্র থেকে প্রায় ৩৭০ মিটার উত্তরে ভৌগলিক অবস্থান। মূল অনুষ্ঠানের আগে শুরু হয়েছে প্রাক-উদ্বোধনী মাঙ্গলিক আচার-অনুষ্ঠান। শুক্রবার সকালে ধুমধাম করে অনুষ্ঠিত হল ‘কলসযাত্রা’, যেখানে ২০ জন মহিলা মঙ্গলঘট হাতে মন্দির ও গর্ভগৃহ প্রদক্ষিণ করলেন। উৎসবের আবহে মুখর হয়ে সমুদ্রতটে ধ্বনিত হল মঙ্গলশঙ্খ। এই আয়োজনের কথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে ভাগ করে নিলেন সবার সাথে। তিনি লিখেছেন, ‘আজ ভক্তরা কলসযাত্রায় অংশ নিয়েছেন। আগামী ৩০ এপ্রিল মূর্তিতে প্রাণপ্রতিষ্ঠা ও শুভ উদ্বোধন হবে অক্ষয় তৃতীয়ার দিন।’
মনে করে হচ্ছে, উদ্বোধনের আগেই রাজ্যের পর্যটন মানচিত্রে এক নতুন দিগন্ত খুলতে চলেছে এই মন্দির। প্রস্তুতিও চলছে পুরোদমে। পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের সেবায়েত রাজেশ দৈতাপতি নিজে মন্দির উদ্বোধন উদ্বোধন, ‘প্রাণ প্রতিষ্ঠা’ অনুষ্ঠান ও অনান্য অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বর্তমানে দিঘায় রয়েছেন। সমস্ত কিছুর তদারকি করছেন। এদিন কলযাত্রায় উপস্থিত ছিলেন পূর্ব মেদিনীপুরের অতিরিক্ত জেলাশাসক নেহা বন্দ্যোপাধ্যায়, রামনগর ১ ব্লকের বিডিও পূজা দেবনাথ-সহ একাধিক প্রশাসনিক কর্মকর্তা। মন্দিরের পূর্ব দিকে তৈরি হচ্ছে চৈতন্যদ্বার। অরুণ স্তম্ভের পাশে নির্মাণ করা হয়েছে খড়ের চালা, যেখানে আয়োজিত হবে যজ্ঞ। রাখা হয়েছে আধুনিক অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা। মন্দির এবং গোটা দিঘা সেজে উঠেছে রঙিন আলো, মিনিয়েচার, আর নতুন রঙে রঙিন হয়েছে রাস্তার ধারের বাড়িগুলো।
এ উৎসবের আবহে যোগ হয়েছে আরও এক শিল্পকলার পরত, একটি বিশেষ গান। মুখ্যমন্ত্রী নিজে লিখেছেন ও সুর দিয়েছেন ‘নয়নপথগামী জয় জগন্নাথ স্বামী’ নামের গানটি, গেয়েছেন পর্যটন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। গানের মিউজিক ভিডিওতে উঠে এসেছে মন্দিরের সৌন্দর্য। ইতিমধ্যেই ভাইরাল সে গান, সামাজিক মাধ্যমে ভিউ ছাড়িয়েছে ১ লক্ষ ৪৪ হাজার। তৃণমূল কংগ্রেসের আইটি সেল থেকেও প্রকাশিত হয়েছে অন্য একটি গান, ‘জগন্নাথের নাম নিয়ে চল দীঘা ধাম’। এটি লিখেছেন অভিযান ভট্টাচার্য, ভাবনা ও পরিকল্পনায় দেবাংশু ভট্টাচার্য, কণ্ঠে সৌম্যজিৎ পাল। এটিও যথেষ্ট জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।
গত বুধবার বাস্তুপুজো দিয়ে মন্দিরের আচার-অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে । বৃহস্পতিবার থেকে চলছে যজ্ঞ। শুক্রবারে কলসপুজো ও সিংহাসন পুজো। এখনো কয়েকদিন ধরে চলবে নানা ধর্মীয় রীতি। দিঘার জগন্নাথ মন্দির ঘিরে ইতিমধ্যে রাজ্যের মানুষদের মধ্যে কৌতূহল আর উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়েছে। নিরাপত্তা, পুর্ণার্থীদের সুরক্ষা আর অবাঞ্ছিত কোনো ঘটনা এড়াতে মুখ্যমন্ত্রী দায়িত্ব ভাগ করে দিয়েছেন প্রশাসনিক স্তরে। মন্দিরের নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে ‘ডিরেক্টর অফ সিকিউরিটিজ’। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, রাজ্যের তরফে ইতিমধ্যে প্রতিটি ব্লক, পুরসভা এলাকায় সু-বন্দোবস্ত করতে জেলাশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হোর্ডিংয়ের মাধ্যমে গোটা অনুষ্ঠানের প্রচার হচ্ছে একালা থেকে এলাকা জুড়ে। এসসিডি স্ক্রিনের মাধ্যমে উদ্বোধনের সরাসরি সম্প্রচার করা হবে, স্থানীয় কেবল চ্যানেলগুলিকেও ব্যবহার করা হবে। যেহেতু হাজার হাজার পুণ্যার্থী উপস্থিত থাকবেন, তাই মুখ্যমন্ত্রীর অনুরোধে অতিরিক্ত ট্রেনের ব্যবস্থা করেছে ভারতীয় রেলওয়ে। ৪ মে পর্যন্ত হাওড়া ও পাঁশকুড়া থেকে অতিরিক্ত দুটি লোকাল ট্রেন চলবে দিঘা পর্যন্ত। কাণ্ডারি ও তাম্রলিপ্ত এক্সপ্রেস যথারীতি চলবে। নতুন ট্রেন দুটি ইএমইউ হওয়ায় সব স্টেশনে থামবে, সংরক্ষণের প্রয়োজন নেই, ভাড়াও লোকালের মতোই।
অনুষ্ঠানের কর্মসূচী সম্পর্কে জানা যাচ্ছে, ২৯ এপ্রিল দিনভর চলবে যজ্ঞ। ৩০ এপ্রিল সকাল ১১টা নাগাদ মূর্তিতে প্রাণপ্রতিষ্ঠা, তারপর শুরু হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। উপস্থিত থাকবেন ওড়িশি নৃত্যশিল্পী ডোনা গঙ্গোপাধ্যায় ও তাঁর দল। সঙ্গীত পরিবেশনা করবেন শ্রীরাধা বন্দ্যোপাধ্যায়, জিৎ গঙ্গোপাধ্যায় ও বিধায়ক এবং গায়িকা অদিতি মুন্সি।
❤ Support Us







