- দে । শ
- জুলাই ১০, ২০২৬
রাজ্যসভা উপনির্বাচনে এবার বিজেপি প্রার্থী সুখেন্দুশেখর, সুস্মিতা এবং প্রকাশচিক
প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশচিক বরাইক বিজেপিতে যোগ দেওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাজ্যসভার উপনির্বাচনের জন্য দলের প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাতে বিজেপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি পশ্চিমবঙ্গের ২০২৬ সালের রাজ্যসভার উপনির্বাচনের জন্য এই তিন নেতার নাম অনুমোদন করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। বিজেপির জাতীয় সাধারণ সম্পাদক অরুণ সিংহের স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে তাঁদের প্রার্থিতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়।
উল্লেখ্য, সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশচিক বরাইকের রাজ্যসভা থেকে পদত্যাগের ফলেই পশ্চিমবঙ্গের তিনটি আসনে উপনির্বাচনের প্রয়োজন হয়। এবার সেই তিন নেতাকেই বিজেপির প্রতীকে একই আসনে প্রার্থী করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রার্থীরা একই থাকলেও বদলেছে তাঁদের রাজনৈতিক দল।
বৃহস্পতিবার বিকেলে সল্টলেকে বিজেপির রাজ্য দফতরে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দেন সুখেন্দুশেখর, সুস্মিতা ও প্রকাশচিক। রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের হাত থেকে দলীয় পতাকা গ্রহণ করে তাঁরা পদ্ম শিবিরে নাম লেখান। যোগদানের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁদের রাজ্যসভার প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
তৃণমূলের তিন প্রাক্তন সাংসদকে রাতারাতি বিজেপিতে অন্তর্ভুক্ত করে রাজ্যসভার টিকিট দেওয়াকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কারণ, বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের পরাজয়ের পর বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছিলেন, তৃণমূল থেকে নতুন করে কাউকে দলে নেওয়া হবে না এবং এ বিষয়ে দলের অবস্থান স্পষ্ট। সেই অবস্থান থেকে সরে আসার অভিযোগ উঠতেই শমীক ভট্টাচার্য বলেন, এটি একটি ‘ব্যতিক্রমী’ সিদ্ধান্ত। তাঁর দাবি, তৃণমূলে থেকে যাঁরা দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না, তাঁদের জন্য বিজেপির দরজা খোলা থাকবে—এ কথা আগেই জানানো হয়েছিল। যদিও বিকেলের সাংবাদিক বৈঠকে তিনি তিন নেতাকে রাজ্যসভার প্রার্থী করা হবে কি না, সে বিষয়ে কোনও স্পষ্ট ইঙ্গিত দেননি। রাতেই কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বিজ্ঞপ্তিতে সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটে।
তৃণমূল সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশচিক বরাইক দল ছাড়েন। তাঁদের দাবি, তৃণমূলে থাকাকালীন তাঁরা ব্যাপক দুর্নীতির বিষয়ে অবগত হলেও সেই সময়ে মুখ খোলার সাহস পাননি। সরকার ক্ষমতা হারানোর পরই তাঁরা প্রকাশ্যে দল ও সরকারের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেন। তাঁদের পদত্যাগের ফলে রাজ্যসভায় তৃণমূলের শক্তিও আরও কমে যায়।
অন্যদিকে, তৃণমূল থেকে যাতে নির্বিচারে কেউ বিজেপিতে যোগ দিতে না পারেন, সেই উদ্দেশ্যে সম্প্রতি একটি বিশেষ কমিটিও গঠন করেছিল বিজেপি। শমীক ভট্টাচার্যের ‘ভাল তৃণমূল’ মন্তব্য নিয়েও দলের অন্দরে বিতর্ক দেখা দিয়েছিল এবং একাংশের নেতারা প্রকাশ্যে আপত্তি জানিয়েছিলেন। সেই আবহেই তৃণমূলের তিন প্রাক্তন সাংসদের বিজেপিতে যোগদান এবং সঙ্গে সঙ্গেই রাজ্যসভার প্রার্থী হওয়া রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যসভার তিনটি শূন্য আসনের উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৪ জুলাই। একই দিন ভোটগ্রহণের পর গণনাও সম্পন্ন হবে। এই নির্বাচনে মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ১৪ জুলাই।
❤ Support Us







