- এই মুহূর্তে বি। দে । শ
- জানুয়ারি ৮, ২০২৫
ভয়াবহ ভূমিকম্পে ধবংসস্তুপ তিব্বত। মৃতের সংখ্যা ১২৬। চলছে ‘আফটার শক’ এর স্রোত
মঙ্গলবার ভয়াবহ ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছিল তিব্বত। রিখটার স্কেলে কম্পনের সর্বোচ মাত্রা ৭.১। একের পর এক ‘আফটার শক’ এর জেরে বিধ্বস্ত তিব্বত। মৃত্যের সংখ্যা বেড়ে ১২৬। আহত শতাধিক। ভূমিকম্পে বারবার কেঁপে উঠেছে চিন, ভারত, নেপাল ও ভুটান।
বুধবার ভোরে ফের কেঁপে উঠল তিব্বতের শিজাং। গতকাল থেকে এখনও পর্যন্ত নেপাল-তিব্বত সীমান্তে জিজাং এলাকায় কমপক্ষে ২০টি কম্পন অনুভূত হয়েছে। রিখটার স্কেলে প্রতিটি কম্পনের তীব্রতা ৩.৯ থেকে ৫। আজ সেখানে সকাল ৬ টা ৫৮ মিনিটে আরেকটি কম্পন অনুভূত হয়। গতকাল ভয়াবহ ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছিল তিব্বত। ভুমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল টিংরি প্রদেশ। একের পর এক ‘আফটার শক’ এর জেরে কার্যত ধবংসস্তূপে চেহারা তিব্বতে। সর্বোচ্চ ৭.১ মাত্রার ভূমিকম্পে অন্তত ১২৬ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ। বহু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিব্বতের টিংরি কাউন্টি, ভারতীয় এবং ইউরেশিয়ান টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষ অঞ্চলে অবস্থিত, যেটি শক্তিশালী ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল হিসাবে পরিচিত। গুরুম গ্রামে ২২ জন বাসিন্দা মারা গিয়েছেন। যার মধ্যে রয়েছেন গ্রামের কমিউনিস্ট পার্টির প্রধান শেরিং ফুন্টসোগের ৭৪ বছর বয়সি মাও। তাঁর বহু আত্মীয়স্বজন ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে রয়েছেন বলে তিনি সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন। তিনি আরো জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের সময় অনেক অল্প বয়সি ছেলেমেয়েরাও ঘর থেকে বেরতে পারেননি। চাপা পড়েছেন বহু শিশু ও বৃদ্ধ। চিনা সংবাদ সংস্থা শিনহুয়ার তথ্য অনুসারে, ৩,৬০০-র বেশি বাড়ি ভেঙে পড়েছে। প্রাথমিক সমীক্ষায় জানা গিয়েছে, ৩০,০০০ মানুষ এই মুহূর্তে ঘরছাড়া। দিল্লি, বিহার, আসাম ও পশ্চিমবঙ্গ সহ ভারতের বেশ কয়েকটি অঞ্চলে ভূমিকম্পের কম্পন অনুভূত হয়েছে।
উদ্ধারকারী দলগুলি তীব্র শৈতপ্রবাহের মধ্যেও ধবংসস্তুপের নিচ থেকে চাপা পড়া মানুষদের সন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন। উদ্ধার করছেন জীবিত ও মৃতদেহ। সোশ্যাল মিডিয়ার ছবিতে দেখা গিয়েছে মর্মান্তিক দৃশ্য, ধুলোমাখা শীতের কোট গায়ে একটি শিশুকে পিঠে চাপিয়ে ধ্বংসস্তূপের নীচ থেকে বেরচ্ছেন এক উদ্ধারকারী । ঠান্ডায় কাঁপছিল শিশুটি, তীব্র আতঙ্কে কাঁদছিল সে। আরেকজন উদ্ধারকারী তার গায়ে মোটা কম্বল চাপিয়ে প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করছিলেন।
মাউন্ট এভারেস্টের ‘প্রবেশদ্বার’ বলে পরিচিত টিংরি প্রদেশ তিব্বত-নেপাল সীমান্তে অবস্থিত। সেখানে বর্তমান তাপমাত্রা মাইনাস ১১ ডিগ্রি। স্রোতের মতো ঘনঘন ‘আফটার শক’ ও হাড় জমানো ঠান্ডার প্রতিকূল অবস্থার সঙ্গে লড়াই করেই চলছে উদ্ধারকার্য।
❤ Support Us







