- এই মুহূর্তে দে । শ
- আগস্ট ২৮, ২০২৫
ছাত্রস্বার্থ-বিরোধী, বিরোধী শিবির । ছাত্রপরিষদের সমাবেশ থেকে বার্তা মমতার । দিল্লির রাজপথ দখলের আহ্বান অভিষেকের
তৃণমূল ছাত্রপরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠান থেকে বিরোধীদের নিশানা করলেন তৃণমূল সুপ্রিম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি মেয়ো রোডের সভা থেকে নিয়োগ জটিলতা এবং জয়েন্টের ফলপ্রকাশে দেরি নিয়ে মামলাকারীদের একাংশকে বিঁধলেন। তিনি বলেন, “যাঁরা ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে বড় বড় কথা বলে। নিয়োগে বাধা দেয়। ভর্তিতে বাধা দেয়। আমি দুঃখিত, জয়েন্টের ফল প্রকাশে একটু দেরি হয়েছে। এর জন্য আমাদের দোষ নেই। যারা কোর্টে মামলা করে, এরা একসঙ্গে কেস করে। আবার এসে আমাদের নামে নিন্দা করে। এরা দু’নম্বরি।”
মমতা এদিন বলেন, “সরকারের তরফে এখনও পর্যন্ত ১ কোটি ৩৮ লক্ষ ছাত্রছাত্রীকে আমরা সবুজসাথী প্রকল্পের সুবিধা দেওয়া হয়েছে। ৫৩ লক্ষ পড়ুয়াকে তরুণের স্বপ্ন প্রকল্পে মোবাইল দেওয়া হয়েছে। ‘স্টুডেন্ট্স ক্রেডিট কার্ড’-এর আওতায় ৯২ হাজার ছাত্রছাত্রী সুবিধা পাচ্ছেন।” পাশাপাশি সংখ্যালঘু পড়ুয়াদের জন্য বৃত্তি সংক্রান্ত তথ্যও তুলে ধরেন তিনি।
মমতা বলেন, “২০১১ সালের পর থেকে রাজ্যের আয় বেড়েছে প্রায় সাড়ে পাঁচ গুণ। দারিদ্রসীমা সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় মাপকাঠি। ১কোটি ৭২ লক্ষ মানুষকে ২০১৩-২০২৩ সালের মধ্যে দারিদ্রসীমার উপরে নিয়ে এসেছি।”
মমতা কেন্দ্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, “গবেষকদের ইউজিসি গ্র্যান্ট বন্ধ করে দিয়েছে। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে হঠাৎ করে গবেষকদের টাকা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। সবটা তো আমাদের লোক থাকেন না। বিভিন্ন জায়গার লোক থাকেন। কেউ কেউ দুষ্টুমি করে, কেউ কেউ মিষ্টিমি করে। আমরা মিষ্টিমি করি, দুষ্টুমি করি না।”
তৃণমূল সুপ্রিম বলেন, “জীবন থাকতে রাজ্যে এনআরসি হতে দেব না। অবস্ যোজনা, ১০০ দিনের কাজ সবে আমরা প্রথম ছিলাম। এসব বন্ধ করে যারা ভাবছে রাজ্যে এনআরসি চালু করবে তাদের বলছি, আমার জীবন থাকতে রাজ্যে এসব করতে দেব না।” বিজেপি যে ভোটার আগে রাজ্যে এসে বর্বর কথা বলে ভোট শেষ হলেই পালিয়ে যায় সেই বিষয়টিও মমতা এদিন তাঁর বক্তব্যে তুলে ধরেন।
বেঙ্গল ফাইলস-ছবির সমালোচনা করতে গিয়ে বিজেপি-সিপিএমকে এক বন্ধনীতে ফেলে মমতা বলেন, “এরা ক্ষুদিরাম বোসকে ক্ষুদিরাম সিং বলে। ব্রিটিশদের দালালি করেছে তোমাদের পূর্বপুরুষরা। স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় কোথায় চিলি তোমরা? রামমোহন, নেতাজি, রবীন্দ্রনাথ সবাই সবার মতো করে স্বাধীনতা আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন। রবীন্দ্রনাথ জাতীয় সংগীত লিখেছেন। বঙ্কিম চন্দ্র বন্দে মাতরম লিখেছেন। সংহতি, ঐক্য করেছেন।”
এর পর মমতা সরাসরি কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তোপ দেগে বলেন,”বাড়ি বাড়ি এসে সার্ভে করছে। কোনও তথ্য দেবেন না। নির্বাচন কমিশন বিডিওদের ভয় দেখাচ্ছে। কোনও তথ্য কাউকে দেবেন না। এরা ললিপপ সরকার।” অমিত শাহকে নিশানা করে বলেন, “আপনার ছেলে ক্রিকেট বর্ডার প্রধান, আত্মীয়রা আইএএস, মনে রাখবেন তৃণমূল প্রাণ থাকতে গণতন্ত্র ধ্বংস হতে দেবে না। আমি গরিব, যাদের কেউ নেই তাদের জন্য আমি আছি।তাই বলি বাংলা যা পারে অন্য কেউ তা পারে না।”
সব উৎসব শান্তিতে পালন করবেন বলে নির্দেশ দেন মমতা। বলেন, “মোদের গর্ব মোদের আশা, আমরি বাংলা ভাষা। বিজেপি, বামফ্রন্টের বাঁধ ভেঙে দাও,চক্রান্তের,কুৎসার বাঁধ ভেঙে দাও। চক্রান্তকারীদের ভাঙো।”
ছাত্রদের বলেন, “আপনারাই আগামীর ভবিষ্যৎ। নিজেদের ঠিকানা টিকিয়ে রাখুন। দেশে ঘুরলেও ঠিকানা ঠিক রাখুন। মানুষের পাশে থাকতে হবে, মানুশকে ভালোবাসতে হবে। বিজেপি, বামেরা নেতাজিকে বুর্জোয়া বলতো। এরা এতবড় নির্লজ্জ।”
মেয়ো রোডের মঞ্চে বলতে উঠে তৃণমূলনেত্রী যোগমায়া দেবী কলেজে নিজের ছাত্ররাজনীতির অভিজ্ঞতার কথা ভাগ করে নিলেন।
দুপুর ১টা নাহাদ মেয়ো রোডের সভাস্থলে পৌঁছে যান তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তখন মঞ্চে বক্তৃতা করছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
অভিষেক এদিন বলেন, “বাংলাকে পদে পদে অপমানিত করেছে, কালিমালিপ্ত করেছে বিজেপি। ওরা বিভিন্ন ভাবে বাংলাকে ব্যাঙ্গ বিদ্রুপ করেছে। বাংলার কৃষকের টাকা আটকে রেখেছে। জল জীবন মিশনের অধীনে ১০ কোটি মানুষের পানীয় জলের প্রকল্পের টাকা আটকে রেখেছে। ৫০ লক্ষ গরীবের আবাস যোজনার টাকা আটকে রেখেছে। গ্রামীণ সড়ক যোজনায় ১০ হাজার কোটি টাকা আটকে রেখেছে। তাদের জবাব দেবেন না?’’ অভিষেক বলেন, ‘‘বাংলা বলে কোনও ভাষা নেই? রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কী ভাষায় কথা বলতেন? ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কী ভাষা বলতেন? নেতাজি, মাতঙ্গিনী হাজরা, ক্ষুদিরাম বসু, জীবনানন্দ দাশ, মাইকেল মধুসূদন দত্ত— এঁরা কী ভাষায় কথা বলতেন? বিদ্যাসাগর না থাকলে নিজের নাম আর বাবার নামটাও লিখতে পারতেন না!’’
এনআরসি-র সমালোচনা করে কেন্দ্রকে বিঁধে অভিষেক বলেন, ‘‘আগে মানুষ নিজের ভোটাধিকারবলে সরকার বেছে নিত, এখন সরকার নিজেদের স্থায়ীত্ব বাড়ানোর জন্য পছন্দ মতো ভোটার বেছে নিচ্ছে। আগে মানুষ সরকার বাছত, এখন সরকার ভোটার বেছে নিচ্ছে। এর বিরুদ্ধে বাংলা লড়বে। যদি এক জনেরও ভোটাধিকার বিজেপি সরকার কাড়তে চায়, তা হলে তৃণমূল ১০ লক্ষ মানুষ নিয়ে দিল্লির রাজপথ দখল করবে।’’
❤ Support Us







