- বি। দে । শ
- মার্চ ৬, ২০২৬
নতুন যুদ্ধের আশঙ্কা । কাস্ত্রোর দেশ কি এবার ট্রাম্পের নজরে ?
ভেনেজুয়েলা ও ইরান ইস্যুর পর এবার আরও একটি দেশের দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নজর পড়তে পারে— এমনই ইঙ্গিত দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি জানান, আপাতত যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য ইরান যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটানো। তবে সেই সংঘাত মিটে গেলে কিউবার বিষয়টি সামনে আসতে দেরি হবে না বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে— তাহলে কি ইরানের পর এবার কিউবার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে আমেরিকা ?
বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, “আমরা প্রথমে এই যুদ্ধ শেষ করতে চাই। তারপর কিউবার বিষয়টি সামনে আসবে। খুব বেশি দেরি হবে না—আপনারা এবং অসংখ্য সাধারণ মানুষ আবার কিউবায় ফিরে যেতে পারবেন।”
তিনি আরও দাবি করেন, কিউবা নাকি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসতে আগ্রহী। ট্রাম্পের কথায়, “কিউবা আমেরিকার সঙ্গে একটি চুক্তি করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।” একইসঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে অনেক কিউবান-আমেরিকান ভবিষ্যতে নিজেদের জন্মভূমিতে ফিরে যেতে পারবেন। তাদের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, “আমরা চাই আপনারা ফিরে আসুন। আমরা আপনাদের হারাতে চাই না।”
বর্তমানে জ্বালানি সংকটে ভুগছে কিউবা। এতদিন দেশটির তেলের বড় অংশ সরবরাহ করত ভেনেজুয়েলা। কিন্তু ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ঘিরে আমেরিকার কড়া অবস্থানের পর সেই সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। ফলে কিউবার অর্থনীতি গুরুতর চাপে পড়েছে। বিভিন্ন রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, গত ৯ জানুয়ারির পর থেকে কিউবায় আর কোনও তেল আমদানি হয়নি। এর ফলে দেশে তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প প্রশাসন কিউবার বিরুদ্ধে আরও কঠোর নীতি নিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। উল্লেখযোগ্যভাবে, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ক্ষমতায় থাকাকালীন কিউবার সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। সেই সময় দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানো হয় এবং কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়। কিন্তু ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর আবার কিউবার বিরুদ্ধে একাধিক কঠোর বিধিনিষেধ জারি করা হয়।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র কিউবাকে ‘সন্ত্রাসবাদের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষক’ তালিকাতেও অন্তর্ভুক্ত করে। ট্রাম্প প্রশাসনের অভিযোগ, কিউবা বিভিন্ন কমিউনিস্ট ও আমেরিকা-বিরোধী গোষ্ঠীকে আশ্রয় দেয় এবং ভেনেজুয়েলার সরকারকে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সহায়তা প্রদান করে।
সব মিলিয়ে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে। এখন দেখার বিষয়, ইরান পরিস্থিতির পর সত্যিই কি কিউবার দিকে কঠোর পদক্ষেপের পথে হাঁটে যুক্তরাষ্ট্র, নাকি এটি কেবল কূটনৈতিক চাপ তৈরির একটি কৌশল।
❤ Support Us







