Advertisement
  • বি। দে । শ
  • ডিসেম্বর ২২, ২০২৫

উধাও হওয়ার ২৪ ঘণ্টা পর ফিরল বিতর্কিত এপস্টাইন ফাইলের ছবি, উঠছে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
উধাও হওয়ার ২৪ ঘণ্টা পর ফিরল বিতর্কিত এপস্টাইন ফাইলের ছবি, উঠছে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ

বিতর্ক ও সমালোচনার ঝড়ে ফের একবার আলোচনার কেন্দ্রে জেফ্রি এপস্টাইন সংক্রান্ত নথি। ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে উধাও থাকার পর মার্কিন বিচার বিভাগের ওয়েবসাইটে ফের প্রকাশ্যে এল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি-সহ মোট ১৬টি ফাইল। এই ঘটনার পর রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।

শুক্রবার রাতে এপস্টাইন ফাইলের সঙ্গে সম্পর্কিত আরও কিছু ছবি প্রকাশ করা হয়। কিন্তু আপলোডের কিছুক্ষণ পরেই ট্রাম্পের ছবি-সহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নথি বিচার বিভাগের ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। বিষয়টি সামনে আসতেই রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ ওঠে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয় প্রবল সমালোচনা।

রবিবার (২২ ডিসেম্বর) মার্কিন বিচার বিভাগ একটি বিবৃতিতে জানায়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ছবি-সহ কয়েকটি বিতর্কিত ছবি সাময়িকভাবে সরানো হয়েছিল শুধুমাত্র পর্যালোচনার উদ্দেশ্যে। পরে সেগুলি অনলাইন এপস্টাইন ফাইল ডাটাবেসে পুনরুদ্ধার করা হয়েছে।

ফের প্রকাশ্যে আসা ছবিগুলির মধ্যে দু’টি ছবিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দেখা যাচ্ছে। একটি ছবিতে তাঁকে কয়েকজন লাস্যময়ীর সঙ্গে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। অন্য ছবিতে ট্রাম্পের সঙ্গে রয়েছেন তাঁর স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্প, জেফ্রি এপস্টাইন এবং এপস্টাইনের দোষী সাব্যস্ত সহযোগী ঘিসলাইন ম্যাক্সওয়েল। অতীতে ট্রাম্প বহুবার প্রকাশ্যে এপস্টাইনকে ‘ঘনিষ্ঠ বন্ধু’ বলে উল্লেখ করলেও, যৌন কেলেঙ্কারিতে এপস্টাইনের নাম জড়ানোর পর তিনি দাবি করেন, এই বিষয়ে তিনি কিছুই জানতেন না।

ছবিগুলি সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় বিরোধী ডেমোক্র্যাটিক পার্টি সরব হয়। হাউস ওভারসাইট কমিটি এক্স (সাবেক টুইটার)-এ পোস্ট করে অভিযোগ তোলে যে, এপস্টাইন ফাইলের ৪৬৮ নম্বর নথি ইচ্ছাকৃতভাবে সরানো হয়েছে, কারণ সেটি প্রকাশ্যে থাকলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে গুরুতর তথ্য সামনে আসতে পারত। তারা প্রশ্ন তোলে, “কী ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে?”

এই অভিযোগের জবাবে বিচার বিভাগ জানায়, ভুক্তভোগীদের পরিচয় সুরক্ষিত রাখাই ছিল তাদের প্রধান উদ্দেশ্য। বিবৃতিতে বলা হয়, “সম্ভাব্য পরবর্তী পদক্ষেপ এবং ভুক্তভোগীদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ছবিগুলি সাময়িকভাবে সরানো হয়েছিল।” পর্যালোচনার পর নিশ্চিত হওয়া যায় যে ছবিগুলিতে এপস্টাইনের কোনও ভুক্তভোগী নেই। সেই কারণেই কোনও পরিবর্তন না করেই সেগুলি পুনরায় প্রকাশ করা হয়েছে।

ডেপুটি মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ স্পষ্ট করে বলেন, ছবি সরানোর সিদ্ধান্তের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কোনও সম্পর্ক নেই। এনবিসি নিউজের ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে তিনি জানান, “উদ্বেগের বিষয় ছিল ছবিতে থাকা নারীদের পরিচয়। ট্রাম্প নিজে নন। এই সিদ্ধান্তে প্রেসিডেন্টের কোনও ভূমিকা ছিল না।”

মার্কিন বিচার বিভাগের দাবি, এপস্টাইন কাণ্ডে যৌন হেনস্থার শিকার কোনও নারীর মুখ বা পরিচয় যেন কোনওভাবেই প্রকাশ্যে না আসে, সেটাই তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তবে ছবি ফের প্রকাশ্যে এলেও, এই ঘটনা ঘিরে ওঠা প্রশ্ন ও বিতর্ক এখনও পুরোপুরি থামেনি।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!