- বি। দে । শ
- মার্চ ১৩, ২০২৬
ইরাকে ৫ ক্রূ-সদস্যসহ বিধ্বস্ত মার্কিন বিমান
পশ্চিম ইরাকে বিধ্বস্ত হল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি ভরার একটা সামরিক বিমান। এই সামরিক বিমানটিতে পাঁচজন ক্রু সদস্য ছিলেন। বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর উদ্ধার অভিযান পরিচালনার জন্য মার্কিন বাহিনী তৎপর হয়ে ওঠে। যদিও মার্কিন বাহিনীর পক্ষে এখনও হতাহতের কোনও খবর নিশ্চিত করা হয়নি। ইরাকে কর্মরত ইরান–সমর্থিত এক ইসলামিক গোষ্ঠী বিমানটি ভূপাতিত করার দায় স্বীকার করেছে।
বিধ্বস্ত হওয়া বিমানটি একটা KC-135 ট্যাঙ্কার। এই বিমানটি মার্কিন সামরিক বাহিনী দূরপাল্লার অভিযানের সময় যুদ্ধবিমান এবং অন্যান্য বিমানে জ্বালানি ভরার কাজে ব্যবহার করত। ট্যাঙ্কার বিমানটি সাধারণত তিনজন ক্রু নিয়ে পরিচালনা করা হত। তবে এই বিমানে কমপক্ষে পাঁচজন কর্মী ছিলেন। অতিরিক্ত ক্রু সদস্যরা কী ভূমিকা পালন করছিলেন তা স্পষ্ট নয়।
মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, দুটি বিমান জ্বালানি ভরার কাজে জড়িত ছিল। একটা বিমান নিরাপদে অবতরণ করেছে, অন্যটি পশ্চিম ইরাকে বিধ্বস্ত হয়েছে। ইরানকে লক্ষ্য করে মার্কিন সামরিক অভিযানের কথা উল্লেখ করে কেন্দ্রীয় কমান্ড বলেছে, ‘অপারেশন এপিক ফিউরির সময় বন্ধুত্বপূর্ণ আকাশসীমায় ঘটনাটি ঘটেছে এবং উদ্ধার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত দ্বিতীয় বিমানটিও একটা KC-135 ট্যাঙ্কার ছিল। পরে আরও তথ্য সরবরাহ করা হবে। আমরা আরও বিশদ সংগ্রহ করার চেষ্টা করছি।’
এদিকে, ইরান–সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির একটা জোট, ইরাকের ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স, মার্কিন KC-135 রিফুয়েলিং বিমানটি গুলি করে ভূপাতিত করার দায় স্বীকার করেছে। তারা এক বিবৃতিতে বলেছে যে, ‘আমাদের দেশের সার্বভৌমত্ব এবং আকাশসীমার প্রতিরক্ষায় এই হামলা করা হয়েছে।’
১৯৫০ এবং ১৯৬০ এর দশকের গোড়ার দিকে বোয়িং কর্তৃক নির্মিত KC-135 দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন সামরিক বাহিনীর আকাশে জ্বালানি ভরার কাজ করে থাকে। এই বিমানের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মার্কিন বিমানগুলিকে জ্বালানির জন্য অবতরণ না করেই অভিযান চালিয়ে যেতে সাহায্য করে। ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযানে এই নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চারটি ট্যাঙ্কার বিমান বিধ্বস্ত হল। গত সপ্তাহে কুয়েতে তিনটি আমেরিকান যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছে।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে যুদ্ধে সাতজন আমেরিকান সেনা নিহত হয়েছে। কুয়েতের একটা বেসামরিক বন্দরে এক অপারেশন সেন্টারে ইরানি ড্রোন হামলায় ছয়জন সেনা নিহত হয়েছেন, এবং সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতে হামলায় আহত হয়ে সপ্তমজন মারা গেছেন। এই সপ্তাহের শুরুতে পেন্টাগন জানিয়েছে, সংঘর্ষে প্রায় ১৪০ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন, যার মধ্যে আটজনের অবস্থা গুরুতর।
❤ Support Us







