Advertisement
  • দে । শ
  • জুলাই ২৫, ২০২৬

কেন অনশন প্রত্যাহার ? সমালোচনার জবাবে কী বললেন ওয়াংচুক

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
কেন অনশন প্রত্যাহার ? সমালোচনার জবাবে কী বললেন ওয়াংচুক

শিক্ষায় দুর্নীতি, নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদ এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে টানা ২৬ দিন অনশন করেছিলেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক । বৃহস্পতিবার গভীর রাতে হাসপাতালে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিংহের উপস্থিতিতে তিনি অনশন ভাঙেন । তবে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি পূরণ হওয়ার আগেই অনশন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত ঘিরে শুরু হয়েছে বিতর্ক । সমাজমাধ্যমে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, কেন্দ্রের সঙ্গে কোনও ‘বোঝাপড়া’র ফলেই কি তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ?

এই বিতর্কের মাঝেই হাসপাতাল থেকে একটি ভিডিওবার্তা প্রকাশ করে সমস্ত অভিযোগের জবাব দেন সোনম ওয়াংচুক । তিনি জানান, ২৬ দিনের অনশনের পর নিজের সততা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে, তা তিনি কল্পনাও করেননি ।

ভিডিওবার্তায় সোনম বলেন, “২৬ দিনের অনশনের পরে আমাকে এখন আন্তরিকতার প্রমাণ দিতে হবে ? দুঃখ, বিস্ময়, ক্ষোভ এবং শোকের মিশ্র অনুভূতি নিয়ে আমি এই ভিডিও করছি । দীর্ঘ অনশন, আন্দোলন এবং শারীরিক ধকলের কারণে আমার শরীর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে । পেশি ক্ষয়ে গিয়েছে, অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ এবং মস্তিষ্কে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। আমার ওজন কমেছে ১১ কেজি । এত কিছুর পরেও যদি আমাকে প্রমাণ করতে হয় যে আমার অনশন কতটা নিখুঁত ছিল, তা অত্যন্ত বেদনাদায়ক ।”

তিনি আরও জানান, শুক্রবার সকাল থেকেই বহু মানুষ তাঁকে ফোন করে এবং হাসপাতালে গিয়ে সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন মন্তব্য ও অভিযোগের কথা জানিয়েছেন । অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, কেন তিনি জেপি নড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিংহের উপস্থিতিতে অনশন ভাঙলেন ? কেন শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি থেকে সরে এলেন ? এমনকি কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে তাঁর গোপন সমঝোতা হয়েছে ।

এই অভিযোগের কড়া জবাব দিয়ে সোনম বলেন, “যদি সত্যিই কোনও বোঝাপড়া করতে হত, তাহলে কি কেউ ২৬ দিন না-খেয়ে আন্দোলন করত ? সবাই দেখেছেন, অন্যরা কীভাবে সমঝোতা করে । আমি চাইলে কি দিল্লির কোনও বিলাসবহুল শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে বসে সেই কাজ করতে পারতাম না ? রাস্তার ধারে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে অনশন করার প্রয়োজনই বা হতো কেন ?”
একই সঙ্গে এই কঠিন সময়ে যাঁরা তাঁর পাশে থেকেছেন এবং তাঁর সুস্থতা কামনা করেছেন, তাঁদের সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান তিনি ।

উল্লেখ্য, সোনম ওয়াংচুক ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে অনশনে বসেছিলেন । তাঁর অনশন ভাঙার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে ওই সংগঠনের নেতৃত্ব । তবে তারা স্পষ্ট জানিয়েছে, আন্দোলনের মূল দাবি থেকে তারা এক ইঞ্চিও সরে আসেনি ।

সিজেপি-র মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে তাঁদের অবস্থান-বিক্ষোভ অব্যাহত থাকবে। প্রশ্নফাঁস রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইতিমধ্যেই বৈঠক হয়েছে। তবে শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফা না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় সংগঠন ।

রাঙ্কা আরও বলেন, সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হচ্ছিল । সেই কারণেই সংগঠনের পক্ষ থেকে একাধিকবার তাঁকে অনশন ভাঙার অনুরোধ জানানো হয়েছিল । তাঁর স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা ভেবেই অনশন শেষ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে । এর সঙ্গে আন্দোলনের দাবিদাওয়া বা সরকারের সঙ্গে কোনও সমঝোতার সম্পর্ক নেই বলেও তিনি স্পষ্ট করে দেন ।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!