Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬

শিবিরে উপচে পড়া ভিড়, অনলাইনেও শুরু ‘যুবসাথী’ আবেদন। প্রথম দিনেই জমা পড়েছে প্রায় ৬ লক্ষ ফর্ম  

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
শিবিরে উপচে পড়া ভিড়, অনলাইনেও শুরু ‘যুবসাথী’ আবেদন। প্রথম দিনেই জমা পড়েছে প্রায় ৬ লক্ষ ফর্ম  

প্রথম দিনেই বিপুল সাড়া মিলেছে রাজ্য সরকারের ‘যুবসাথী’ প্রকল্পে। সে অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই অফলাইনের পাশাপাশি এবার অনলাইনেও আবেদন গ্রহণের ব্যবস্থা চালু করল নবান্ন। রবিবার রাত ১২টা থেকে সরকারি পোর্টাল https://apas.wb.gov.in–এ আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রশাসনের মতে, শিবিরগুলিতে বাড়তে থাকা ভিড় কমাতেই এই সিদ্ধান্ত।

রবিবার সকাল থেকেই রাজ্যজুড়ে ‘স্বনির্ভর বাংলা’ শিবিরগুলিতে ছিল দীর্ঘ লাইন। পাহাড় থেকে জঙ্গলমহল, গঙ্গাসাগর থেকে শহরতলি— প্রায় সর্বত্রই একই ছবি। মূল আকর্ষণ ‘যুবসাথী’ প্রকল্প। প্রথম দিনেই রাজ্যজুড়ে প্রায় ৫ লক্ষ ৬৬ হাজার আবেদন জমা পড়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। রাজ্যে মোট ৭৬৯টি শিবিরে অফলাইনে আবেদন নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু প্রত্যাশার তুলনায় বহু গুণ বেশি সাড়া মেলায় দ্রুত অনলাইন পদ্ধতিও চালু করা হয়েছে। চলতি মাসের ৫ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তী বাজেটে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের ঘোষণা করেন। মুখ্যমন্ত্রী দাবী, চাকরির জন্য অপেক্ষমাণ অথবা স্বনির্ভর হওয়ার চেষ্টায় থাকা ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সি যুবক-যুবতীদের আর্থিক সহায়তা দেওয়াই এ প্রকল্পের লক্ষ্য। এপ্রিল মাস থেকে মাসে দেড় হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে ৫ বছর এই সহায়তা চালু থাকবে বলে জানানো হয়েছে। এরপর প্রয়োজনে পুনর্বিবেচনা করা হবে।

রবিবারের শিবিরগুলিতে আসা মানুষের বড়ো অংশই ছিলেন যুবসাথীর আবেদনকারী। প্রশাসনের হিসেব বলছে, রাজ্যজুড়ে মোট ৬ লক্ষ ২৯ হাজার মানুষের উপস্থিতির মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশই যুবসাথীর ফর্ম তুলেছেন বা জমা দিয়েছেন। একই দিনে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে প্রায় ৩১ হাজার এবং খেতমজুরদের আর্থিক সহায়তার জন্য প্রায় সাড়ে ৩৬ হাজার আবেদন জমা পড়েছে। কিন্তু সব কিছুকে ছাপিয়ে নজর কেড়েছে ভাতার দিকে যুব সম্প্রদায়ের সাড়া। শিবিরগুলিতে একাধিক কাউন্টার খোলা থাকায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আধ ঘণ্টা থেকে ৪৫ মিনিটের মধ্যে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, মাধ্যমিকের অ্যাডমিট ও মার্কশিট, ব্যাঙ্কের পাশবইয়ের প্রথম পৃষ্ঠার প্রতিলিপি এবং পাসপোর্ট সাইজ ছবি নিয়ে গেলেই আবেদন করা যাচ্ছে। জমা পড়া আবেদনপত্র সংশ্লিষ্ট আধিকারিকেরা সঙ্গে সঙ্গেই নির্দিষ্ট পোর্টালে আপলোড করছেন, ফলে যাচাইয়ের কাজ দ্রুত এগোবে বলেই প্রশাসনের দাবি।

বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উঠে আসছে আবেদনকারীদের প্রত্যাশার কথা। কালিম্পংয়ের এক তরুণী জানিয়েছেন, কন্যাশ্রী প্রকল্প তাঁকে পড়াশোনায় সাহায্য করেছিল, এবার যুবসাথীর টাকা দিয়ে চাকরির পরীক্ষার বই ও টিউশনের খরচ জোগাতে পারবেন। উত্তর কলকাতার এক আবেদনকারীর কথায়, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় সংসারের আর্থিক চাপ বড়ো বাধা হয়ে দাঁড়ায়। মাসে দেড় হাজার টাকা সেই চাপ কিছুটা হলেও লাঘব করবে। তবে ভিড় সামলাতে কয়েকটি জেলায় প্রশাসনকে বেগ পেতে হয়েছে। উত্তর দিনাজপুরের চোপড়া বিডিও কার্যালয়ে লাইনে দাঁড়ানো দুই যুবকের মধ্যে বচসা থেকে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। ২ জন আহত হন বলে জানা গিয়েছে। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। কিছু সময়ের জন্য আবেদন প্রক্রিয়া বন্ধ থাকলেও পরে তা আবার শুরু হয়। মালদহের চাঁচল এলাকাতেও ফর্ম বিলি ঘিরে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। বারবার মাইকিং করেও ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হয়েছে পুলিশ ও প্রশাসনকে।

এদিকে অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় অনেকেরই সুবিধা হবে বলে মনে করছে প্রশাসন। আবেদন করতে হলে প্রথমে সরকারি পোর্টালে গিয়ে ‘Apply’ অপশনে ক্লিক করতে হবে। প্রয়োজনীয় নথিগুলি আগে থেকে পিডিএফ আকারে সংরক্ষণ করে রাখতে হবে, প্রতিটি ফাইলের আকার দুই এমবি-র মধ্যে এবং ছবি ও সই এক এমবি-র মধ্যে রাখতে হবে। মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড ও মার্কশিট, আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, ব্যাঙ্কের পাশবইয়ের প্রথম পৃষ্ঠা, জাতিগত শংসাপত্র (যদি প্রযোজ্য হয়), পাসপোর্ট সাইজ ছবি এবং নিজের সই আপলোড করতে হবে। এরপর সক্রিয় মোবাইল নম্বর দিয়ে ওটিপি যাচাই করে লগ-ইন সম্পন্ন করতে হবে। ফর্ম পূরণ ও নথি আপলোডের পর সেল্ফ ডিক্লারেশন মেনে ফাইনাল সাবমিট করলে একটি অ্যাপ্লিকেশন নম্বর পাওয়া যাবে। সেই নম্বর ভবিষ্যতের জন্য সংরক্ষণ করে রাখা আবশ্যক। আবেদনপত্র ডাউনলোড করেও রাখা যাবে।

প্রশাসনের ঘোষণা অনুযায়ী, ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ক্যাম্প চলবে। অফলাইনের পাশাপাশি অনলাইন ব্যবস্থাও খোলা থাকায় আবেদনকারীদের ভিড় অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রথম দিনের সাড়াকে সামনে রেখে এখন নজর প্রশাসনের—এই বিপুল আবেদন দ্রুত যাচাই করে এপ্রিলের মধ্যেই অনুদান বিতরণ শুরু করা যায় কি না। ‘যুবসাথী’ প্রকল্প নিয়ে বিরোধী শিবির অবশ্য কটাক্ষ করতে ছাড়েনি। বিজেপি নেতাদের দাবি, কর্মসংস্থান তৈরি না করে ভাতা দেওয়ার নীতি দীর্ঘমেয়াদে সমস্যার সমাধান নয়। তাঁদের বক্তব্য, যুবকদের স্থায়ী চাকরির সুযোগ তৈরি করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত। ভাতা দিয়ে বেকারত্বের মূল সমস্যা দূর করা যাবে না। একই সুর শোনা গিয়েছে সিপিআইএম-এর তরফেও। বাম নেতাদের অভিযোগ, নির্বাচনকে সামনে রেখে ‘আর্থিক অনুদানের রাজনীতি’ করছে রাজ্য সরকার। তাঁদের মতে, শিল্প ও বিনিয়োগ বাড়ানোর মাধ্যমে কর্মসংস্থান তৈরি না হলে এই ধরনের প্রকল্প কেবল সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে। অন্যদিকে কংগ্রেস-এর রাজ্য নেতৃত্বও প্রকল্পের আর্থিক বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তাঁদের দাবি, রাজ্যের আর্থিক অবস্থার উপর অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে এই প্রকল্প চালিয়ে যাওয়া কঠিন হতে পারে। তবে তৃণমূলের তরফে পাল্টা দাবি করা হয়েছে, যুবকদের স্বনির্ভরতার পথে এগিয়ে দিতে ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় আর্থিক সহায়তা দিতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!