- দে । শ
- জুলাই ২৪, ২০২৬
‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা’, ঘুষ চাওয়ার অভিযোগে দুই এমভিআই সাসপেন্ড, এসিবি তদন্তের নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর
বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও এক পণ্যবাহী ট্রাকচালকের কাছে ঘুষ দাবি এবং টাকা না দেওয়ায় গাড়ি আটকে রেখে হয়রানির অভিযোগে পশ্চিম বর্ধমানের রামপুর চেকপোস্টে কর্মরত দুই মোটর ভেহিকল ইনস্পেক্টর (এমভিআই)-কে সাসপেন্ড করা হয়েছে। অভিযুক্ত দুই আধিকারিকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্ত শুরু করেছে রাজ্যের দুর্নীতি দমন শাখা (এসিবি)।
শুক্রবার সমাজমাধ্যমে এই পদক্ষেপের কথা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট বার্তা দেন যে, তাঁর সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি অনুসরণ করছে। তিনি লেখেন, “কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নন। কোনও অবস্থাতেই তোলাবাজি ও দুর্নীতি সহ্য করা হবে না। প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত করতে দুর্নীতির উপাদানগুলোকে নির্মূল করার ব্যাপারে আমরা দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, পণ্যবাহী ট্রাকের চালক দীপক সিংহের কাছ থেকে অভিযুক্ত দুই এমভিআই— নাজিমুল হক এবং অনুপম বন্দ্যোপাধ্যায়— ২২ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। অভিযোগ, ওই টাকা দিতে অস্বীকার করায় ট্রাকটি বেআইনিভাবে আটকে রাখা হয় এবং চালককে হয়রানির শিকার হতে হয়।
অভিযোগ পাওয়ার পরই দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রী জানান, পশ্চিমবঙ্গ সার্ভিসেস (শ্রেণিবিন্যাস, নিয়ন্ত্রণ ও আপিল) বিধি, ১৯৭১-এর বিধি ৭(১)(ক) অনুযায়ী অভিযুক্ত দুই আধিকারিককে অবিলম্বে সাসপেন্ড করা হয়েছে। পাশাপাশি, পুরো ঘটনার ফৌজদারি তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য বিষয়টি এসিবি-র হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, বেআইনিভাবে আটক রাখা যানবাহন দ্রুত মুক্ত করা এবং পরিবহণ ব্যবসায়ীদের হয়রানি রোধে সংশ্লিষ্ট দফতরকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি প্রশাসনের উদ্দেশে কড়া সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, “এটি প্রশাসনের সর্বস্তরের জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা। কোনও কর্মকর্তা যদি দুর্নীতি, হয়রানি বা অবৈধ সুবিধা গ্রহণে জড়িত বলে প্রমাণিত হন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ কঠোর শৃঙ্খলামূলক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা একটি স্বচ্ছ, ন্যায়সঙ্গত এবং দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।”
উল্লেখ্য, গত ৯ মে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরই শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছিলেন যে, তাঁর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার বেআইনি নির্মাণ, নিয়োগ দুর্নীতি, তোলাবাজি, সিন্ডিকেট রাজ এবং কাটমানি সংস্কৃতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেবে। রামপুর চেকপোস্টের এই ঘটনায় দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ সেই নীতিরই প্রতিফলন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
❤ Support Us







