Advertisement
  • এই মুহূর্তে বি। দে । শ
  • অক্টোবর ৯, ২০২৫

ইজরায়েলের হামলায় ছিন্নভিন্ন জীবন, হাত হারানো দুই অনাথ শিশুর পুনর্মিলন লেবাননে

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ইজরায়েলের হামলায় ছিন্নভিন্ন জীবন, হাত হারানো দুই অনাথ শিশুর পুনর্মিলন লেবাননে

যুদ্ধ শুধু ভূখণ্ড দখল নেয় না, তছনচ করে না । সে কেড়ে নেয় প্রাণ, ছিন্ন করে সম্পর্ক, শৈশব-কৈশোরকে ছিঁড়েখুঁড়ে খায়। তেমনই এক যুদ্ধে নিঃস্ব হয়ে, দুই দেশ থেকে ভেসে এসে, এক ছাদের নিচে মিলল দুই ভিন্ন ভূগোলের দু-টি ছোট্ট হৃদয়। একজন গাজার, আরেকজন দক্ষিণ লেবাননের। একে অপরের ভাষা, সংস্কৃতি, ভূগোল না জানলেও— ব্যথা ও বেদনার ভাষায় তারা একাকার।

গাজার ৬ বছরের ওমর আবু কুওয়াইক ও লেবাননের ২ বছরের আলি খলিফে। ওদের মধ্যে বয়সের ফারাক অনেকটাই। কিন্তু ভাগ্য যেন একই হাতে তাদের জীবনরেখা এঁকেছে। ইজরায়েলের বিমান হানায় দুজনেই হারিয়েছে হাত— ওমরের বাম হাত নেই, আলির নেই ডানটি। দুজনেই হারিয়েছে পরিবার, শৈশব আর চেনা ঘর। ওদের মিলন ঘটিয়েছে মৃত্যু আর বেঁচে থাকার অদম্য ইচ্ছা। ইজরায়েলের লাগাতার আক্রমণে গাজা ও দক্ষিণ লেবাননের বিস্তীর্ণ অঞ্চল কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত। সেই ধ্বংসস্তূপের তলা থেকে উদ্ধার হয়েছিল এই দুই শিশু। ছিন্নভিন্ন শরীরে, আতঙ্কে স্তব্ধ চোখে, ওরা একে অপরকে চিনত না— কিন্তু যন্ত্রণার ভাষায় ওরা যেন আপন।

বর্তমানে বেইরুটে, চিকিৎসার জন্য আনা হয়েছে তাদের। সঙ্গে রয়েছেন তাদের আত্মীয়রা। গাজার ধবংসস্তুপের ভিতর থেকে কোনোক্রমে ওমরকে বার করে আনতে নিজের সন্তানদের ফেলে এসেছেন ওমরের কাকিমা মাহা। অন্যদিকে, সোভাবি হারিয়েছেন গোটা পরিবারকে। আলিকে বাঁচিয়ে রেখে কথা দিয়েছেন, তাঁকে মায়ের মতোই বড়ো করবেন তিনি। বেইরুটের একটি ছোট্ট অ্যাপার্টমেন্টে তাঁরা এখন একসঙ্গে। সহায় হয়েছে ফিলিস্তিনি-ব্রিটিশ শল্যচিকিৎসক ড. ঘাসান আবু সিত্তাহের সংস্থা— ‘ঘাসান আবু সিত্তাহ চিলড্রেন্স ফান্ড’। ১৮০ জন শিশু, যাঁদের কেউ পোড়া শরীরে, কেউ বা স্নাইপারের গুলিতে ক্ষতবিক্ষত, তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে এই সংস্থা। আলি পেয়েছে কৃত্রিম হাত। ওমরের জন্য এখন প্রস্তুত হচ্ছে ‘নতুন হাত’। কিন্তু শারীরিক ক্ষতির থেকেও গভীরে দাগ কেটেছে মানসিক যন্ত্রণা। সেই যন্ত্রণাকে আড়াল করেই দুই শিশু এখন একে অপরের আশ্রয়।

তাঁরা খেলে, একসঙ্গে ছবি আঁকে, খেলায় যুদ্ধ না, শান্তির গল্প সাজায়। ‘মা’ বলে ডাকে মাহা ও সোভাবিকে। আর একসঙ্গে, হাতে হাত রেখে বলে— তোমার আর আমার কষ্টটা একই রকম। জাতিসংঘের তথ্য বলছে, গত দুবছরের যুদ্ধে ২১ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি শিশু প্রতিবন্ধী হয়েছে, অনাথ হয়েছে আরো কয়েক হাজার। কেউ হাত হারিয়েছে, কেউ পা, কেউ চোখের দৃষ্টি। কিন্তু যে ক্ষতি পরিসংখ্যানে মাপা যায় না, তা হলো মনস্তাত্ত্বিক ক্ষত, যা নিয়েই বাঁচতে শিখছে ওমর ও আলি।

সপ্তাহের শুরুতে ইজরায়েল ও হামাসের মধ্যে আংশিক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ‘সব পক্ষকেই ন্যায়সঙ্গত ভাবে বিবেচনা করা হবে।’ চুক্তি অনুযায়ী, হামাস সোমবারের মধ্যে জীবিত ও মৃত সমস্ত বন্দিকে হস্তান্তর করবে। কিন্তু ওমর ও আলির মতো হাজার হাজার শিশু জানে না এই কূটনৈতিক চুক্তির মানে কী। ওরা শুধু জানে, যুদ্ধ মানে বাবা-মা হারানো, যুদ্ধ মানে পুতুলের বদলে প্লাস্টিক হাত। তবু তাদের বন্ধুত্ব, সাহচর্য, ধ্বংসের পৃথিবীর মধ্যেও এক নতুন ভোরের প্রত্যয়।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!