Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • আগস্ট ২০, ২০২৫

সঞ্জয় কুমারের ক্ষমাপ্রার্থনার পরেও, গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শোকজ নোটিশ! ভোটার সংখ্যা বিতর্কে ‘তথ্য বিকৃতি’র অভিযোগ

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
সঞ্জয় কুমারের ক্ষমাপ্রার্থনার পরেও, গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শোকজ নোটিশ! ভোটার সংখ্যা বিতর্কে ‘তথ্য বিকৃতি’র অভিযোগ

মহারাষ্ট্রের বিধানসভা নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে সামাজিক মাধ্যমে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন দেশের প্রখ্যাত নির্বাচন বিশ্লেষক তথা ভোট-বিশ্লেষক সঞ্জয় কুমার। ভোটার তালিকায় অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ও হ্রাস সংক্রান্ত তাঁর প্রকাশিত পরিসংখ্যান ঘিরে প্রবল বিতর্কের মুখে পড়ে অবশেষে তিনি ক্ষমাও চেয়েছেন। কিন্তু এতেই বিষয়টির নিষ্পত্তি হয়নি। বরং এবার তাঁর কর্মস্থল, ‘সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অফ ডেভেলপিং সোসাইটি’ বা ‘উন্নয়নশীল সমাজ অধ্যয়ন কেন্দ্র’-এর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপের পথে হাঁটছে ‘ভারতীয় সমাজবিজ্ঞান গবেষণা পরিষদ’।

সরকারি অনুদানে পরিচালিত সঞ্জয়ের কুমারের প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে তথ্য বিকৃতির গুরুতর অভিযোগ এনেছে গবেষণা পরিষদ। তাদের মতে, সিএসডিএস উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তথ্য বিশ্লেষণ ও উপস্থাপনার মাধ্যমে নির্বাচনী পরিবেশে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে চেয়েছে, যা দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান তথা নির্বাচন কমিশনের ভাবমূর্তি ও নিরপেক্ষতা নষ্ট করার চেষ্টার সামিল। সামাজিক মাধ্যমে একটি বিবৃতিতে আইসিএসএসআর বলেছে, তাদের দৃষ্টিতে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর। সিএসডিএস-এর এক দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যাপক সম্প্রতি মহারাষ্ট্রের বিধানসভা নির্বাচনের তথ্য বিশ্লেষণ করে সংবাদমাধ্যমে যেসব বক্তব্য দিয়েছেন, পরে দেখা যায় তাঁর সমস্ত পরিসংখ্যান ভুল। তথ্য বিশ্লেষণে ত্রুটি থাকায় অধ্যাপক ওই মন্তব্যগুলি প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন। তবু ইতিমধ্যে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ওই তথ্যকে ভিত্তি করে পক্ষপাতদুষ্ট ব্যাখ্যা এবং নির্বাচনী কমিশনের প্রতিবেদনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা হয়েছে।’

আইসিএসএসআর বক্তব্য, তারা সর্বতভাবে সংবিধানের সর্বোচ্চ মর্যাদাকে মান্য করে চলে এবং নির্বাচন কমিশন দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন পরিচালনা করে আসছে। ফলে এ ধরনের বিকৃত ও বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন শুধু নৈতিকভাবে অনভিপ্রেত নয়, বরং এটি পরিষদের অনুদানবিধিরও মারাত্মক লঙ্ঘন। সে কারণেই সেএসডিএস-কে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হবে। এদিকে, ভোটার তালিকা সংক্রান্ত যে পরিসংখ্যান ঘিরে গোটা বিতর্কের সূত্রপাত, তা প্রকাশ করেছিলেন অধ্যাপক সঞ্জয় কুমার। তিনি দাবি করেছিলেন যে, মহারাষ্ট্রের নাসিক পশ্চিম এবং হিঙ্গনা বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা আচমকাই যথাক্রমে ৪৭ শতাংশ এবং ৪৩ শতাংশ বেড়ে গিয়েছে। আবার রামটেক ও দেভলালি কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা হঠাৎ কমে গিয়েছে ৩৮ শতাংশ ও ৩৬ শতাংশ হারে। চাঞ্চল্যকর এ তথ্য সামনে আসতেই কংগ্রেসের তরফে বিজেপির বিরুদ্ধে ‘ভোট কারচুপি’র অভিযোগ নতুন করে জোরাল করা হয়। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব, এমনকি লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীও ওই পরিসংখ্যানকে হাতিয়ার করে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও লাগাতার প্রশ্ন তুলে যাচ্ছেন।

তবে সমস্ত বিতর্কের মধ্যেই হঠাৎ নিজের টুইট মুছে দিয়ে সঞ্জয় কুমার লেখেন, ভোটার তালিকা বিশ্লেষণের সময় ২০২৪ সালের লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনের তথ্যের মধ্যে কিছু ভুল ছিল। সেটি তাঁদের তথ্য বিশ্লেষণকারী দলের একটি মারাত্মক ভুল। তিনি জানান, তাঁর কোনো রকম ভুল তথ্য ছড়ানোর উদ্দেশ্য ছিল না, সে জন্যই তিনি টুইটটি মুছে দিয়েছেন ও আন্তরিকভাবে দুঃখপ্রকাশ করছেন। তবে সেখানেই থেমে থাকেনি বিতর্ক। এরপর বিজেপি কংগ্রেসের বিরুদ্ধে পাল্টা আক্রমণে নামে। দলের তথ্যপ্রযুক্তি শাখার প্রধান অমিত মালব্য বলেন, যে তথ্যের ভিত্তিতে রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেস নির্বাচন কমিশন এবং শাসক দলের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিল, সেসব তথ্য পুরোপুরি যে ভুল, স্বয়ং প্রতিষ্ঠানই সেকথা স্বীকার করে নিয়েছে। তাঁর মতে, এমত অবস্থায় রাহুল গান্ধী ও তাঁর দলের অবস্থান অত্যন্ত লজ্জাজনক এবং তাঁদের উচিত প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া। অন্যদিকে, কংগ্রেস নিজেদের অবস্থানে অনড় থেকে জানায়, তারা কেবলমাত্র সিএসডিএস-এর তথ্যের ওপর নির্ভর করেনি। দলের মুখপাত্র সুজাতা পাল বলেন, ‘এ তথ্য কেবল একটি সহায়ক প্রমাণমাত্র। দলের নিজস্ব কর্মী, বিরোধী জোটের বিভিন্ন সদস্য এবং মাঠপর্যায়ের কর্মীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যও সমান গুরুত্বে বিবেচনা করা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, অধ্যাপক সঞ্জয় কুমার কেন ক্ষমা চেয়েছেন, সেটি তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়, দলীয় অবস্থানের সঙ্গে তার কোনো যোগ নেই। কংগ্রেস তার নিজস্ব উৎস থেকে যে তথ্য সংগ্রহ করেছে, তা থেকেই তাদের সন্দেহ এবং অভিযোগের ভিত্তি তৈরি হয়েছে।

এখন প্রশ্ন উঠছে, এই শোকজ নোটিশের উত্তরে সিএসডিএস কী ব্যাখ্যা দেয়। গবেষণা জগতে সিএসডিএস একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। তার উপর এ ধরনের সরকারি চাপ গবেষণার স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা নিয়েও নানা মহলে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। পাশাপাশি, এ ঘটনার ফলে সরকারের সঙ্গে গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলির সম্পর্ক এবং রাজনৈতিক প্রভাবের মাত্রাও নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!