Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • আগস্ট ২০, ২০২৫

ফৌজদারি অভিযোগে মন্ত্রীদের অপসারণ বিল আনছে কেন্দ্র। ক্ষমতা কুক্ষিগত করার চেষ্টা, সমালোচনা অভিষেকের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ফৌজদারি অভিযোগে মন্ত্রীদের অপসারণ বিল আনছে কেন্দ্র। ক্ষমতা কুক্ষিগত করার চেষ্টা, সমালোচনা অভিষেকের

কেন্দ্রীয় সরকার বুধবার সংসদে তিনটি বিল পেশ করার পরিকল্পনা করছে, যার উদ্দেশ্য হলো প্রধানমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, কোনো রাজ্যের বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মুখ্যমন্ত্রী অথবা মন্ত্রীর বিরুদ্ধে গুরুতর ফৌজদারি অভিযোগে গ্রেফতার বা হেফাজতে নেওয়া হলে তাঁদের অপসারণের জন্য আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ।
কঠোর সমালোচনা করে বিলকে সংবিধান বিরোধী বলে নিজের এক্স হ্যান্ডেলে কঠোর সমালোচনা করেছেন তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

তিনি তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, “কেন্দ্রীয় সরকার, বিরোধী দলগুলির এবং সমগ্র দেশের সমর্থন থাকা সত্ত্বেও, এখনও পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর (PoJK) পুনরুদ্ধার করার সাহস দেখাতে পারেনি। মুখে গর্জন করলেও, যখন দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, সীমান্ত সুরক্ষা এবং শত্রুদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার সময় আসে, তখন এই সরকারের মধ্যে প্রকৃত কোনো দৃঢ় সংকল্প দেখা যায় না।

সংবিধান অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের বদলে, এই সরকার শুধুমাত্র ক্ষমতা, সম্পদ ও নিয়ন্ত্রণ কুক্ষিগত করার লালসায় মগ্ন, যার কোনো জবাবদিহি নেই।

আমরা এই স্বৈরাচারী মনোভাবের তীব্র নিন্দা করি এবং এই গণবিরোধী সংবিধান সংশোধনী বিলের প্রস্তাবের বিরোধিতা করছি। ভারতের জনগণকে স্বস্তি দেওয়া এবং কৃষক, শ্রমিক ও গরিব মানুষের প্রকৃত উন্নয়নের কাজ করার পরিবর্তে, এই সরকার দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনকে (EC) অপব্যবহার করে SIR (State-Imposed Rule) চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে, সরকার এখন আরেকটি “E” — অর্থাৎ ED-কে সক্রিয় করেছে, যার মাধ্যমে বিরোধী নেতাদের নিশানা করা হচ্ছে, গণতন্ত্রকে পিষে ফেলা হচ্ছে এবং রাজ্য সরকারগুলি ফেলে দিয়ে জনমতের অপব্যবহার করা হচ্ছে।

এই সরকার নিজেকে প্রমাণ করেছে জনবিরোধী, কৃষকবিরোধী, গরিববিরোধী, তফসিলি জাতি (SC), তফসিলি উপজাতি (ST), অনগ্রসর শ্রেণি (OBC)-বিরোধী, যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো-বিরোধী এবং সর্বোপরি ভারত-বিরোধী হিসেবে।

বিজেপিকে একটি ভোট দেওয়া মানে হলো ভারতের আত্মাকে বিক্রি করে দেওয়া। তারা দেশের সংবিধানকে বিক্রি করে দিচ্ছে এবং ভারতকে একদল অযোগ্য, ক্ষমতালোভী শাসকের ব্যক্তিগত সম্পত্তি হিসেবে চালানোর সুযোগ করে দিচ্ছে।

গান্ধী ও আম্বেদকরের আদর্শে গড়ে ওঠা ভারত কোনো স্বৈরশাসক বা ক্ষমতালোভীর কাছে নিজের আত্মা সমর্পণ করবে না।”

এদিকে বুধবার যে তিনটি বিল সংসদে অমিত শাহ পেশ করবেন সেই বিল তিনটি হচ্ছে :-

১. কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল (সংশোধন) বিল, ২০২৫

২. সংবিধান (এক শত ত্রিশতম সংশোধন) বিল, ২০২৫

৩. জম্মু ও কাশ্মীর পুনর্গঠন (সংশোধন) বিল, ২০২৫

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ লোকসভায় এই তিনটি বিল যৌথ সংসদীয় কমিটিতে পাঠানোর জন্য একটি প্রস্তাবও উত্থাপন করবেন।

কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল (সংশোধন) বিল, ২০২৫-এর উদ্দেশ্য ও কারণের বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে, ১৯৬৩ সালের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন (২০ নম্বর আইন) অনুযায়ী, কোনো মুখ্যমন্ত্রী বা মন্ত্রী গুরুতর অপরাধমূলক অভিযোগে গ্রেফতার ও হেফাজতে গেলে তাঁকে অপসারণ করার জন্য কোনও বিধান নেই। তাই এই পরিস্থিতিতে আইনি কাঠামো গড়ে তুলতে ওই আইনের ৪৫ নম্বর ধারা সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে।

এই বিলটি উপরের উদ্দেশ্য পূরণ করার লক্ষ্যেই উত্থাপন করা হয়েছে।

সংবিধান (এক শত ত্রিশতম সংশোধন) বিল, ২০২৫-এর উদ্দেশ্য অনুযায়ী, সংবিধানে এমন কোনও বিধান নেই যা গুরুতর অপরাধমূলক অভিযোগে গ্রেফতার ও হেফাজতে নেওয়া কোনও মন্ত্রীকে অপসারণের সুযোগ দেয়।
তাই এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী বা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পরিষদের কোনও মন্ত্রী, রাজ্য বা দিল্লি জাতীয় রাজধানী অঞ্চলের মুখ্যমন্ত্রী বা মন্ত্রীদের অপসারণের জন্য সংবিধানের ৭৫, ১৬৪ ও ২৩৯AA অনুচ্ছেদ সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে।

এই বিলটিও উপরোক্ত লক্ষ্যেই উত্থাপন করা হয়েছে।

জম্মু ও কাশ্মীর পুনর্গঠন (সংশোধন) বিল, ২০২৫-এর উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের জম্মু ও কাশ্মীর পুনর্গঠন আইন (৩৪ নম্বর আইন) অনুযায়ী কোনো মুখ্যমন্ত্রী বা মন্ত্রী যদি গুরুতর ফৌজদারি অভিযোগে গ্রেফতার ও হেফাজতে থাকেন, তাহলে তাঁকে অপসারণের জন্য কোনো আইনি বিধান নেই।
তাই এই ক্ষেত্রে আইনগত কাঠামো গড়ে তুলতে ওই আইনের ৫৪ নম্বর ধারা সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে।

এই বিলটিও উপরোক্ত উদ্দেশ্য পূরণের লক্ষ্যেই আনা হয়েছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!