- দে । শ
- জুন ১৯, ২০২৬
আদালত অবমাননা, মমতা ও অভিষেককে নোটিস কলকাতা হাই কোর্টের
কলকাতার ধর্মতলায় ২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবসের সভা আয়োজনকে কেন্দ্র করে আদালত অবমাননার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে শুক্রবার কলকাতা হাই কোর্ট দলের চেয়ারপার্সন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নোটিস জারি করেছে।
সম্প্রতি হাই কোর্টে দায়ের হওয়া একটি মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০১৮ সালে আদালতের দেওয়া নির্দেশ অমান্য করে ২০২৫ সালে ২১ জুলাইয়ের সভার জন্য শহরের প্রধান রাস্তা কার্যত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে সাধারণ মানুষ, নিত্যযাত্রী এবং জরুরি পরিষেবা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয় বলে অভিযোগ।
শুক্রবার বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চে মামলার শুনানি হয়। শুনানি শেষে তৃণমূল নেতৃত্বকে আদালত অবমাননার নোটিস দেওয়া হয়েছে। আগামী ৩ জুলাই মামলাটির পরবর্তী শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে শহরের রাস্তা আটকে রাজনৈতিক সভা ও মিছিল সংক্রান্ত একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্য ও বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছিল। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, কোনও রাজনৈতিক সভার জন্য কলকাতার বড় বা প্রধান রাস্তা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা যাবে না। রাস্তার অন্তত একটি অংশ পথচারী ও যানবাহন চলাচলের জন্য খোলা রাখতে হবে।
সেই নির্দেশে আরও বলা হয়েছিল, অ্যাম্বুল্যান্স ও অন্যান্য জরুরি পরিষেবার অবাধ চলাচল নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজন হলে বিকল্প রাস্তার ব্যবস্থা করতে হবে এবং সে সম্পর্কে আগাম সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে জানাতে হবে। পাশাপাশি, সভা বা মিছিলে ভাঙচুর, অশান্তি বা হিংসার ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দিয়েছিল আদালত।
তৃণমূল-সহ রাজ্যের মোট ৩৮টি রাজনৈতিক দলকে পক্ষ করে দায়ের হওয়া ওই জনস্বার্থ মামলায় আদালত পর্যবেক্ষণ করেছিল যে, বড় রাজনৈতিক সভা ও মিছিলের কারণে কলকাতায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়, যার ফলে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয় এবং জরুরি পরিষেবাও বাধার মুখে পড়ে। আদালত জানিয়েছিল, রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন থমকে যেতে পারে না।
বর্তমান মামলায় অভিযোগ, সেই নির্দেশ অমান্য করেই ২০২৫ সালে ধর্মতলায় ২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবসের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এর ফলে ব্যাপক ভোগান্তির শিকার হন সাধারণ মানুষ। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিজেদের অবস্থান ও বক্তব্য জানাতে নোটিস পাঠিয়েছে কলকাতা হাই কোর্ট।
❤ Support Us








