- এই মুহূর্তে ন | ন্দ | ন | চ | ত্ব | র
- ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৫
‘ছাবা’র গর্জনে কাঁপছে বক্সঅফিস, ৩ দিনে আয় ১০০ কোটি
মারাঠা সম্রাট ছত্রপতি শিবাজির ছেলে ছত্রপতি শাম্ভাজি মহারাজের জীবন কাহিনীর উপর নির্মিত হয়েছে ‘ছাবা’। নামভূমিকায় অভিনয় করেছেন দক্ষ অভিনেতা ভিকি কওশল। মিশ্র প্রতিক্রিয়ার মধ্যেও বক্স অফিসে বিপুল ব্যবসা করেছে সিনেমাটি। ৩ দিনে আয় ১০০ কোটি।
ভ্যালেন্টাইন ডের দিন মুক্তি পেয়েছে ভিকি কৌশল-রশ্মিকা মান্দানার ‘ছাবা’। ‘ছাবা’ শব্দের অর্থ সিংহ শাবক। মারাঠা সম্রাট ছত্রপতি শিবাজির ছেলে ছত্রপতি শাম্ভাজি মহারাজের জীবন কাহিনীর ঐতিহাসিক জীবন কাহিনীর উপর ভিত্তি করে নির্মিত হয়েছে ছবিটি। নামভূমিকায় অভিনয় করেছেন দক্ষ অভিনেতা ভিকি কওশল। মিশ্র প্রতিক্রিয়ার মধ্যেও বক্স অফিসে বিপুল ব্যবসা করেছে সিনেমাটি। ৩ দিনে আয় ১০০ কোটি। ভিকি তাঁর হিন্দি সিনেমায় অভিনয়ের যাত্রা শুরু করেন ২০১৫ সালে ‘মাসান’ ছবির মধ্য দিয়ে। নিজের অভিনয় দক্ষতা, পরিশ্রমে একের পর এক ইতিহাস রচনা করে চলেছেন তিনি। লক্ষণ উতরেকার এর পরিচালনায় ‘ছাবা’-তে আর অভিনয়, তাঁর জীবনের সর্বকালের সেরা বলে মনে করছেন দর্শক ও সিনেমা সমালোচকরা। বক্স অফিসও দুহাত উজার করে দিয়েছে তাঁকে, ১৪ ফেব্রুয়ারি মুক্তির দিনে ৩১ কোটি টাকা আয় করে। শনিবারে ১৭ শতাংশ বেড়ে একলাফে ৩৭ কোটি আর রবিবার সব ছাপিয়ে প্রায় ৪৯ কোটি টাকার ব্যবসা করে ছবিটি। মহারাষ্ট্রের আমজনতা ছত্রপতি শিবাজীর ছেলে ছত্রপতি শাম্ভাজি মহারাজের বায়োপিককে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসা দিয়েছেন। এমনকি দর্শকের চাহিদায় মাঝরাতে নতুন শো-টাইম করতে বাধ্য হয়েছে পেক্ষাগৃহের কর্মকর্তৃরা।
মারাঠি লেখক শিবাজি সাওয়ান্ত-এর একই শিরনামের বই থেকে ফিলমের কাহিনী নেওয়া হয়েছে। মুঘল সুলতান ঔরঙ্গজেব ও শিবাজি মহারাজের পুত্র শাম্ভাজি মহারাজের শত্রুতার পেক্ষাপটে কাহিনীর বুনন। শাম্ভাজি মহারাজের বীরত্ব,তাঁর যুদ্ধের কাহিনি ও আত্মত্যাগ নিয়ে পরিচালক রায়গড়, নাসিক, পুণের প্রেক্ষাপটে অ্যাকশনধর্মী, নাটকীয়তায় ভরপুর একটি চিত্রনাট্য সাজিয়েছেন। ছবিটি পুরোপুরি ভিকি কওশল কেন্দ্রিক। তাঁকে কেন্দ্র করেই গল্প এগিয়ে চলে, প্রছন্নভাবে চিত্রনাটের সবটা জুড়ে থেকে যান মারাঠা জাতির সর্বকালের নায়ক ছত্রপতি শিবাজি। সঙ্গলাপে বারবার উঠে আসে তাঁর নাম। যুদ্ধ, প্রতিযুদ্ধ, ষড়যন্ত্র, বীরত্ব, কাপুরুষতা, এই নিয়েই টানটান উত্তেজনা দেবার চেষ্টা করেছেন পরিচালক। যদিও সিনেমার প্রথম অর্ধেক ধীর গতির বলে মনে হয়, কিন্তু সে আক্ষেপ মিটিয়ে দেয় দ্বিতীয় পর্বটি। দুঃসাহসিক ও অসম্ভব কিছু দৃশ্য দর্শকের হাততালি কুড়ালেও, কোথাও গিয়ে অতিরঞ্জন বলে মনে হয়। শাম্ভাজি ও ঔরঙ্গজেবের মধ্যে শেষযুদ্ধ হয় পুণের কাছে ভীম নদীর পাড়ে তুলাপুর নামের একটি জায়গায়। যেখানে ঔরঙ্গজেব শাম্ভাজি ও তাঁর অন্যতম অমাত্য কবি কালাশকে বন্দী করে নিয়ে যান। বন্দিদশায় জিভ কেটে দেওয়া, নোখ উপরে নেওয়ার মত বীভৎস দৃশ্য দেখানো হয়। ঔরঙ্গজেবের চরিত্রে অক্ষয় খান্না দুর্দান্ত অভিনয় করেছেন। হিমশীতল কণ্ঠস্বর, চোখে শাপদের ক্রুরতা। তবে পুরো ছবি জুড়ে শরীর ও বাচিক অভিনয়ে নিজেকে ছাপিয়ে গেছে ভিকি কওশল। রশ্মিকা মান্দানা কয়েকটি দৃশ্যে নজর কেড়েছেন। তবে তাঁর অপটু হিন্দি উচ্চারণ, কানে লাগে। অন্যদিকে সমালোচকদের মতে হিন্দুত্বের জয়গান ও মুঘল শাসকদের অত্যাচার, ক্রুরতা, ষড়যন্ত্র দেখাতেই এই ছবির নির্মাণ। সংলাপের ছত্রে ছত্রে, আচারে-বিচারে এক ধর্মের মানুষদের প্রতি বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে ‘ছাবা’ – বলে দাবি করেছেন অনেকে। বর্তমান রাজনৈতিক আবহে এধরণের ছবিই বেশি চলে বলে অভিযোগ সমালোচকদের একাংশের।
তবে দুর্দান্ত সিনেমাটোগ্রাফি, অ্যাকশন সিনে গভীর ছাপ, সাজপোশাকে যত্ন, আলোর কারসাজি, এ আর রহমানের আবহ সংগীত এবং অবশ্যই অভিনেতাদের সুচারু অভিনয়ে সামনের বেশ কিছুদিন ‘ছাবা’ যে হল্ কাঁপাবে সে নিয়ে সন্দেহ নেই।
❤ Support Us








