Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • জুলাই ২৯, ২০২৬

এফআইআর প্রত্যাহার না হলে ফের দেশজুড়ে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি ‘সিজেপি’-র, কেন্দ্রকে প্রতিশ্রুতি রক্ষার দাবি

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
এফআইআর প্রত্যাহার না হলে ফের দেশজুড়ে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি ‘সিজেপি’-র, কেন্দ্রকে প্রতিশ্রুতি রক্ষার দাবি

শান্তিপূর্ণ নিট আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সমস্ত এফআইআর প্রত্যাহারের দাবিতে নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। দলের অভিযোগ, আন্দোলন প্রত্যাহারের আগে কেন্দ্র সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা প্রত্যাহার করা হবে এবং কোনো পড়ুয়ার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক বা কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে না। সে প্রতিশ্রুতি রক্ষা না হলে ফের দেশজুড়ে আন্দোলন, বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি শুরু করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ‘সিজেপি’।

সোমবারও একই দাবিতে আন্দোলনে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছিল দলটি। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের অন্তর্বর্তী নির্দেশের পর সে অবস্থান আরও স্পষ্ট করে ‘সিজেপি’ নেতৃত্ব জানিয়েছে, আদালতের নির্দেশ কেন্দ্রের দেওয়া আশ্বাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাঁদের দাবি, ২৫ জুলাই কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনার সময় সরকার আশ্বাস দিয়েছিল যে, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে থাকা সব এফআইআর বাতিল করা হবে। সেই আশ্বাসের ভিত্তিতেই যন্তর মন্তর থেকে অবস্থান তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর দলের আশঙ্কা, কেন্দ্র এবং বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলি আদালতের নির্দেশকে হাতিয়ার করে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পৃথক ফৌজদারি মামলা চালিয়ে যেতে পারে।

দলের বক্তব্য, সোমবার গভীর রাত পর্যন্ত কেন্দ্রের সঙ্গে তাঁদের দফায় দফায় আলোচনা হয়েছে এবং সেখানেও একই প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়। কিন্তু মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে শুনানির সময় সরকারের আইনজীবীরা সেই আলোচনা বা প্রতিশ্রুতির বিষয়টি আদালতের সামনে তুলে ধরেননি বলে অভিযোগ করেছে ‘সিজেপি’। দলের মতে, আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের দেওয়া আশ্বাস আদালতকে না জানানো অত্যন্ত দুঃখজনক এবং সুপ্রিম কোর্টের অন্তর্বর্তী নির্দেশ তাঁদের কাছে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। ‘সিজেপি’ প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে বলেন, ‘পড়ুয়ারা যদি পুলিশের অত্যাচার বা হয়রানির শিকার হতে থাকেন, তাহলে আমরা আবার রাস্তায় নামব। শান্তিপূর্ণ গণআন্দোলনের মাধ্যমেই কেন্দ্রকে জবাব দেওয়া হবে। সরকারকে অবশ্যই পড়ুয়াদের লক্ষ্যবস্তু করা এবং অযথা হয়রানি বন্ধ করতে হবে।’

তাঁর আরও দাবি, সুপ্রিম কোর্ট সরকারকে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়নি। তাই শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর প্রত্যাহারের ক্ষমতা এখনো সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরের হাতেই রয়েছে। ‘সিজেপি’-র স্পষ্ট বার্তা, কেন্দ্র যদি প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করে, তাহলে দেশজুড়ে নতুন করে বৃহত্তর আন্দোলন শুরু করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প থাকবে না। দলের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ভারতের যুব সমাজ সরল বিশ্বাসে কেন্দ্রের সঙ্গে সমঝোতায় এসেছিল। সে বিশ্বাসের সঙ্গে প্রতারণা করা চলবে না। প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ হলে ভারতের রাজপথ আবারও তরুণদের কণ্ঠস্বরে মুখরিত হবে।’

দলের প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাসও একই সুরে বলেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের সঙ্গে তাঁরা পুরোপুরি একমত নন। তাঁর বক্তব্য, ‘সুপ্রিম কোর্ট বলছে, যাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর হয়েছে, তা প্রত্যাহার করা হবে না। কিন্তু সরকারের সঙ্গে আমাদের যে আলোচনা হয়েছিল, তার সঙ্গে এই অবস্থানের কোনও মিল নেই। আদালতের শর্ত আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।’ তবে সৌরভ দাস জানান, সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ কার্যকর হওয়া উচিত, কিন্তু তার আগে কেন্দ্রকে আন্দোলনকারীদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে হবে। সোমবার সাংবাদিক বৈঠক করে ‘সিজেপি’ দাবি জানায়, কেন্দ্রকে প্রতিশ্রুতিমতো লিখিত চুক্তিও করতে হবে। একই সঙ্গে তারা স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত না হলে আবারও পথে নামবে আন্দোলনকারীরা।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, যেসব নাবালক আন্দোলনকারীর বিরুদ্ধে পূর্বে কোনও অপরাধের ইতিহাস নেই, তাঁদের আটক বা গ্রেফতার করে রাখা যাবে না। পাশাপাশি নিট আন্দোলনে পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত কেন করা হবে না, সেই প্রশ্নও তোলে আদালত। আদালতের পর্যবেক্ষণ, ঘটনার স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত অত্যন্ত জরুরি এবং কারা আইন লঙ্ঘন করেছে, তা নির্দিষ্ট করে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।

এদিকে, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং ‘সিজেপি’-র অবস্থান প্রত্যাহারের পরও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। বিভিন্ন জায়গা থেকে অভিযোগ উঠছে, নিট আন্দোলনে অংশ নেওয়া পড়ুয়া ও আন্দোলনকারীদের চিহ্নিত করে মারধর করা হচ্ছে। সমাজমাধ্যমে এমন একাধিক ভিডিও ও সামনে এসেছে বলে দাবি আন্দোলন সমর্থকদের। তাঁদের অভিযোগ, প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার ‘শাস্তি’ হিসেবেই এই হামলা চালানো হচ্ছে এবং বিজেপি-ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরাই এই আক্রমণের সঙ্গে জড়িত। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!