- এই মুহূর্তে ন | ন্দ | ন | চ | ত্ব | র
- জুন ২৬, ২০২৫
অ্যামাজনের নতুন অভিযানে-০০৭, বন্ড এখন ভিলনভের হাতে
জেমস বন্ড ফিরছেন। জেমস বন্ড… বিশ্বখ্যাত গুপ্তচর, যার নাম শুনলেই জেগে ওঠে অ্যাকশন, ষড়যন্ত্র, সাহস আর গ্ল্যামারের অনবদ্য এক ছবি। দুনিয়াজুড়ে ব্রিটিশ গুপ্তচরকে ঘিরে উত্তেজনার শেষ নেই। প্রতিটি যুগে বন্ড মানেই নতুন চেহারা, নতুন চ্যালেঞ্জ। যুগে যুগে বদলেছে বন্ডের মুখ, নিয়েছে নতুন রূপ। এবার সেই দায়িত্ব উঠল ফরাসি-কানাডীয় পরিচালক ডেনি ভিলনভের কাঁধে। চরিত্রের নিয়ন্ত্রণ কি ‘হিজ ম্যাজেস্টি’র হাতে আর নেই ? উত্তরটা স্পষ্ট — এখন বন্ডের ‘ভাগ্য নির্ধারণ কর্তা’ হলেন অ্যামাজনের মালিক, বিশ্বের অন্যতম ধনী জেফ বেজোস।
দিনকয়েক আগে, জেফ বেজোস নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করেছিলেন, যেখানে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, ‘আগামী জেমস বন্ড হিসেবে আপনাদের পছন্দ কে?’ আপাতদৃষ্টিতে নিরীহ এই প্রশ্নই নেটদুনিয়ায় সাড়া ফেলেছে। লক্ষ লক্ষ মানুষ কমেন্ট করেছেন, আর আলোচনায় উঠে এসেছে অনেক নাম — ইদ্রিস এলবা, অ্যারন টেলর-জনসন, জেমস নর্টন থেকে হেনরি কাভিল পর্যন্ত। সম্প্রতি, জেমস বন্ড ফ্র্যাঞ্চাইজির সব ক্রিয়েটিভ রাইটস কিনে নিয়েছে আমাজন। ফলে ‘হিজ ম্যাজেস্টি’র রাজত্বের বদলে এখন বন্ডের নিয়ন্ত্রণ এসেছে এক বিলিয়ন ডলারের ব্যবসায়ীর হাতে। ২০২৩ সালে জেফ বেজোস কিনে নিয়েছিলেন হলিউডের এমজিএম স্টুডিওর মালিকানা। এরপর থেকে নতুন করে ০০৭ চরিত্রকে বড়পর্দায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি।
১৯৬০-এর দশকে ইয়ান ফ্লেমিংয়ের কাল্পনিক বন্ড চরিত্রকে চলচ্চিত্রে জীবন্ত করে তুলেছিলেন ব্রিটিশ-আমেরিকান প্রযোজক অ্যালবার্ট ব্রোকোলি ও মাইকেল জি উইলসন। প্রথমবারের মতো স্কটিশ অভিনেতা শন কনারি অভিনয় করেছিলেন বন্ড চরিত্রে। এরপর একের পর এক অভিনেতা মিশেছে এই ইতিহাসের পাতায়। তবে এতদিন পর্যন্ত বন্ডের সমস্ত স্বত্বাধিকার ছিল ব্রোকোলি পরিবার ও উইলসনের হাতে। কিন্তু সম্প্রতি, শুক্রবার এই কর্তৃত্ব ছাড়তে হয়েছে তাঁদের। শোনা যাচ্ছে, বন্ডকে ঘিরে অ্যামাজনের নানা পরিকল্পনা—স্পিন-অফ, সিরিজ, ওটিটি প্রসার ইত্যাদি নিয়ে চূড়ান্ত দ্বন্দ্বে জড়ান তাঁরা। তবে অ্যামাজন আশাবাদী। সংস্থার প্রধান মাইক হপকিন্স বলেন, ‘ডেনি ভিলনভ আমাদের প্রস্তাবে সম্মতি জানানোয় আমরা গর্বিত। তিনি এক জন চলচ্চিত্রশিল্পের মহান কারিগর। তাঁর পরিচালনায় বন্ডের পরবর্তী অভিযান নিঃসন্দেহে দর্শকদের এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা দেবে।’ নতুন সিনেমায় প্রযোজক হিসেবে থাকছেন ‘স্পাইডার-ম্যান’ খ্যাত অ্যামি প্যাসকাল ও ‘হ্যারি পটার’ সিরিজের ডেভিড হেইম্যান। নির্বাহী প্রযোজক হিসেবে থাকছেন তানিয়া লাপোয়েন্ট। ২০২১ সালে ‘নো টাইম টু ডাই’ ছবির মাধ্যমে শেষবার বন্ডের চরিত্রে ছিলেন ড্যানিয়েল ক্রেগ। এরপর থেকে নানান নাম ঘুরছে বন্ডের জন্য, কিন্তু নতুন বন্ড এখনও ধরা পড়েনি। অভিনেতা চুড়ান্ত না হলেও, অপেক্ষার অবসান অ্যামাজন এমজিএম স্টুডিওস ঘোষণা করেছে, পরবর্তী বন্ড ছবির পরিচালনায় আসছেন ‘ডিউন’, ‘ব্লেড রানার ২০৪৯’, ‘অ্যারাইভাল’-এর মতো ছবির স্রষ্টা ভিলনভ। তাঁর ছবির ক্যানভাস বিশাল, চরিত্র গভীর আর নির্মাণ ভিজুয়াল দিক থেকে অসাধারণ। ফলে নতুন বন্ড ছবির জন্য তাঁর নাম ঘোষণা নিঃসন্দেহে এক বড়ো ঘটনা।
ভিলনভ জানিয়েছেন, ছোটবেলা থেকেই তিনি বন্ডের বিশাল ভক্ত। বাবার সঙ্গে প্রথম ‘ডক্টর নো’ দেখেছিলেন। সেই ভালবাসা থেকেই আজকের এই দায়িত্ব। তিনি চান বন্ডের ঐতিহ্যকে সম্মান জানিয়ে আধুনিক দর্শকদের জন্য নতুন এক যাত্রা শুরু করতে। কে হবেন পরবর্তী ০০৭ ? ড্যানিয়েল ক্রেগের পরে কে ধরবেন বন্দুক ? নির্মাতাদের তরফে আপাতত সেই প্রশ্নের উত্তর আসেনি। তবে এটুকু জানা গিয়েছে, নতুন অভিনেতা হবেন ত্রিশের কোঠার এক পুরুষ। বর্ণ নয়, দক্ষতাই হবে বিবেচ্য বিষয়। এখনই চিত্রনাট্য কিংবা মুক্তির দিনক্ষণ জানানো হয়নি। তবে এর মধ্যেই শুরু হয়েছে ডেনি ভিলনভের নতুন কাজ— ‘ডিউন: ম্যাসায়া’। এই ছবির শুটিং শুরু হচ্ছে শিগগিরই, মুক্তি সম্ভাব্য ২০২৬ সালে। পাশাপাশি ‘ক্লিওপেট্রা’, ‘রঁদেভু উইথ রামা’-র মতো একাধিক বড়ো বাজেটের প্রকল্পেও যুক্ত রয়েছেন তিনি।
বিশ্বজুড়ে ছিটিয়ে থাকা ০০৭-এর অনুরাগীদের তীব্র কৌতূহল, এবার বন্ড কি আদৌ বদলাবে ? নাকি শুধু চেহারার পরিবর্তনে নতুন মোড় ? ভিলনভের মতো একজন শিল্পী যখন দায়িত্বে, তখন প্রত্যাশা করাই যায়, শুধু মারপিট আর গাড়ি ধাওয়া নয়, বন্ডের ভেতরের মানুষটাকেও দেখা যাবে নতুন আলোয়। সিনেমা এখন কেবল চমক নয়, গল্প বলার মাধ্যম। আর সেই কাজটা ভিলনভ জানেন ভালো করেই। অপেক্ষা শুরু হল নতুন বন্ডের জন্য। হয়তো এক যুগের ০০৭ তৈরি হচ্ছেন ক্যামেরার পেছনে এক নতুন চোখে। তবে জেফ বেজোসের আমাজনের এই উদ্যোগকে সমর্থন পাচ্ছে না সকল সিনেমা অনুরাগীদের। অনেকে বলছেন, অ্যামাজনের হাতে বন্ডের দায়িত্ব মানে বন্ড আর ব্রিটিশ থাকল না। আর বড়পর্দায় বন্ড আসবে কি না তাও নিশ্চিত নয়।
❤ Support Us








