- ধা | রা | বা | হি | ক রোব-e-বর্ণ
- জুলাই ১০, ২০২২
দশইঞ্চি প্রজাপতি
পর্ব ১০
অলঙ্করণ: দেব সরকার
উ।প। ন্যা।স
সাতদিন উৎপলা কথা বলেনি। সকালে সামান্য সময় সংসারে থেকে ছেলেকে নিয়ে বেরিয়ে গেছে। রাতেও ফেরেনি। আট বছরের ছেলে পর্যন্ত বাপির সঙ্গে কথাবার্তা বন্ধ করে দিয়েছিল । তখন ভিক্টরের সাত-আট বছর বয়স, একটা ইংলিশ মিডিয়ামে পড়ে, পুলকারে যায়। হোর শব্দটির অর্থ জানে, বেশ্যা কাদের বলে— অস্পষ্ট ধারণা আছে। ওই বয়সের বাচ্চাদের মনের গহনের গোপন কিছু দুষ্টুমির কৌতূহল অবধি জন্মে গেছে। এমন কি, বুঝে গেছে লাভ বলতে শারিরীক কোন কোন অঙ্গ চালনা করতে হয়। মাম-কে হোর বলায় বাপিকে ক্ষমা করেনি ওই টুকু ছেলে।
পরে অবিশ্যি, পারিবারিক সাজানো সন্ধি তৈরি হলে, নদীপ ধারে গ্রামীন পরিবেশ কোনো একটি রিসর্টে সারাদিন কাটিয়েছিল তিনজন । বিকেলে বৃষ্টি । ভিক্টর ধানখেতে জলের মধ্যে বক দেখেছে, ধীর স্থির লম্বা লম্বা ঠ্যাংফেলে, শিকার ধরছে। ভিক্টর খুশিতে চেঁচিয়েছে, কী গ্রীন বাপি! …দেখ, কত ক্রেন!
শহরটা রবিশেখরের কাছে আরামের, বন্ধুতার আবার কখনো ঈর্ষারত। কখনো যুগসাৎ । নয় কিংবা দশ বছর ধরে— হ্যাঁ, তাই হবে, ভিক্টরের এখন আট প্লাস — এ শহরেই তার জন্ম। উৎপলার জন্মশহর । এখানে সবাই তাকে ছোটবেলার, কৈশোর ও যৌবনের শুরুতে বেণু বলে সম্মোধন করে। রবিশেখর কখনো বলেনা, কোনো ঘনিষ্ট বা আদরের মুহূর্তে বলে পলা !
তার কানে বেণু নামটি কেমন যেন অবৈধ ভাবনার মনোবিকলন সৃষ্টি করে দেয়।
এ-শহর তো বন্ধু তোমার ?
মানে? শহর কি ছেলে, না মেয়ে ? ছেলে বা মেয়ে ছাড়া বন্ধুতা জন্মায় কারো সঙ্গে ?
আমি ঠিক ওটা মিন করছি না।
তো? থার্ড সেক্স?
রবিশেখর ভুরু কুঁচকে তাকায়।
ধীরে, স্পষ্ট উচ্চারণে বলে, বলছিলাম শহরটা তোমার পুরনে-পুরনো নানা ছাপও ছায়ার সম্পর্কে জড়িয়ে থাকা। সবটাই সরল ভাবে ন্যাচারাল গড়ে ওঠা নয়।
বুঝলাম না।
বুঝে নাও! রবিশেখর হাসে।
বুঝি না বাপু! উৎপলার ঠোঁটে হাসি। আসলে রবিশেখর ‘ সরলভাবে ন্যাচারাল গড়ে ওঠা ’ বলতে প্রতীক হিসেবে ভাগলপুরকে ইঙ্গিত করেছিল। উৎপলা যে আদৌ ধরতে পারেনি, তা নয়। খেলাচ্ছিল। হঠাৎ হেসে বলে, ওভাবে ভাগলপুরিয়া গাইয়া বেড়ে ওঠে…এ শহরে কে কে এসেছিল জানো ? ওই ছাপ-ছায়ার মধ্যে ? …রবীন্দ্রনাথ, গান্ধী, প্রফুল্ল রায়, নেতাজী…ঈর্ষা হচ্ছে?
রবিশেখরের চেহারাটা অনেকটা আংকল ধরণের। পাতলা চুল, চর্বিসম্বল, কোলা ব্যাঙের মতো বুকমাথা। দুধে আলতার রঙ। চলফেরায় চটপট ভাব নেই। কিছু আড়ষ্টতা। বয়সের ব্যবধানও যথেষ্ট। অথচ চোখদুটি খুবই মোহময়।
সে একজন সফল পে-প্যাকেটের অধিকারী। খুবই নামকরা চাটার্ড অ্যাকাউটেন্ট।
উৎপলা ছাড়তে চায়না। খোঁচাতেই থাকে, শখের পুর নিয়ে তোমার এত ঈর্ষা ?… ভালো করে জায়গাকে চিনতেই পাল্লে না!
হ্যাঁ, ঈর্ষাই ! বলতে পারো ! এটা তোমার নিজের শহর কিনা ! …অতীতের কত গোপন, মুক্ত সব কিছুর..
তো ? কী সব কিছুর ? ঝেরে কেশো ফেলো ! ..আমার প্রেমিকরে ! বলেই উৎপলা ভুঁড়িতে কাতুকুতু দেয় !
রবিশেখর হাসতে হাসতে লঘু চালে, তোমার পুরনো ইয়ে গুলো…ধরো দাদা, দাদাদের বন্ধু, পাড়াতুতো দাদা… আরও কিছু…যদি কিছু থাকে অবশ্য…চোখের আড়াল হল না… বিয়ে হয়ে মেয়েদের যা হয়…!
লতা সিং যেমন ! উৎপলা ব্যাঙ্গের চুক চুক শব্দে বলে, হাফসোল এখনও খসেনি? লাগছে?
ভিক্টর যদি দাদুর বাড়ি থাকে, এমন রসিকতার নিরিবিলি পরিবেশে, উৎপলার কেন জানি, চঞ্চল ও চটুল দৃষ্টি ঝলসে উঠত। দুষ্টু গাম্ভীর্যে রঙিন ঠোঁঠজোড়া কাঁপত। খেলা থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিতে বাধ্য। কোনো কোনো পরিস্থিতিতে, উৎপলা বরের নাকটি সাঁড়াশি আঙুলে টিপে, খুব ঘনিষ্ঠতার, শাস্তি দেবার ছলনায় পুরুষটিকে ঘনিষ্ঠতার সুযোগ করে দিত, তখন রবিশেখরের নাচে ইয়ার্ডলে বা রিবক— কতগুলো মূল্যবান বডিস্প্রে, পণ্যের বাজারে যাদের বিজ্ঞাপন নেই, আভিজাত্য আছে— ঘ্রাণ উৎকর্ষ হয়ে দেখা দিত।

শুঁকেই রবিশেখর অদ্ভূত মনোবিকলনের শিকার হয়ে পড়ে। একপ্রকার অ্যালার্জি। অনুভব হতে থাকে হলুদ ফাংগাস নাক দিয়ে ঢুকে এই বুঝি ফুসফুসটাকে বিকল করে দেয়। ভয় হয়। নার্ভাস হয়ে পড়ে। ভুলে যায়, স্বাভাবিক প্রতিদান হিসেবে লোভনীয় শরীরটি দখলে নিয়ে প্রকৃত হওয়াই এখন প্রত্যাশিত কর্তব্য।
চূড়ান্ত দুষ্টুমিতে সাড়া না মেলায়, পুরুষটাকে করুণায় সামান্য ধাক্কা দিয়ে, ক্ষুণ্ণ উৎপলা সরে আসে। এমন হাঁদা, শীতল, একটি দুধেল পুতুল তারই কপালে ? অতৃপ্তিতে চোখ জ্বলে, নিজেরই ঠোঁট অবশেষে নিজেরই জিভের লালায় ভিজিয়ে মৃদু কামড় বসায়।
উল্টে রবিশেখর হাসে। বুঝে ওঠে না একটি দেহগত জরুরি বার্তা ডিকোড হল না। উল্টে স্বামীর মুখে শুনতে পায়, ঠোঁটে এ স্টিকটা ব্যবহার করো না।
ধ্যাৎ। বাকি কথা অব্যক্ত রেখে উৎপলা চাউনিতে করুণা ফুটিয়ে তুলল। একটা ফুটো পুরুষ!
রবিশেখর বলে, বিশ্বাস করলে না? ক্যান্সার জন্মাতে পারে ওটায়!
উৎপলা উত্তরটা সামলে নিল, মার কোলে দুধ খেতে পার না?
তীব্র দৃষ্টি ছুঁড়ে থেমে থেমে শোনায়, শুধু ক্যান্সার? আর কিছু নয় ?
তাচ্ছিল্যের হাসি। যেন রবিশেখর সুন্দর একটি ঢ্যামনা সাপ মাত্র।
রবিশেখর তবুও বলে যায়, বিশ্বাস হচ্ছে না?
জ্ঞান মারিও না তো!
কী মুশকিল ! রবিশেখর যেন ঝাঁঝালো কোনো তেতো তরল পান করে ফেলেছে। বিশ্বাস হল না ? উৎপলা নিজের মধ্যে ফিরে গেছে।আদর্শপুরুষ হিসেবে কোনো সম্ভাবনাই খুঁজে পেল না। তার ওপর, ওর চোখের সামনেই ওর জ্ঞান ও উপদেশকে জুতোর তলায় ঘষে ফেলতে, ফের একপ্রস্থ ওই রংই মাখল ঠোঁটে। শরীরে স্প্রে করল। সেই গন্ধের প্রবল মেঘ ছড়াল চারপাশে।
সূতাকল, ইঞ্জিনিয়ারিং, পটারি কারখানা— এক একটা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। অথচ বেড়ে চলেছে আবাসনের সংখ্যা, শখেরপুর পুরনো মফঃশ্বলি চরিত্র হারাচ্ছে, ফুটে গজাতে থাকে খুচরো কেনা-বেচার মানুষ।
উৎপলা ভাবে, এ-সব মাখে যারা, সব বোকা? দীপিকা, করিনা, আলিয়া ভাট — সব বেকুব ? আর স্বাস্থ্যের পাশে ক্ষতিকর হলে সরকার এ-সব ব্যান্ড করে দিত না ?
উৎপলার এইসব পালটা যুক্তির ধারে, রবিশেখরের মুখে কোনো উত্তর যোগায় না।
♦
উঁচুমহলে পরিকল্পিত উন্নয়নের এইসব মাস্টার প্ল্যানের ছিটেফোঁটা খবর যদুনাথের অজানা নয়। জোত সিংহের প্রতিষ্ঠানের জমি বাছবার সময়েই এমন সুদূর একটি সম্ভাবনার খবর ছিল তার কাছে।ওদের তরফ থেকে একবার যদুনাথকে বলা হয়েছিল, যাড়ু বাবু ! জমি ধরিয়ে রাখেন !
কেন ? শখেরপুরে কোনো সোনার খনি মিলবে ভবিষ্যতে?
মিলতেও পারে ! রহস্যের হাসিতে বলেছিল।
কিছু খবর আছে? সিংজি, এখানে কলেজ খুলতে চাচ্ছেন কেন?
জাড়ু বাবু। সব কেন-র উত্তর নাই! ..হাওয়াই আড্ডার এত কাছে শখেরপুর…বলছিলাম, জমি ধরিয়া রাখুন।
উৎসাহ নিয়ে শহরের স্টেশন চত্বরের খবরাখবরে আগের মতো উৎসাহ বোধ না করলেও সিংদের পরামর্শটি সে ভুলে যায়নি। এ-ভাবেই নান সময়ে, নানা ইহ্গিত যদুনাথের কাছে হেঁটে হাজির হয়েছে। আজও তাই বিশ্বাস করে, মা, তুই আছিস! আমি কিছু জানি না !
একটা পর্বে চারপাশের ঘটমান কোনো খবর নজর এড়িয়ে গেলে ভীষণ উত্তেজিত হত। ঘনিষ্ঠ ছেলে ছোকড়াদের ধমকাত, কখনো বা স্টেশনরোডের বড় বড় ব্যবসায়ীদের ব্যবহারে আহত হয়েছে। তবু শ্রম ও একাগ্রতার মধ্য দিয়ে যদুনাথ সমিতির সক্রিয় নেতৃত্ব দিয়েছে। মারকুটে সিদ্ধান্ত নিতে তার জুড়ি ছিল না কেউ।
দ্বিতীয়বার, রাস্তা চওড়ার অজুহাতে, ফুটের দোকান ভাঙচুর হয়, যদুনাথ ছাপমারা ফুটব্যবসায়ী ছিল না।তবু ভুলু আইচ, খোকন সাহাদের নেতৃত্বে আড়াইশো ফুটের দোকানদার — ভারে তো নীলোৎপলা ফার্নিচার বর্তমান পজিশনে— তাদের পরিবার সহ থানা চত্বর ঘেরাও করেছিল। সে-সময়ের দারোগা বাবুটি ছিলেন বিজ্ঞানের ভালো ছাত্র।তিনি তিনটে ব্যবসায়ী সমিতির মাথা, গোপালশঙ্কর এবং আরও কয়েকজনকে ডেকে আলাদা বৈঠকে বসেছিলেন ।
সহানুভূতি নিয়েই স্যার বলেছিলেন, কেউ তো আপনারা ফুটে বসে ব্যবসা করেন না…যার যার কেনা জমি …ঝামেলায় আপনারা কেন জড়াচ্ছেন?
যদুনাথ ঠোঁঠকাটার মতো হেসে বলেছিল, ঘুটে পুড়লে গোবরের মজা দেখা ঠিক না ছার !
বুঝলাম কথাটা ! … প্রশাসন চায় আপনারা বিজনেসে ফ্লারিশ করুণ…সরকারি কোষাগারের লাভ…
কেউ ফুট দখল করলে আপনাদেরই খদ্দেরদের অসুবিধে।
বিকল্প কিছু করে না দিলে, ওদের পেটেও যে লাথি পড়ে স্যার! যদুনাথ বলেছিল। গোপালশঙ্কর সে আমল-থেকেই মানুষটার ওপর হাড়ে হাড়ে চটা । যেখানে স্বয়ং এম.এল. এ. থানায় হাজির । তোর প্রতিকথায় জবাব দেয়ার কী অর্থ! নেতা হিসেবে গোপালশঙ্করের ইগোতে ধাক্কা খাবেই।
বর্তমানে নেতাজী সুভাষ বাজার সমিতি রেলওয়ে সাইডিংশএর ধারের জমজমাট বাজার— দুপুর গড়িয়েও কেনাবেচায় গিজিগিজি, তৎকালীন জঙ্গল ও নোংরা অঞ্চটাকে বিকল্প ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
ফুট তবুও খালি থাকে না। শখেরপুরের স্টেশন রাস্তাটার। ধীরে ধীরে ডিভাইডার দেয়া চওড়া রাস্তার দুপাড়ে শয়ে শয়ে আইনি দোকান আলোয় ঝলমল করলেও, পাশাপাশি ফুটদখল করে নতুন একদল জুটে যায়। গোপালশঙ্কর এবং তার দল তদারগি করলেও তপেশ, যদুনাথ, খোকা সাহাদেরও গোপন সায় থাকে। তাদেরও এলাকায় সমাজ নিয়ে চলতে হয়।
মানুষগুলো করবে কী? সূতাকল, ইঞ্জিনিয়ারিং, পটারি কারখানা— এক একটা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। অথচ বেড়ে চলেছে আবাসনের সংখ্যা, শখেরপুর পুরনো মফঃশ্বলি চরিত্র হারাচ্ছে, ফুটে গজাতে থাকে খুচরো কেনা-বেচার মানুষ। হরেক রকমের পশরা। শুধু পুজোর কয়েকটা দিন বসবে, আগমনীর ভালোমন্দ ভাবনায় সহানুভূতি কুড়িয়ে, দেখা যায় আর উঠল না। এভাবেই বড় বড় দোকানগুলোর মুখ এখন আটকে রয়েছে। বাস-লরি, মিনিবাস বিশেষ বিশেষ দিনে শামুকের গতিতে এগোয়। স্বার্থের সংঘাতে, মাঝেমাঝে ব্যবসা সমিতির মাতব্বরেরা বলে, সেই পুরনো দারোগাটিই খাঁটি বলেছিল তখন। মানতে চাইনি আমরা !
তবে শহরটায় লোকসংখ্যাও তো বাড়ছে ! দোকানগুলোর বেচাকেনার জাঁকজমক, কিছু কিছু ব্যবসাতে এমন লক্ষ্মীলাভ ঘটাতে থাকলো—যদুনাথরা সমস্যা মেনেই সহবস্থানে চলে।
বিশেষত, যদুনাথের পুরনো দিনের দাপাখাপা মেজাজ, গোঁ ও মোষের মতো খাটাখাটনিতে উৎসাহ কিছুটা গতিহীন, শান্ত। গুড়ের কলসির পিঁপড়েটির যেমন লালেঝোলে অবস্থা হয়। সম্পত্তি বাড়াতে বিতৃষ্ণা আসেনি যদিও নিত্যকর্মের পর্যায়ে গেছে। বোধ এসেছে, অর্থের চেয়েও অধিক জরুরি অজ্ঞাত কোনো শক্তির কৃপালাভ। তা না হলে শান্তি নেই। টাকার বিছানায় শুয়ে থেমেও স্বস্তি মেলে না। মা-তারা স্বস্তি পেতে দেবে না ! যদুনাথ আপন ঘনিষ্ঠ আসরে, দু-চারজনকে ‘যতই তুমি ফাল মারো, একমাত্র খাটি কপালখানা’ বলে ললাটে আঙুল ঠোকে। সে আমল থেকেই যদুনাথ মুঠোয় যা স্পর্শ করে, সোনা — আজ শখের পুরে যদি বিশ-পঁচিশজন সফল মানুষ থাকে— যাদের দুশো কোটির বেশি পুঁজি— অন্যতম যদুনাথ। তবুও চলাফেরা, মেলামেশায় সে ঝাঁকিদর্শনে আকরষণ বোধ করছে। কখনো অস্বাভাবিক মুডে থাকলে, পেটে দামি মালের কৃপা পড়লে, ঝাঁকিদর্শনের কথাগুলো বুদবুদের মতো ভেসে ওঠে।
‘বুঝলা তোমরা ! ’ এই যে ফার্নিচারের ব্যবসা দেখো, আমি এর কিচ্ছু দেখিনা…দুই-দুই খান কাঠের গোলা আছে দমদমে …আয়-ব্যয়ের খোঁজ নেই না। …কুড়িজন কর্মচারির সংসার চলে এর ওপর …নিজেদের কথা ভিন্ন …জমির কারবারও কমাইয়া দিছি…কিন্তু সংসারে খরচ তো কমেনা।
ভাবছ ? … থানাপুলিশ …উকিল-ব্যারিস্টর …ইলেকশন ফান্ড …আমার হাতেই ব্যয় হয় বটে …মা তারার কৃপা ছাড়া সম্ভব না।
এখন তো উন্নয়নের জোয়ারে কে কীভাবে পুঁজি হাসিল করে, পাবলিক খবরও পায় না। দৈবাৎ কোনো স্ক্যামে ধরা পড়লে বা মিডিয়ার হিসেবি হৈ চৈ তে সাধারণরা জানতে পারে। সে হিসেবেও যদুনাথ ওই-সব দৌঁড়ে নেই। ভুলু আইচ, খোকা সাহা কিংবা পেট্রল পাম্প এর মালিক রাহুল সাউর মতো নতুন নতুন কৃতি-রা শখেরপুরের ব্যবসার জগৎ আলো করলেও যদুনাথের তাতে খেদ কিংবা ভ্রুক্ষেপ থাকে না। কোন কারণে সুপ্রভার কোনো অবিমিষ্য কারিতায় ক্ষে্াভ জন্মালে থেকে থেকে বলে, ন্যায় কারে কয় প্রভা? এ্যাঁ? জেনে রাখো, যে-বিলাপের ওপর আমাদের ছেলে-মেয়েরা এখন ফুটানি মারে, শুরু টাই ছিল অন্যায় দিয়া।
এই যে পাঁচতলা ফ্ল্যাটটি, নীচে ‘নীলোৎপলা’ ফার্নিচারের বিশাল শো-রুম, অর্ডার ও সাপ্লাইয়ের কেন্দ্র, দোতলায় কারখানা, তিনতলায় একটি অংশে বড় মেয়ে থাকে, যদুনাথের নিজের অফিস, তার ওপরে ছেলে রন্টিও তার বউ, এবং বুড়োবুড়ি নিজেরা — মোট যে এগারো শো স্কোয়ার এরিয়ায়, লিফ্ট ছাড়া ওঠানামা হয় না— এর ভিত্তিটাই তো ন্যায়হীনতার ভিতে গড়া।
ক্রমশ..
চরিত্র এবং ঘটনা কাল্পনিক । কেউ যদি মিল খুঁজে পান তাহলে তা অনিচ্ছাকৃত এবং কাকতালীয় ।
❤ Support Us








