- ধা | রা | বা | হি | ক রোব-e-বর্ণ
- জুলাই ৩, ২০২২
দশ ইঞ্চি প্রজাপতি
পর্ব ৯
অলঙ্করণ: দেব সরকার
উ।প। ন্যা।স
গন্ধের প্রসঙ্গটি নতুনভাবে উৎপলাকে ভাবিয়ে তুলল। আজ বেরুবার মুখে, কিংবা আজ সকাল থেকেই রবিশেখরের সঙ্গে খুটখুটানি যা যা ঘটেছিল —ভাবতেই নিঃশব্দে মজা জাগল। মানুষটা অনেক কিছু টের পায়, আগে থেকেই বুঝতে পারে— কিন্তু স্বভাবে খানিকটা হাঁস। নিজের বিশ্বাস ও সিদ্ধান্তকে মুঠোয় আঁকড়ে ধরে রাখতে জানে না। দুর্বল পুরুষ। তবে, তখন উৎপলা বোঝে, বাতাসে গন্ধের অনুমান নিয়ে তখন বাড়াবাড়িটা না করলেই হত। রবি যখন বলেছিল,আজও বাতাসে গন্ধটা চোরাগোপ্তা ছড়িয়ে পড়েছে, উৎপলা সহমত হতে চায়নি। তাই-ই নয়, ফুৎকারে উড়িয়ে ফ্ল্যাট থেকে নেমে এসেছিল। সানগ্লাস,হাল্কা প্রিন্ট-এর শাড়ি সোনালি ডাইং-এর চুল, ম্যাচিং রংয়ের টিপ, দেহ থেকেই য়ার্ডলে— বডিস্প্রের গন্ধ। উৎপলা একজন প্রসাধন খোড়। ফ্ল্যাটে থেকে বেরুবার আগে এ সকল গন্ধ ছড়ানো থাকলেও রবিশেখরের বিশেষ ক্ষমতাটুকু সজাগ ছিল। পইপই করে বলেছিল,গন্ধটা পাচ্ছনা? এখন বেরুন ঠিক হচ্ছে না।শুরু হল জ্ঞান ? জ্ঞান দা ? মধ্যাহ্নের আলোয় উৎপলার ত্বকের বর্ণটি দাউদাউ করছিল। ও এমনিতেই খুব ফর্সা, এখন যেন চর্বির প্রলেপে জিল্লাগুলো ফেটে বেরুচ্ছে।রবিশেখর পেছন পেছন বলেছিল,বিশ্বাস হচ্ছে না? বডিস্প্রে মাখলে কি বিপদের গন্ধ নাকে ঢোকে? এইতো বেরুচ্ছি! একটা নাইটি কিনতে হবে !…দেখি কোন বিপদটা এসে দাঁড়ায়? তুমিতো এ.সিতে গিয়ে ঢুকবে! …ওরা এ-গন্ধ পাবে না। নাইটি ফুট থেকে কিনবেরে হাঁদা ! স্বামী-স্ত্রী মধ্যেই এই ঢংয়েই কথাবার্তা চলে বেশি সময়। উৎপলা ডমিনেট করে রবশেখরকে। রবি এ-খেলাটিকে ক্ষমার চোখে দেখে। মাঝেমধ্যে বুকের মধ্যে আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ জন্মালেও, চুপ করিয়ে রাখার যথেষ্ট ভাষা ও যুক্তি হাতড়ে পায় না। থাকত ভাগলপুরের যৌথ পরিবারে। তখন অবশ্য উৎপলা একতরফা ছাড় পেত না। সংসারে নানা বাঁকা কথা শুনতে হয়েছে উৎপলাকে।শখের পুরে এখন মাঝেমধ্যে বড্ড একা মনে হয় রবিশেখরের। সাজানো গোছানো, আয়েস-আরামের মধ্যেও একপাশে একা সে, বিপরীতে উৎপলা ও সন্তান বুবাই। তাছাড়া বাইরের জগতে আছে শখেরপুর শহর, শ্বশুড় বাড়ি, উৎপলার সকল পরিচিতি।
রবিশেখর উৎপলার কাছে কৈশোরের বন্ধু লতা সম্পর্কে খোলসা কিছু বৃত্তান্ত বলে, বিবাহজীবনের কোনো ভুল বোঝাবুঝি বন্ধ করতে চেয়েছিল। এতে কোনো মহাভারত অশুদ্ধ হয় কি? ফল হয়েছিল উল্টো।উৎপলা বন্ধুতার লেভেলটা সম্পূর্ণ ভিন্ন অর্থ বানিয়ে হেসে হেসে বলেছিল, লতা কে কেন বিয়ে করলে না ?
এই শহরেই উৎপলার শিকড় — রবিশেখর মাঝেমধ্যেই চাপা উত্তেজনায় যুক্তি সাজায়—নিজের জন্মশহর বলেই সর্বদা ফরফর করে। বাড়তি সুবিধে।সন্দেহের একটি অজ্ঞাত কাঁটা খচখচ করেই যায়। রূপের সঙ্গে কি সন্দেহশক্তির কোনো যোগসূত্র থাকে? কোথায় যেন পৌরুষত্বের গোপন স্থানে ঘা লাগে। সে ভাবে, মেল ডমিনেটেড সমাজে সুন্দরী বউ যদি স্বামীর যে কোনো মতামতে অবিশ্বাস ও সন্দেহে উড়িয়ে দেয়ার প্রবনতা দেখায়। স্বামী হিসেবে দুশ্চিন্তা বা ভাবনায় পড়তেই হয়। এখানে কি উৎপলার অতীতের কোনো সম্পর্ক আজও ঝোপের লতার মতো কোথাও পেঁচিয়ে আছে ? স্পষ্টত কোনো হাতেনাতে প্রমান নেই, বা বলা চলে সংগ্রহের উপায় নেই। এ-শহরের পথঘাট, সম্পর্কের কুষ্টি কুলুজির কতটুকু খবর রাখে রবিশেখর। অডিট অফিসার হিসেবে তার ব্যস্ততার জগৎ ভিন্ন। সেখানে তার সুনাম ও দীর্ঘ সম্ভাবনার রাস্তা পড়ে আছে। জার্নাল, বই, বাণিজ্য জগতের চমপ্রদ সমুদ্রে থেকে নির্ঝঞ্ঝাট সংসারের আরাম-আয়েসে ফিরে এসে, সুন্দরী স্ত্রীকে নিয়ে সন্দেহের আগুনে জ্বলবে ? রবিশেখর তেমন ধাতের জীবনযাপনে বিশ্বাস রাখে না।খুবই স্বচ্ছ স্বভাব ও সোজা কথার মানুষ। কোনো অতিরঞ্জন বা ব্যবহারিক জীবনে তথ্য গোপানকে অপরাধ মনে করে। এমন ভাবনা প্রবল ছিল ভাগলপুরে। এখন অবিশ্যি শখেরপুরের আয়েশ জীবনে, মাঝেমধ্যে বিশ্বাস ভেঙে যায়— হয়তো স্বামী-স্ত্রীর সহজ সম্পর্কের মধ্যেও কিছু আড়াল বজায় রাখা পুরুষের কর্তব্য। মেয়েরা সাধারণত বড্ড স্পর্শকাতর। অধিকারের বিষয়ে খুঁতখুঁত সন্ধিহান হয় খুব। বিয়ের পরেপরেই রবিশেখর উৎপলার কাছে কৈশোরের বন্ধু লতা সম্পর্কে খোলসা কিছু বৃত্তান্ত বলে, বিবাহজীবনের কোনো ভুল বোঝাবুঝি বন্ধ করতে চেয়েছিল। এতে কোনো মহাভারত অশুদ্ধ হয় কি? ফল হয়েছিল উল্টো।উৎপলা বন্ধুতার লেভেলটা সম্পূর্ণ ভিন্ন অর্থ বানিয়ে হেসে হেসে বলেছিল, লতা কে কেন বিয়ে করলে না ? বিয়ে? কেন? বল্লাম না কলেজের বন্ধু! …তাছাড়া…তাছাড়া কী ? ওরা বাঙালি না। জাতে রাজপুত ! বেশ তো, বাঙালি-রাজপুতে জমত ভালো! সে-অর্থে তোমায় বলি নি, পলা ! উৎপলা সহসা জাপটে ধরে, স্বামীকে চুম্বন করে ম্যানেজ দিয়েছিল, হাঁদা !… ইয়ার্কিও বোঝেনা ! ব্যাপারটা যে ছল কিংবা ইয়ার্কি নয়— আজ রবিশেখরের দৃঢ় বিশ্বাস জন্মে গেছে। এ বয়সে কখনো কখনো, হাঁফ ছাড়তে, ড্রয়িং ঘরের কাজের টেবিলে বসে মুক্ত প্রকৃতির খোঁজে দূরে দৃষ্টি ভাসিয়ে রাখলে অদ্ভুত রিলিফ। আকাশের কিনারে মেঘের কুন্ডকগুলো, গাছপালা এবং তারই মাঝখানে জলের ট্যাংক, কোনো লক্ষীছাড়া কারখানার দুঃখি কোড বা শুকনো চিমনি, আকাশের গা বেয়ে বকের দলের উড়ে চলা, হাইরাইজ কিছু কিছু ফ্ল্যাটের লক্ষণ, দু-চারটে মোবাইলের টাওয়ার, কাছেপিঠে কোথাও বা বিরল হোগলা ঝোপ, সিজিনে কাশফুলের আভাস ইত্যাদি। উৎপলা হঠাৎ ঢুকে খোঁচা দেয়, বসে বসে লতা সিংয়ের কথা ভাবছ? অনুকল্লের একধরণের চুক্ চুক্ শব্দ। রবিশেখর ত্যারচা একটু তাকায়। খাঁটি ক্রোধ জাগে বুকে। মুহূর্তে সামলে নিতেও জানে। লক্ষ করে,ছেলে বুবাই যত বড় হয়ে উঠছে, ততই যেন প্রসাধনের আধিক্য বাড়ছে উৎপলার।একই আবাসনের ফেজ টুতে গোপালশঙ্কর থাকেন । এখন তার ঘরে ঘনিষ্ঠ হয়ে বসেছিল সোমনাথ আর পার্থ। বুলডোজার ভাঙচুর, ফুট উচ্ছেদ নিয়ে গোপাল শঙ্কর খুঁটিয়ে খবরাখবর নিচ্ছিলেন। আজ তাঁর দাপট কম, তপেশ এসে গেছে। তবুও চার বারের জনপ্রতিনিধি থাকাটা কম খাতিরের নয়। তাঁর দলেরও প্রভাবে দোকানদার সমিতির টুকরো একটা অংশ আছে। পার্থ এককালে শখেরপুর স্টেশন রোডের পেঁচো মস্তানের কাছ থেকে তোলা তুলত আর সোমনাথ — গোপালশঙ্করের বিশ্বস্ত । তাঁরই কৃপায় সোমনাথ লোকাল কমিটির সদস্যপদ লাভ করেছিল। সোমনাথ -এর এলাকায় বিশেষ বদনাম নেই। পার্টির রমরমার দিনে অনেকেই দুর্নাম কুড়িয়েছিল। সোমনাথ তুলনায় কম। স্টেশনের ব্যবসা কেন্দ্রে একটি মাত্র পাবলিক শৌচালয় ছিল— গোপালশংকর ক্ষমতার বলে হঠাৎই তুলে দিল ।প্রচার চলল, পাবলিক হেল্থ এর ক্ষতি হচ্ছে। সত্যিই শৌচালয়টি বাজে অবস্থায় পড়ে থাকত — পৌরপ্রতিষ্ঠান বলত নিয়মিত সাফা করার উপায় কোথায়? তালে দু-দুটো ফুটের ব্যবসা,ঘিঞ্জি করে রেখেছে অঞ্চলটা – তুলে দিতে হবে। অত ঘনিষ্ট ফুটব্যবসা বসানো নিয়ে কানাঘুষোর অনেক কিছু শোনা গেছল । কারা সরাসরি টাকা খেয়ে বসিয়েছে, কাদের পেছন মদত ছিল ইত্যাদি। হঠাৎই একদিন শৌচালয়টি উঠে যেতে, দোকানদাররা অনেকেই গোপালশংকরের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। এমন কি বিরোধিরাও। কিছুদিন পর দেখা গেল, ঝকঝকে একটি পাবলিক শৌচালয় । খানিকটা এগিয়ে খোকা সাহার ‘ম্যাচিং’ এর কাছে। ক্রমে ক্রমে জানা গেল সোমনাথ এর কর্তা । ভালো আয়ের সুযোগ। সে যুগেই পেচ্ছাপে আট আনা আর ওটি দুটাকায়। সোমনাথ আর তার এক চামচে ক্যাডারকে লাগিয়েছিল পয়সা আদায়ের জন্য। পরে, সোমনাথ মোটা টাকায় ওটি ছেড়ে দেয় হরিয়ানা হ্যান্ডলুমের পরিচিত একজনের কাছে। হরিয়ানা হ্যান্ডলুম তখন গোপালশঙ্করের কাছাকাছি মানুষ। গোপালশঙ্করের চওড়া স্ক্রিনের মোবাইলটা বেজে উঠতেই,ভুরু কুঁচকে, হঠাৎ আমাকে? কি মনে করে?… হাঃ! হাঃ! …এখন তো ভাই তপেশ!…শখেরপুরের বোস ! …হ্যা হ্যা … আসতেই পারেন ! …কে? সোমনাথ জানতে চাইলে গোপালশঙ্কর, দি গ্রেট পরিমল দত্ত !কি ধান্দা? … খানিক আগেই তো দেখলাম নীলোৎপলা বেরুচ্ছে !গোপালশঙ্কর বলে, ওই দুর্বৃত্তটা বাড়ি থেকে কেন?…পরিমল দত্ত ক্রিমিনাল উকিল ! ও পেশায় ধান্দাবাজি করতেই হয় ! … স্টেশন রোডে দোকানও আছে ! …তুই হুলুদাস কে? জমিঘাটার যে কম্ম করছিস, তা নিয়ে থাক ! যদুনাথের ওপর গোপালশঙ্কর গোপনে খুবই ক্ষুদ্ধ। সুযোগ পেলেই ওপরের ভদ্রতা ভেদ করে পরস্পর পরস্পরকে বিঁধতে ছাড়ে না। তপেশ বিরোধীদলের জনপ্রতিনিধি হলেও গোপালশঙ্করের সঙ্গে যে গোপন হটলাইন আছে, এটা কাণাঘুষোয় শখেরপুরের রাজনৈতিক বৃত্তে চালু থাকলেও, যদুনাথ সুযোগ পেলেই প্রকাশ্যে বলে বেরায়। তপেশ তো তার দশদিন অশৌচের জ্ঞাতি, তবুও যদুনাথ কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের সুযোগ নেয় না। সেও বা কম কিসে ? বর্তমানে শখেরপুরের যে দশ-পনেরজন ব্যক্তিত্ব ক্রমশ কোটি টাকার অধিক মালিক — তপেশ ও যদুনাথ দুজনই তালিকাভুক্ত। এখন যদুনাথ মা তারার একনিস্ট ভক্ত বনে যাবার পর, এইসব অনিত্য নিয়ে তেমন উত্তেজনা বোধ করে না। কেউ ইচ্ছাকৃত ঘাড়ে চাপাতে গেলে, যদুনাথ হেসে তা চুলকে ফেলে দিতে জানে। গত বছরেই তো, আবাসনের পরিচালন সমিতি ও সমবায় নির্বাচনে যদুনাথ গোপাল শঙ্করকে হারিয়ে দিয়েছে— গোপনে তপেশ গোপালশঙ্করের হয়ে প্রভাব খাটালেও। এইসব নানা কারণে যদুনাথের ওপর একই আবাসনের সহযাত্রী হয়েও চাপা ইগোর লড়াই। তোরা যা ! যা এখন ! গোপালশঙ্কর রিল্যাক্স অবস্থায় বসে, সিগারেট ধরিয়েছে। আজকের স্টেশনরোডের পরিস্থিতিটির রাজনৈতিক অভিঘাত কি ঘটতে পারে। প্রশাসক এ-যাত্রা কতদূর এগোবে, কতখানি রিক্স নেবে— ভাবতে ভাবতেই পরিমল হাজির। কথাবার্তা চলতে না চলতেই, কাজের মহিলাটি কফি নিয়ে ঢোকে । কখন এ ঘরে কফি ঢুকবে, কখন চা— কখন কখন শুষ্ক, শূন্য মূলঘরের যোগাযোগাটা বন্ধ রাখতে হবে— সংকেতগুলো পরিবারে পরিবারে পরিচিত। প্রায় আধঘন্টা চাপা কথাবার্তার পর অতিথিটি চলে গেল। বেরুবার সময়, কয়েকটি সাংকেতিক উচ্চারণ শোনা গেল।শুনলাম দিল্লী? ওটাই চালু! …আসলে শিলিগুড়ি …ঝামেলাটা রাতের দিকে আমার একটা ফোন করতে বলো…কথা দিচ্ছি না, গোপালদা ! …ওর মুড তো জানেন…আহা ! গোপালশংকর ইঙ্গিতে বলে, হয়ে যাবে !… আর্জেন্ট কথাটা ধরিয়ে দিতে হবে ! পরিমল দত্তের মুখে রহস্যের হাসি নিঃশব্দে ছড়াতে থাকে।ভাগলপুর থেকে কর্মস্থল কিছুদিন পাটনা, তারপর ক্যারিয়ার বদলে, এই শহরে উঠে এসে রবিশেখর বড় সুখের মাদকতা পেয়েছে। সুখ বা আয়স— যাই বলি না কেন। এর পেছনে অবশ্য উৎপলার উৎসাহ, উদ্যম ও যদুনাথের নানা যোগাযোগের খাতির। চাইতে শুধু দেরি, তৎক্ষণাৎ ভোগের বস্তু ফ্ল্যাটে চলে আসে, পানীয় জলের মেশিন, মাইক্রোওভেন , শীততাপ নিয়ন্ত্রণ, লিফট, সোফাডিভান, পুরনো সেট বদলে নতুন এমন কি মারুতি-সুজুকির দামি মডেলের একটি চারচাকা। ক্যাশের কোনো ঝামেলা নেই, কিস্তি ও বোতাম টিপে পেমেন্ট।একবার ড্রাইভার হিসেবে একটি অচেনা হিন্দুস্থানি ছেলে— খুব সম্ভব ঝাড়খন্ডের— গাড়িটা নিয়ে হাওয়া হয়ে যেতে, রবিশেখরের মাথায় হাত। থানা অবধি এফ.আই.আর লিখতে গড়িমসি করছিল যখন, ভুলু আইচকে নিয়ে লালবাজারে প্রভাব খাটিয়ে সাত দিনের মাথায় গাড়ি উদ্ধার। চক্রটি সীমান্ত পেরুবার আগেই মাল সহ ধরা। ড্রাইভার আজও জেলের ঘানি টানছে কিনা, রবিশেখর খোঁজ রাখে না। শখেরপুর শহরটার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে না উঠলে, এমন বিপদের কুলকিনারা রবিশেখরের মোটা প্যাকেজের চাকরির সূত্রেও অসম্ভব ছিল। এ-যুগে রেস্তোর সঙ্গে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার মিলমিশ না থাকলে, প্রভাবশালী হওয়া যায় না। আধুনিক জীবনে দুটি শব্দ জীবন যাপনে জরুরি। ‘প্রভাবশালী’ ও’সেলিব্রিটি’। উৎপলার দাম্পত্য জীবনে এ-নিয়েও চিকন অভাববোধ আছে। এ রকম নানা ছোটখাট ঘটনায় শ্বশুড়বাড়ির এ শহরটি রবিশেখরের বাহ্যিকজীবনের মসৃণতার পাশে অনুকূল। বন্ধুতা ও কমটেনশনের। অন্তত এটুকু কৃতজ্ঞতার জন্য রবিশেখরের স্বস্তিবোধ জরুরি ছিল। তবু তার হৃদয়ে গোপন একটি ঈর্ষা ফণা তুলে লুকিয়ে থাকে। কেন থাকে, যুক্তিতে সে প্রমাণযোগ্যতা পায় না। কোনো আস্ত নজির নেই। তবু ওই ফণাটির গোপন নিষিক্ত বিষে, কদাচিৎ নিজের ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। তখন রুচি ও ভাষায় ইষৎ টোল খেয়ে যায়। তারপর আত্মধিক্কার ও নীরব অনুতাপে দিন পনের নিজের মধ্যেই দগ্ঘাতে থাকে। লজ্জার কথা কচিৎকখনো ঠোকাঠুকি চলতে চলতে, দপ করে রবিশেখরের মেজাজে অন্ধ আগুন জ্বলে ওঠে।একাকার, স্মরণে আছে, ক্রোধের রাশ সমলাতে না পেরে,চাপা চিৎকার দিয়ে উঠেছিল। মনে হয়েছিল, শব্দগুলো ফেটে গিয়ে পাশের ফ্ল্যাটে ঢুকে গেছে।একটা হোর্ তুমি!কী বললে? উৎপলা প্রকাশ্যে ফণা তুলেছিল।হোর্ ! হোর্ !… হ্যাঁ, তুই বেশ্যাই! রবিশেখর নাদুসনুদুস শরীরে, সুন্দর মুখে মুখে বিকৃতি এনে, গলার শিরা ফুলিয়ে উচ্চগ্রামে আরও বিশেষণ ছাড়তে গিয়ে, হঠাৎ খেয়াল হয় পর্দা ফাঁককরে আড়ি পাতার গোপন প্রয়াস।
ক্রমশ..
চরিত্র এবং ঘটনা কাল্পনিক । বাস্তবের সাথে এর কোন মিল নেই, কেউ যদি মিল খুঁজে পান তাহলে তা অনিচ্ছাকৃত এবং কাকতালীয় ।
❤ Support Us








