- এই মুহূর্তে দে । শ
- জুলাই ৯, ২০২৬
কলকাতা-হাওড়া-দুর্গাপুর-রানাঘাটে একযোগে ইডি তল্লাশি
রাজ্যে ফের বড়সড় অভিযানে নেমেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। এ বার একটি ভুয়ো ই-কমার্স ও চিট ফান্ড সংস্থার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার আর্থিক প্রতারণার অভিযোগের তদন্তে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কলকাতা-সহ রাজ্যের একাধিক জেলায় একযোগে তল্লাশি চালায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, ‘জ়ারাডোবিট অ্যান্ড জ়ারাডোবিট ই-শপার্স প্রাইভেট লিমিটেড’ নামে একটি সংস্থা লগ্নিকারীদের উচ্চ মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে অন্তত ২২ কোটি টাকা সংগ্রহ করে প্রতারণা করেছে।
এই মামলার সূত্রপাত গত বছরের মে মাসে। কালীঘাটের এক বাসিন্দা হেয়ার স্ট্রিট থানায় অভিযোগ দায়ের করে জানান, সংস্থাটি ২৫ মাসের জন্য বিনিয়োগ করলে প্রতি মাসে ৪ শতাংশ হারে লাভ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সেই আশ্বাসে বহু মানুষ টাকা বিনিয়োগ করেন। পরে অভিযোগ ওঠে, এই প্রলোভন দেখিয়ে বাজার থেকে কোটি কোটি টাকা তোলা হলেও লগ্নিকারীরা প্রতিশ্রুত অর্থ ফেরত পাননি।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, সংস্থার দফতর কলকাতার ফেয়ারলি প্লেসে অবস্থিত। পাশাপাশি সংস্থার দুই ডিরেক্টরের নামও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু করে ইডি এবং বৃহস্পতিবার ভোর থেকে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক দলে ভাগ হয়ে তল্লাশি অভিযান চালানো হয়।
তদন্তের অংশ হিসেবে ইডির একটি দল হাওড়ার ব্যাঁটরায় গিয়ে সৌরভ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে তল্লাশি চালায়। অভিযোগপত্রে উল্লেখিত দুই ডিরেক্টরের মধ্যে একজনের নামও সৌরভ চট্টোপাধ্যায়। এছাড়াও পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুর এবং নদিয়ার রানাঘাটেও একযোগে অভিযান চালানো হয়।
তদন্তের অংশ হিসেবে ইডির একটি দল হাওড়ার ব্যাঁটরায় গিয়ে সৌরভ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে তল্লাশি চালায়। অভিযোগপত্রে উল্লেখিত দুই ডিরেক্টরের মধ্যে একজনের নামও সৌরভ চট্টোপাধ্যায়। এছাড়াও পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুর এবং নদিয়ার রানাঘাটেও একযোগে অভিযান চালানো হয়।
রানাঘাট সংলগ্ন কালীনারায়ণপুর এলাকায় তদন্তকারীরা শুভ্রকান্তি নাগ নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে তল্লাশি চালান। কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তায় পরিচালিত এই অভিযানের সময় বাড়িটি ফাঁকা ছিল। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় দেড় বছর ধরে এলাকায় দেখা যায়নি শুভ্রকান্তিকে। রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকায় তাঁর একটি অফিসও রয়েছে।
তদন্তে উঠে এসেছে, শুভ্রকান্তি নাগ ‘স্টক গুরুকুল’ নামে একটি সংস্থা চালাতেন। অভিযোগ, শেয়ারবাজারে প্রশিক্ষণ ও বিনিয়োগের নামে ভুয়ো চিট ফান্ডের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করে আত্মসাৎ করা হয়েছে। তাঁর সংস্থার বিরুদ্ধে একাধিক লগ্নিকারীর প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে।
ইডি সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ফেয়ারলি প্লেস থেকে পরিচালিত প্রতারণা চক্রের সঙ্গে কালীনারায়ণপুরের এই ব্যবসায়ীর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। তদন্তকারীদের সন্দেহ, অভিযুক্তদের সঙ্গে দুবাইয়ের এক ব্যবসায়ীরও যোগাযোগ ছিল। সেই কারণে প্রতারণার টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে কি না, সেই সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আর্থিক লেনদেন, ব্যাংক নথি, ডিজিটাল তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা খুঁটিয়ে পরীক্ষা করছেন তদন্তকারীরা।
ইডির এই অভিযান থেকে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে বলে তদন্তকারী মহলের ধারণা। প্রতারণার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের আর্থিক লেনদেন, সম্পত্তি এবং বিদেশি যোগাযোগের দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।
❤ Support Us








