Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • মার্চ ২৭, ২০২৬

অভিজ্ঞ ডব্লিউবিসিএস আধিকারিকদের ‘নিম্নতর পদে’ নিয়োগ! নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ বাড়ছে প্রশাসনের অন্দরে

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
অভিজ্ঞ ডব্লিউবিসিএস আধিকারিকদের ‘নিম্নতর পদে’ নিয়োগ! নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ বাড়ছে প্রশাসনের অন্দরে

বিধানসভা ভোটের আবহে, নির্বাচন কমিশনের একের পর এক প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। এবার অভিযোগ, সিনিয়র ডব্লিউবিসিএস (এগজিকিউটিভ) আধিকারিকদের পদমর্যাদা উপেক্ষা করে তাঁদের একাধিক ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে নিম্নতর দায়িত্বে পাঠানো হচ্ছে। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য প্রশাসনে শুরু হয়েছে তীব্র অসন্তোষ।

সূত্রের খবর, রাজ্যের ৭৩টি বিধানসভা কেন্দ্রের রিটার্নিং অফিসার বদলের পরই এই বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয়। নতুনভাবে নিযুক্ত রিটার্নিং অফিসারদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশই ডব্লিউবিসিএস ক্যাডারের হলেও অভিযোগ, তাঁদের মধ্যে অন্তত ২০ জনকে এমনভাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যেখানে তাঁরা কাজ করছেন তুলনামূলকভাবে জুনিয়র পর্যায়ের আধিকারিকদের অধীনে। প্রশাসনিক পরিভাষায় যাকে অনেকেই কার্যত ‘পদাবনমন’ বলেই ব্যাখ্যা করছেন।

বিশেষ নজর কেড়েছে মালদহ, হরিণঘাটা-সহ একাধিক জেলার কিছু নিয়োগ। অভিযোগ, একাধিক সিনিয়র ডব্লিউবিসিএস আধিকারিককে জেলা যুব কল্যাণ দফতর বা তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে পাঠানো হয়েছে। কোথাও অতিরিক্ত সচিব, কোথাও আবার যুগ্মসচিব পর্যায়ের আধিকারিকদের জেলা স্তরের দফতরে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে— যেখানে সাধারণত তাঁদের পদমর্যাদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলেই দাবি প্রশাসনিক মহলের একাংশের।

অন্যদিকে, ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এই কেন্দ্রে রিটার্নিং অফিসার নিয়োগকে কেন্দ্র করে পক্ষপাতের অভিযোগ তোলে শাসকদল। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ওই নিয়োগে পরিবর্তন আনা হয়েছে বলেও প্রশাসনিক সূত্রে জানা যাচ্ছে। রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল এই কেন্দ্রকে ঘিরে শুরু থেকেই প্রশাসনিক নজরদারি তুঙ্গে। রাসবিহারী বিধানসভা কেন্দ্রের ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ, সেখানে ২০০১ ব্যাচের এক অভিজ্ঞ আধিকারিককে এমন একটি দায়িত্বে পাঠানো হয়েছে, যা তাঁর পদমর্যাদার তুলনায় অনেকটাই নিচু। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে—নিয়োগের ক্ষেত্রে কি যথাযথ ভারসাম্য রাখা হচ্ছে?

একই সঙ্গে মালদহ জেলার এক রুরাল ডেভেলপমেন্ট সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক শীর্ষ ডব্লিউবিসিএস আধিকারিককে নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ, তাঁকে এমন একটি কাঠামোর মধ্যে কাজ করতে হচ্ছে, যেখানে তাঁর অধীনেই রয়েছেন তুলনামূলকভাবে জুনিয়র পর্যায়ের অফিসাররা। শুধু তাই নয়, একাধিক ক্ষেত্রে জেলা যুব আধিকারিক বা নির্বাচন সংক্রান্ত দফতরের মতো তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ পদেও সিনিয়র আধিকারিকদের পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ। এরই মধ্যে রাজ্যের শীর্ষ আমলাতন্ত্রেও ব্যাপক রদবদল ঘিরে আগে থেকেই অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব থেকে শুরু করে পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ স্তর—একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে বদলির পর প্রশাসনিক স্তরে চাপা ক্ষোভের কথা ইতিমধ্যেই সামনে এসেছে।

এক প্রবীণ প্রশাসনিক আধিকারিকের কথায়, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মানা প্রশাসনের বাধ্যবাধকতা হলেও, এই ধরনের একাধিক পদক্ষেপ প্রশাসনিক কাঠামোর স্বাভাবিক ভারসাম্যকে নাড়া দিচ্ছে। তাঁর মতে, এর প্রভাব কেবল আমলাতন্ত্রেই সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে, ভোট-পরবর্তী প্রশাসনিক পরিস্থিতিতেও এর রেশ থেকে যেতে পারে। সব মিলিয়ে ভোটের আগে প্রশাসনিক অস্থিরতা ও কমিশনের একাধিক সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে চাপানউতোর আরও বাড়ল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!