- এই মুহূর্তে দে । শ
- আগস্ট ৩, ২০২৬
প্যাসেঞ্জার ট্রেনের ইঞ্জিনে আগুন, পুড়ে ছাই ৩ বগি, বরাত জোরে রক্ষা পেলেন যাত্রীরা
বিহারের সহর্সা জেলার সিমরি বখতিয়ারপুর স্টেশনে ভোররাতে প্যাসেঞ্জার ট্রেনের ইঞ্জিনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার ভোর প্রায় ৩টা ২৫ মিনিটে স্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে থাকা সমস্তিপুর-সহর্সা প্যাসেঞ্জার ট্রেনে আচমকাই আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ইঞ্জিন থেকে ছড়িয়ে পড়ে ট্রেনের পিছনের কয়েকটি বগিতে। তবে ট্রেনের কর্মীদের তৎপরতায় যাত্রীদের দ্রুত নিরাপদে নামিয়ে আনা সম্ভব হওয়ায় বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো গিয়েছে।
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্ধারিত সময়েই সমস্তিপুর-সহর্সা প্যাসেঞ্জার ট্রেনটি সিমরি বখতিয়ারপুর স্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করে। সে সময় ট্রেনের মাঝখানের ইঞ্জিন থেকে প্রথমে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই ইঞ্জিনে দাউদাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে এবং দ্রুত তা পিছনের তিনটি বগিতে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনে ওই তিনটি বগি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে। ঘটনার সময় ট্রেনে থাকা অধিকাংশ যাত্রী ঘুমিয়ে ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। আগুন দেখতে পেয়েই রেলকর্মীরা দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করেন. যাত্রীদের নিরাপদে ট্রেন থেকে নামিয়ে আনেন। ফলে বড়সড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় রেল পুলিশ, স্থানীয় পুলিশ এবং দমকলের একাধিক ইঞ্জিন। প্রায় আড়াই ঘণ্টার চেষ্টার পর ভোর সাড়ে ৫টা নাগাদ আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সকাল ৬টা থেকে ওই রুটে ট্রেন চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক করা হয়। অগ্নিকাণ্ডের জেরে বেশ কিছু ট্রেনের পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে। স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সহর্সা-পাটনা কোশী এক্সপ্রেস, মণিহারি-জয়নগর জানকী এক্সপ্রেস, সহর্সা-সমস্তিপুর প্যাসেঞ্জার এবং সহর্সা-দেওঘর শ্রাবণী স্পেশাল নির্ধারিত সময়ের তুলনায় বিলম্বে চলেছে। পাশাপাশি কয়েকটি ট্রেন বাতিলও করা হয়েছে।
কী কারণে এই ভয়াবহ আগুন লাগল, তা এখননো স্পষ্ট নয়। তবে প্রাথমিক তদন্তে রেল কর্তৃপক্ষের অনুমান, শর্ট সার্কিটের জেরেই আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। ইঞ্জিনে কোনো প্রযুক্তিগত ত্রুটি ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই পুলিশ ও রেল কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। সিমরি বখতিয়ারপুরের স্টেশন সুপারিনটেনডেন্ট জানিয়েছেন, আগুনের ঘটনায় সাময়িকভাবে রেল পরিষেবা ব্যাহত হলেও পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তদন্ত শেষ হওয়ার পরই অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে জানা যাবে।
❤ Support Us








