Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • আগস্ট ১৮, ২০২৫

যাদবপুরের প্রাক্তনী, গবেষক হিন্দোল মজুমদারের জামিন মঞ্জুর

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
যাদবপুরের প্রাক্তনী, গবেষক হিন্দোল মজুমদারের জামিন মঞ্জুর

ব্রাত্য বসুর গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ, ভাঙচুর এবং অগ্নি সংযোগের মামলায় জামিন পেলেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনী, বর্তমানে স্পেনের গবেষক হিন্দোল মজুমদার। সোমবার, আলিপুর আদালতের অতিরিক্ত মুখ্য বিচার বিভাগীয় বিচারক ১০০০ টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে শর্তসাপেক্ষে তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন।

গত বুধবার স্পেন থেকে দেশে ফিরেই দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হাতে ধরা পড়েছিলেন হিন্দোল। তাঁর বিরুদ্ধে আগেই লুক-আউট নোটিস জারি করেছিল কলকাতা পুলিশ। দিল্লি পুলিশের হেফাজতে এক রাত কাটানোর পর ট্রানজিট রিমান্ডে তাঁকে আনা হয় কলকাতায়। শুক্রবার পেশ করা হয় আলিপুর আদালতে। বিচারক পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন। ৩ দিন পরে ফের আদালতে তোলা হলে জামিন পান হিন্দোল।

মামলার শুনানিতে দুই পক্ষের সওয়াল-জবাব ছিল চড়া সুরে। সরকারি কৌঁসুলির দাবি, ১ মার্চ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর গাড়ি হামলার ‘ষড়যন্ত্রের’ নেপথ্যে ছিলেন হিন্দোল মজুমদার। তাঁর নেতৃত্বেই হোয়াটসঅ্যাপ মারফত গড়ে তোলা হয়েছিল ‘অ্যাকশন প্ল্যান’। এমনকি সরকারি পক্ষের আইনজীবী সওরীন ঘোষালের দাবি, ‘কলকাতায় আমেরিকান সেন্টারে হামলার সময় আফতাব আনসারি উপস্থিত ছিলেন না। তিনিও বিদেশে বসে ষড়যন্ত্র করেছিলেন। হিন্দোলের ঘটনাতেও মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে।’ তৃণমূলের এক শীর্ষ নেতা আদালতের বাইরে অভিযুক্ত গবেষকের সাথে তুলনা টানেন ওসামা বিন লাদেনের সঙ্গে।

যদিও, হিন্দোলের আইনজীবী গোপাল হালদারের যুক্তি, ‘ঘটনার সময় আমার মক্কেল সশরীরে দেশে ছিলেন না। স্পেনে গবেষণার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা ও সামাজিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নেওয়া উচিত। এই মামলায় কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ নেই। পুলিশের তদন্তেও কোনো অগ্রগতি নেই।’ সওয়াল-জবাব শুনে আদালতের পর্যবেক্ষণ, হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট যদি অভিযোগের মূল ভিত্তি হয়, তাহলে কেন তথ্য প্রযুক্তি আইনে পৃথকভাবে মামলা করা হয়নি? তদন্তের গতি শ্লথ থাকায় এবং অভিযুক্তের বিদেশে বসবাসের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে জামিন মঞ্জুর করেন বিচারক। তবে শর্ত আরোপ করা হয়েছে যে, তদন্ত চলাকালীন হিন্দোল দেশের বাইরে যেতে পারবেন না এবং প্রয়োজনে তদন্তকারীদের সহযোগিতা করতে হবে। অন্যদিকে, প্রাক্তন ছাত্রের মুক্তির দাবিতে ইতিমধ্যেই পথে নেমেছেন যাদবপুরের পড়ুয়া, গবেষক, প্রাক্তনী এবং অধ্যাপকরা। বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে মিছিল হয়েছে একাধিকবার। হিন্দোলের সমর্থনে সোচ্চার হয়েছেন বহু প্রাক্তনী। তাঁদের বক্তব্য, ‘যিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না, যাঁর বিরুদ্ধে এখনো পর্যন্ত কেবল একটি চ্যাট-বার্তার ভিত্তিতেই অভিযোগ, তাঁকে এরকমভাবে গ্রেফতার করা যায়?’

উল্লেখ্য, গত ১ মার্চ, শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু তৃণমূলপন্থী অধ্যাপকদের সংগঠন ওয়েবকুপার বার্ষিক সভায় যোগ দিতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে বেরোনোর সময় পড়ুয়াদের বিক্ষোভের মুখে পড়েন। ‘অবিলম্বে ছাত্র সংসদন নির্বাচন’ করানোর দাবি ওঠে। শিক্ষামন্ত্রী ও তৃণমূল শিবিরের অভিযোগ, সেদিন পরিকল্পনামাফিক গাড়ি ঘিরে ফেলা হয়, ভাঙচুর চলে, ব্রাত্য বসু আহত হন। পাল্টা অভিযোগে বলা হয়, এক ছাত্রকে চাপা দিয়ে চলে যায় মন্ত্রীর কনভয়।এ ঘটনার পরে যাদবপুর থানায় দায়ের হওয়া এফআইআরে অনান্য অভিযুক্তদের সঙ্গে হিন্দোলের নামও যুক্ত করে পুলিশ। তারপর থেকেই তাঁকে খোঁজার তৎপরতা শুরু হয়। এদিন দেশের মাটিতে পা দিতেই গ্রেফতার হন তিনি। এখন জামিনে মুক্ত যাদবপুরের মেধাবী গবেষক, তবে তদন্তের গতিপথ ও চূড়ান্ত চার্জশিটে কী থাকে, সে দিকেই নজর সবার।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!