- এই মুহূর্তে ন | ন্দ | ন | চ | ত্ব | র
- নভেম্বর ২৮, ২০২৫
‘ধুরন্ধর’-এর মুক্তি নয়! দিল্লি হাইকোর্টে আর্জি শহিদ মেজর মোহিত শর্মার পরিবারের
ছবির ট্রেলার প্রকাশিত হবার পর থেকেই, প্রবল আলোচনার জোয়ারে ভাসছে ‘ধুরন্দর।’ সিনেমা প্রেমিদের গণ্ডি ছাপিয়ে সামাজিক স্তরের পৌঁছে গেছে রণবীর সিং অভিনীত এবং আদিত্য ধর পরিচালিত আসন্ন ছবিটির বার্তা। কেউ কেউ সাবাসি দিচ্ছেন তো কেউ আবার সমালোচনায় মুখর। এমন পরিস্থিতিতে ‘ধুরন্ধর’-এর মুক্তি ঠেকাতে পদক্ষেপ নিয়েছেন শহিদ মেজর মোহিত শর্মারের বাবা-মা। অশোক চক্র ও সেনা মেডেলপ্রাপ্ত সেনা অফিসারের পরিবার দিল্লি হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছেন এবং ছবিটির মুক্তি দ্রুত স্থগিত করার আবেদন জানিয়েছেন।
সূত্রের খবর, মেজর শর্মারের পরিবার পিটিশনে অভিযোগ করেছেন যে, ছবিটি ভারতীয় সেনাবাহিনী বা শহিদের বৈধ উত্তরাধিকারীদের অনুমতি ছাড়া মেজর মোহিত শর্মারের জীবন, গোপন অভিযান এবং আত্মত্যাগের ঘটনা চিত্রায়িত করেছে। পরিবার জানিয়েছে, যদিও মিডিয়া রিপোর্ট এবং অনলাইন আলোচনায় ছবিটি শহিদের জীবনের সঙ্গে যুক্ত মনে হচ্ছে, কিন্তু নির্মাতারা তা স্বীকার করছেন না। পরিবার বা সেনার সঙ্গেও কোনো পরামর্শও করেননি তাঁরা। পরিবারের যুক্তি, একজন শহিদের জীবন কোনো বাণিজ্যিক পণ্য নয়। তাঁরা বলেন, সত্যতা বজায় রেখে, সম্মান ও অনুমতি ছাড়া শুধুমাত্র লাভের উদ্দেশ্যে কোনও সৈনিকের জীবন ব্যবহার করা ঠিক নয়। আবেদনে আরও উল্লেখ আছে যে, এই অবৈধ চিত্রায়ন সংবিধানের ধারা ২১ অনুযায়ী শহিদের মরণোত্তর ব্যক্তিত্বের অধিকার লঙ্ঘন করছে এবং পরিবারের গোপনীয়তা ও মর্যাদাতেও আঘাত করছে।
এ ছবি মুক্তি পেলে দেশের নিরাপত্তার গোপনীয়তা ভঙ্গ হবে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মেজর মোহিত শর্মার পরিবার। তাঁদের অভিযোগ, ছবিতে প্রদর্শিত স্পর্শকাতর সামরিক কৌশল, অনুপ্রবেশ ও অপারেশনাল প্রক্রিয়ার জন্য নির্মাতারা ভারতীয় সেনার অনুমোদন নেননি এবং এডিজিপিআই-র মাধ্যমে স্ক্রিপ্ট যাচাইও হয়নি। মামলায় কেন্দ্র সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক, সিবিএফসি, এডিজিপিআই পরিচালক আদিত্য ধর এবং প্রযোজক জিও স্টুডিওর নাম যুক্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে, ‘ধুরন্ধর’ ট্রেলার প্রকাশের পর থেকেই জোর আলোচনায় এসেছে। ছবির রক্তারক্তি ও হিংসাত্মক দৃশ্য নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অনেক নেটিজেন মনে করছেন, রণবীর সিং-এর চরিত্র সম্ভবত শহিদ মেজর মোহিত শর্মার চরিত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত। মেজর মোহিত শর্মা ২০০০ সালের প্রথম দিকে পাকিস্তানে ‘ইফতিকার ভাট’ পরিচয়ে অনুপ্রবেশ করেছিলেন। তবে পরিচালক আদিত্য ধর স্পষ্টভাবে এ দাবি খণ্ডন করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘নির্ভীক মেজর মোহিত শর্মার জীবন থেকে আমাদের ছবি ‘ধুরন্ধর’ মোটেও উদ্বুদ্ধ নয়। ভবিষ্যতে যদি আমরা ওঁর জীবনের উপর বায়োপিক বানাই, তা পরিবার ও অনুমোদন নিয়ে করব, যাতে তাঁর ত্যাগ ও সাহসিকতা যথাযথ সম্মান পায়।’
যদিও ছবির ট্রেলারে প্রদর্শিত আন্ডারকভার মিশন এবং চরিত্রগুলোর বাস্তব ইতিহাসের মিল নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে নানা জল্পনা দেখা দিয়েছে। অনেকে মনে করছেন, আর. মাধবনের অজয় সান্যাল চরিত্র অজিত দোভালের সঙ্গে, অক্ষয় খন্নার রহমান ডাকাইট চরিত্র বাস্তব ডাকাইটের সঙ্গে, সঞ্জয় দত্তের এসপি চৌধুরী চরিত্রটি চৌধুরী আসলাম খানের সঙ্গে, এবং অর্জুন রামপালের মেজর ইকবাল চরিত্রকে ইলিয়াস কাশ্মীরি থেকে অনুপ্রাণিত। মেজর মোহিত শর্মার ভাই মধুর শর্মা সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশ্ন তোলেন, ছবিটি কি সত্যিই তাঁর ভাই মোহিত শর্মার জীবনের উপর ভিত্তি করে তৈরি? এর উত্তরে আদিত্য ধর সেখানেও স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ‘ধুরন্ধর’ মোটেও মেজর মোহিত শর্মার জীবনের উপর ভিত্তি করে তৈরি নয়। পরবর্তীতে মোহিত শর্মা মেমোরিয়াল ট্রাস্টও তাঁর বক্তব্য রিটুইট করে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছে। এদিকে, আগামী ৫ ডিসেম্বর ‘ধুরন্ধর’-এর মুক্তি পাবার কথা, কিন্তু শহিদ মেজরের পরিবার আদালতের দ্বারস্থ হওয়ায় ছবিটির মুক্তি নিয়ে নতুন করে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। সামরিক ও চলচ্চিত্র মহলে ইতিমধ্যেই এটি উষ্ণ আলোচনার বিষয়।
উল্লেখ্য, শহিদ মেজর মোহিত শর্মার জন্ম ১৯৭৮ সালের ১৩ জানুয়ারি হরিয়ানার রোহতক জেলায়। ইঞ্জিনিয়ারিং ছেড়ে স্বপ্নপূরণের উদ্দেশ্যে এনডিএ-তে যোগ দেন। প্রশিক্ষণের সময় তিনি সাঁতার, বক্সিং এবং ঘোড়সওয়ারিতে দক্ষতা প্রদর্শন করেন। বন্ধুরা তাঁকে ডাকতেন ‘মাইক’ নামে। ২০০৮ সালে তিনি কাশ্মীরে যোগদান করেন এবং পাকিস্তানে গিয়ে একাধিক গোপন অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন করেন। ২০০৯ সালের ২১ মার্চ কুপওয়ারা সেক্টরে জঙ্গিদের সঙ্গে সংঘর্ষে তিনি শহিদ হন। মৃত্যুর আগে ৪ জঙ্গিকে তিনি নিরস্ত্র করেছিলেন। শহিদ হওয়ার পর তাঁকে দেশের সর্বোচ্চ শান্তিকালীন সম্মান ‘অশোক চক্র’-এ সম্মানিত করা হয়।
❤ Support Us








