- এই মুহূর্তে দে । শ
- জুন ৯, ২০২৬
উজ্জ্বলা যোজনায় কমলো ভর্তুকি, বাড়ছে গ্যাস-জ্বালানির আর্থিক চাপ
লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে পেট্রল, ডিজেল ও রান্নার গ্যাসের দাম। বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের মূল্যবৃদ্ধির পর এবার উজ্জ্বলা যোজনার গ্রাহকদের জন্যও এল বড় ধাক্কা। কেন্দ্রীয় সরকার ভর্তুকিযুক্ত এলপিজি সিলিন্ডারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতদিন বছরে ৯টি সিলিন্ডারে ভর্তুকি পাওয়া গেলেও, এখন থেকে উজ্জ্বলা যোজনার উপভোক্তারা বছরে মাত্র ৪টি সিলিন্ডারেই এই সুবিধা পাবেন।
কেন্দ্রীয় সরকারের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে প্রায় ৩৩.৩৭ কোটি এলপিজি গ্রাহক রয়েছেন। আন্তর্জাতিক বাজারদরের তুলনায় তাঁদের কাছে প্রায় ৭০০ টাকা কম দামে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করা হচ্ছে। একইভাবে সাধারণ মানুষের উপর অতিরিক্ত বোঝা না চাপাতে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি লোকসান সত্ত্বেও পেট্রল ও ডিজেল সরবরাহ করছে।
পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব প্রবীণ এম খানুজার বক্তব্য, রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি প্রতি ১৪.২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারে গড়ে প্রায় ৭০০ টাকা ক্ষতির মুখে পড়ছে। পাশাপাশি প্রতি লিটার পেট্রলে প্রায় ৬ টাকা এবং ডিজেলে প্রায় ৩০ টাকা লোকসান হচ্ছে। এই বিপুল আর্থিক চাপ কমাতেই ভর্তুকির পরিমাণ সীমিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে দেশের প্রায় ১০.৫ কোটি দরিদ্র পরিবার উজ্জ্বলা যোজনার সুবিধা পায়। কোভিড-১৯ মহামারির সময় এই প্রকল্পের আওতায় বিনামূল্যে তিনটি গ্যাস সিলিন্ডার দেওয়া হয়েছিল। এরপর ২০২২ সালের মে মাস থেকে ১৪.২ কেজির সিলিন্ডারে ২০০ টাকা ভর্তুকি চালু করা হয়। ২০২৩ সালের অক্টোবরে সেই ভর্তুকির পরিমাণ বাড়িয়ে ৩০০ টাকা করা হয়। প্রথমে বছরে ১২টি সিলিন্ডারে এই সুবিধা মিলত। পরে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে তা কমিয়ে ৯টিতে আনা হয়। এবার সেই সংখ্যা আরও কমিয়ে বছরে মাত্র ৪টি সিলিন্ডারে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম ব্যাপকভাবে বেড়েছে। তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে ভারতের এলপিজি খাতে। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে উচ্চ মূল্যে গ্যাস কিনে তুলনামূলক কম দামে দেশের গ্রাহকদের কাছে বিক্রি করতে হওয়ায় সরকারের উপর আর্থিক চাপ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে গৃহস্থালী এলপিজি বিক্রির ক্ষেত্রে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলির অনাদায়ী ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা আগের অর্থবর্ষের তুলনায় অনেক বেশি। এই ক্রমবর্ধমান লোকসানের বোঝা সামাল দিতেই উজ্জ্বলা যোজনার আওতায় ভর্তুকিযুক্ত সিলিন্ডারের সংখ্যা ৯ থেকে কমিয়ে ৪ করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসের দাম যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তার তুলনায় দেশের সাধারণ মানুষ এখনও অনেক কম দামে রান্নার গ্যাস পাচ্ছেন। সরকারের বক্তব্য, বিশ্ববাজারে জ্বালানির মূল্য অস্থির থাকলেও সেই চাপের পুরোটা গ্রাহকদের উপর চাপানো হয়নি। বরং মূল্য নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে রান্নার গ্যাসকে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যেই রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কেন্দ্র।
❤ Support Us








