Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • আগস্ট ২০, ২০২৫

আহমেদাবাদের স্কুলে জুনিয়রের ছুরিকাঘাতে নিহত দশম শ্রেণির ছাত্র

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
আহমেদাবাদের স্কুলে জুনিয়রের ছুরিকাঘাতে নিহত দশম শ্রেণির ছাত্র

স্কুল ছুটি হয়েছে খানিক আগেই। ব্যাগ কাঁধে নিয়ে বাড়ির পথ ধরেছেন নয়ন, দশম শ্রেণির ছাত্র। স্কুল ভবন থেকে বেরোতেই তাঁকে ঘিরে ধরে কয়েক জন জুনিয়র। তর্কাতর্কি, ধাক্কাধাক্কি। আচমকাই বেরিয়ে আসে ছুরি। একাধিকবার ছুরির কোপ পড়ে পেটে। রক্তে ভেসে যায় ইউনিফর্ম। ঘটনাস্থল, আহমেদাবাদের খোকরার সেভেন্থ-ডে অ্যাডভেন্টিস্ট হাইয়ার সেকেন্ডারি স্কুল। মূল অভিযুক্ত, ওই স্কুলেরই অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্র। বছর চোদ্দোর কিশোর। পুলিশের দাবি, পুরনো ঝামেলা ঘিরেই ফের বচসা বাধে ২ ছাত্রের মধ্যে। তারপরেই ঘটে মর্মান্তিক ঘটনা।

ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, ছুরিকাঘাতের পর নয়ন রক্তাক্ত অবস্থায় স্কুলের ভিতরে ফিরে আসছেন। পেট চেপে ধরে কষ্টে হেঁটে যাচ্ছেন হাসপাতালের দিকে। তড়িঘড়ি তাঁকে ভর্তি করা হয় মানিনগরের এক বেসরকারি নার্সিংহোমে। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। রাতেই মৃত্যু হয় তাঁর। অপর দিকে, ছুরি চালিয়ে পালায় অভিযুক্ত। তবে বেশি দূর যেতে পারেনি। স্কুলের নিরাপত্তারক্ষী তাকে দেখতে পান পেছনের গেট দিয়ে পালানোর সময়। খবর যায় স্কুল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় থানায়। পরে অভিযুক্ত কিশোরকে আটক করে জুভেনাইল আইনের অধীনে গ্রেফতার করে পুলিশ। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রাথমিকভাবে ‘অ্যাটেম্পট টু মার্ডার’-এর ধারা যুক্ত করে মামলা রুজু হয়। ছাত্রের মৃত্যুর পর তা রূপান্তরিত হয়েছে খুনের মামলায়। জেরা করা হচ্ছে প্রত্যক্ষদর্শী ছাত্রদের। হাতে এসেছে সিসিটিভি ফুটেজও।

অন্যদিকে, ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্কুল চত্বর কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। বুধবার সকালে স্কুলের সামনে জড়ো হন শতাধিক অভিভাবক, স্থানীয় বাসিন্দা ও ছাত্র সংগঠন এবিভিপি-র সদস্যরা। তাঁদের ক্ষোভ, ‘’স্কুল প্রশাসনের গাফিলতি ছিল চরম। ছাত্রছাত্রীরা স্কুলে নিরাপদ নয়।’ প্রতিবাদ ধীরে ধীরে হিংসাত্মক রূপ নেয়। স্কুলের জানলা-দরজা ভাঙচুর করা হয়। কয়েক জন শিক্ষা-কর্মীকে লক্ষ্য করে চড়-ঘুষিও মারা হয় বলে অভিযোগ। ঘটনাস্থলে আসে বিশাল পুলিশ বাহিনী। মোতায়েন করা হয় নিরাপত্তা রক্ষী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করতে বাধ্য হয়।

ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন গুজরাটের শিক্ষা মন্ত্রী প্রফুলভাই পাঁসেরিয়া। নিগত ছাত্রের পরিবারের প্রতি শোকজ্ঞাপন করে তিনি বলেন, ‘এ ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। অপরাধীকে কোনোরকম ছাড় দেওয়া হবে না।’ পাশাপাশি কিশোরদের মধ্যে অপরাধপ্রবণতা বৃদ্ধির জন্য মন্ত্রী দায়ী করেন সোশ্যাল মিডিয়া ও সহিংস ভিডিও গেমকে। তিনি জানান, ‘’শিশুদের মধ্যে বেড়ে চলা অপরাধপ্রবণতা নিয়ে রাজ্য সরকার একটি সমীক্ষা চালাবে।’ ছেলের মৃত্যুর খবরে ভেঙে পড়েছেন নয়নের মা। চোখে জল, কাঁপা কণ্ঠে বলেন, ‘কত স্বপ্ন ছিল ওকে নিয়ে। ভালো ছাত্র ছিল। আমার ছেলেকে ওরা মেরে ফেলল… আমি বিচার চাই।’


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!